নাগরিক সাংবাদিকতার উত্থান

আবদুল্লাহ আল মাসুদ 

নাগরিক সাংবাদিকতা যে অপরাধীদের কতোটা বেকায়দায় ফেলছে তা তো এই ক’দিনে খুব দেখলাম। জাতীয় ধারার সংবাদ মাধ্যমগুলো যখন সাধারণ মানুষের কাছে অনির্ভরযোগ্য ও আস্থাহীন হয়ে পড়ে তখন স্বাভাবিকভাবেই নাগরিক সাংবাদিকতাই হয়ে উঠে বাস্তব অবস্থা জানার সবচে কার্যকরী মাধ্যম। আপনি দেখবেন, মানুষ স্যাটেলাইট চ্যানেল বা সংবাদপত্রে আন্দোলন-সংগ্রামের বাস্তব অবস্থা খোঁজার চেয়ে ফেসবুকে আপলোড করা ভিডিও-স্ট্যাটাস বা লাইভগুলোতেই চোখ রাখে বেশি। যদিও মানবিক প্রবণতা-দোষে কখনো কখনো নাগরিক সাংবাদিকতাতেও একটু আধটু গুজব অনুপ্রবেশ করে ফেলে তবে সেটা জাতীয় পর্যায়ের সংবাদ মাধ্যমগুলোর ছড়ানো গুজবের তুলনায় নিতান্তই কম।

দশজন মরলে একজন বলা, পাঁচজন মরলে কেউ মরে নাই বলা, পঞ্চাশজন আহত হলে পনেরজন বলা, দৃশ্যপটের একপাশ লুকোছাপা করে অন্যপাশ প্রদর্শন করা এসবই গুজবের আওতায় পড়ে। অর্থাৎ এগুলোও অবাস্তবকে বাস্তব বলে প্রচারণার দায়ে অভিযুক্ত। সে হিসেবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ব্যবহার করে গড়ে উঠা নাগরিক সাংবাদিকতা বহুগুণে ভালো।

রাস্তায় যখন হামলা হচ্ছে, তখন তো সবাই থাকে দৌড়ের উপর। কে যাবে ভিডিও-ধারণ করতে? সেক্ষেত্রে দেখেছি আশপাশের বাসা-বাড়ির জানালা বা বারান্দা থেকে অনেকে তা ধারণ করে ফেলেছেন। আবার অনেক সময় রাস্তায় এসব নিপীড়ন-চিত্র ধারণ করতে গেলে হেনস্তার শিকার হতে হয়। ক্যামেরা-মোবাইল ভেঙ্গে ফেলা, মারধোর করার মতো ঘটনা তো মামুলি ব্যাপার এক্ষেত্রে। ফলে বাসা-বাড়ির নিরাপদ স্থান থেকে তা ধারণ করা অনেক বেশি নিরাপদ ও সহজ। অনেকেই এমনটা করেছেন দেখেছি।

‘গুজব-গুজব’ শ্লোগানকে গুজব প্রমাণিত করতে তাই নাগরিক সাংবাদিকতার কোন বিকল্প দেখি না।

আগের সংবাদগাজা সীমান্তে ইসরায়েলের বিমান হামলায় নিহত ৩
পরবর্তি সংবাদকাক সমাচার