দলীয় পরিচয় নয়, অপরাধে জড়ালেই গ্রেপ্তার: পুলিশকে আইজিপি

দলীয় পরিচয় বিবেচনা না করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ আইজিপির
পুলিশ সদর দপ্তরের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

চাঁদাবাজি, দখল, মাদক ও কিশোর গ্যাং দমনে বিশেষ অভিযান জোরদারের নির্দেশ; জমি-সংক্রান্ত অপরাধে ২০২৩ সালের ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন প্রয়োগে গুরুত্ব

ফাতেহ২৪ ডেস্ক

দলীয় পরিচয়, পদ বা প্রভাব বিবেচনা না করে অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। চাঁদাবাজি, দখল, মাদক, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান আরও জোরদারের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে পুলিশ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত আগস্ট ২০২৬-এর মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের এসব নির্দেশ দেওয়া হয়। সভায় আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির, অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মো. সায়েদুর রহমানসহ মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি ও জেলার পুলিশ সুপাররা যুক্ত ছিলেন।

আইজিপি বলেন, মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের কঠোরভাবে আইনের আওতায় আনতে হবে। এ ক্ষেত্রে দলীয় পরিচয় বিবেচনার সুযোগ নেই—অপরাধীর একমাত্র পরিচয় সে অপরাধী। একই সঙ্গে কিশোর অপরাধীদের বিরুদ্ধেও যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

অপরাধে জড়ালেই ব্যবস্থা

সভা-সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের দ্রুত পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে দলীয় পরিচয় বা প্রভাবের কারণে যেন অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিলম্ব না হয়, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় হামলা, ভাঙচুর, দখলচেষ্টা ও অন্যান্য অপরাধের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অপরাধ দমনে মাঠপর্যায়ে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুর, ইসিবি এলাকার নিউগ্রিনি প্রপার্টিজে হামলা এবং রাজধানীর আরও কয়েকটি স্থানে দখলচেষ্টার ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনা হয়েছে।

জমি-সংক্রান্ত অপরাধে আইন প্রয়োগ

জমি নিয়ে বিরোধ ও দখল-পাল্টা দখলকে কেন্দ্র করে সংঘাত ঠেকাতে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩ প্রয়োগের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের প্রচলিত এই আইনটি ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩ সালে প্রণীত হয়। আইনে ভূমি-সংক্রান্ত প্রতারণা, জালিয়াতি ও অবৈধ দখলসহ বিভিন্ন অপরাধের বিষয়ে বিধান রয়েছে। আইনটির অধীন অপরাধগুলো আমলযোগ্য (cognizable) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

আইনের ৭ ধারায় বৈধ মালিকানা বা আইনগত অধিকার ছাড়া অন্যের ভূমি দখলে রাখার বিষয়ে বিধান রয়েছে। অবৈধভাবে দখলচ্যুত ব্যক্তির দখল পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থাও আইনে রাখা হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, জমি নিয়ে বিরোধের ক্ষেত্রে সংঘাত তৈরি হওয়ার আগেই সংশ্লিষ্ট আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

কিউআরটির পরিসর বাড়ানো হচ্ছে

অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি)-এর কার্যক্রমও সম্প্রসারণ করা হয়েছে বলে সভা-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

রেঞ্জ পর্যায়ে এসব টিমকে আরও সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কোথাও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হলে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে দ্রুত অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি রাখার কথা বলা হয়েছে।

এদিকে অপরাধ দমনে দেশব্যাপী চলমান বিশেষ অভিযান আরও জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আওতায় অস্ত্র উদ্ধার, মাদক কারবারি, চাঁদাবাজ ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

কিশোর গ্যাংয়ের পেছনে কারা, খুঁজে বের করার নির্দেশ

সভায় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের পাশাপাশি তাদের পেছনে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খুঁজে বের করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মো. সায়েদুর রহমান কিশোর গ্যাং সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ এবং তাদের পেছনে থাকা প্রভাবশালীদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনের সময় পুলিশ সদস্যদের যথাযথভাবে বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়।

মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’

সভায় মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথাও পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

আইজিপি মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। অপরাধ দমনে কমিউনিটি পুলিশিংকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় বিশেষ নির্দেশনা

আসন্ন দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে উদ্‌যাপনের জন্য মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার ছড়ানোর আশঙ্কা বিবেচনায় রেখে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রতিটি ইউনিটকে নিজ নিজ নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রস্তুত করার কথাও বলা হয়েছে।

আগের সংবাদহামলা-ভাঙচুর ও দখলের অভিযোগে উদ্বেগ, কঠোর ব্যবস্থার আশ্বাস সরকারের