কোরবানীর কালেকশনের সুখ-দুঃখ

কাজী মাহবুবুর রহমান ঃ 

কওমী মাদ্রাসা বাংলাদেশের একটি সম্পূর্ণ বেসরকারী শিক্ষাব্যবস্থা। এবং বাংলাদেশের একটি বৃহৎ নিম্নবিত্ত শ্রেণীর শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করে সাফল্যের সঙ্গে প্রতিনিয়ত এগিয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও ছাত্রদের বড় একটা অংশের খাদ্য, বাসস্থানের ব্যবস্থাও মাদ্রাসা সম্পূর্ণ বিনামুল্যে করে থাকে।

এর পেছনে কোন সরকারী ফান্ড নেই। সম্পূর্ণ অর্থের যোগান আসে ছাত্রদের প্রদেয় ও এলাকার সাধারণ মানুষের অনুদানে। সর্বপেশার মানুষ এই দানের সঙ্গে জড়িত। অনুদান গ্রহনের দুইটি বড় মৌসুম হল রমজান মাসে জাকাত কালেকশন ও কুরবানীর ঈদের পশুর চামড়া কালেকশন। এই দুটির মধ্যে একটা বড় অংশ হচ্ছে কুরবানীর ঈদচলাকালীন পশুর চামড়া কালেকশন। এটি মাদ্রাসার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

এসময় ছাত্রদের মাঝেও দেখা যায় এক ভিন্ন আমেজ। ছাত্ররা কুরবানীর  ঈদটি বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে উদযাপন না করে মাদ্রাসার স্বার্থ রক্ষার্থে মাদ্রাসায় থেকে যান। এবং কুরবানীর কিছুদিন আগে থেকেই পড়াশুনার পাশাপাশি মাদ্রাসার এই কল্যাণের কাজটির পেছনে সময় ও পরিশ্রম দেন। দাতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এলাকায় আগত পশুর খোঁজখবর করেন। এবং মালিকদের সঙ্গে কথা বলেন। সবশেষে ঈদের দিনটিতে তারা মুল কাজে নেমে পড়েন।

এলাকাবাসী সবাইকে তাদের পশু জবেহ করে দিয়ে আসেন। এবং তাদের থেকে পশুর চামড়া মাদ্রাসার জন্য নিয়ে আসেন। মাদ্রাসায় পড়ার সুবাদে এই কাজে আল্লাহ তায়ালা অংশগ্রহনের তৌফিক দিয়েছেন। প্রথম দিকে বাধ্য হয়ে খারাপ লাগত। সবাই ঈদে বাড়ি চলে যাচ্ছে। আত্মীয়স্বজন এবং পরিবারের লোকদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করছে। আমাদের কেবল থেকে যেতে হচ্ছে। ক্রমশ বুঝ হবার সঙ্গে সঙ্গে এই ভাবনা দূর হয়ে গেছে।

মাদ্রাসায় কাজ ঘিরেই একটি অন্যরকম আনন্দের বলয় তৈরী হয়। এই কাজের সঙ্গে জড়িয়ে থাকতে পারলে নিজেকে ভাগ্যবান মনে হয়।আমার এই পরিশ্রম দ্বীনের জন্য ব্যয় হচ্ছে। আমারই পাশে বসা আমার আর্থিক অস্বচ্ছল ভাইটির জন্য নির্বিঘ্নে পড়াশুনা চালিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা হচ্ছে। নিঃসন্দেহে এটি গর্বের কাজ। কওমী মাদ্রাসা এক দ্বীনি মহান তাগিদে ইহলৌকিক কোন লাভের আশা বাদে আলমে তৈরি করার এক মহান দায়িত্ব কাধে তুলে নিয়েছে ; সর্বরকমের সাহায্য করে এর পাশে থাকা আমাদের সকল ধর্মপ্রাণ মুসলিমের জন্য অন্যতম প্রধান এবং নৈতিক দায়িত্ব।

আগের সংবাদমিয়ানমার নিরাপত্তাবাহিনীর ওপর মার্কিন অবরোধ বাড়লো
পরবর্তি সংবাদঈদে নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে: র‍্যাব মহাপরিচালক