
ফাতেহ ডেস্ক: জেরুজালেমের ওপর বিভিন্ন ক্ষমতার করায়ত্ত এবং অত্যাচারের পেছনে বিবিধ রাজনৈতিক কারণের অন্যতম হলো, এখানে পৃথিবীর প্রাচীনতম ইবাদাত গৃহসমূহ স্থাপিত। এবং দুটি প্রধানতম ধর্মীয়গোষ্ঠীর অন্যতম ঐতিহাসিক স্থান।
অপশক্তির নানা কুদৃষ্টিতে বিভিন্ন সময়ে এ স্থানের বাসিন্দা ও ধর্মপ্রাণ মানুষ অত্যাচারিত হয়ে আসছে; ইতিহাস তার সাক্ষী।
হজরত মরিয়ম (র.) তিনি পৃথিবীর প্রাচীনতম ইবাদত গৃহ বায়তুল মুকাদ্দাস বা মসজিদে আকসার সহিত সুনিবিড়ভাবে জড়িত ছিলেন। ইসরা বা মেরাজ, যা নবী করিম (সা.)-এর রাত্রিকালীন যাত্রা হিসেবে পরিচিত। যে যাত্রায় তিনি মহান আল্লাহর সাক্ষাৎ পান।
সে সাক্ষাতের জন্য তিনি রওনা হন যে স্থান থেকে তা জেরুজালেমে অবস্থিত, মসজিদ এ আল আকসা। সুতারং উক্ত মসজিদে আকসার সৃষ্টির ইতিহাস জানলে জানা যাবে জেরুজালেমের রাজনৈতিক অস্থিরতার ইতিহাস।
নবী দাউদ (আ.) তখন জীবিত ছিলেন তিনি আল্লাহর নবী ও বাদশা ছিলেন। ৩০ বছর বয়সে তার নবুয়াতপ্রাপ্তির পর ৭০ বছর বয়স পর্যন্ত তিনি আল্লাহর ধর্ম প্রচারে নিমগ্ন ছিলেন এবং শাসনকার্য পরিচালনা করেছেন।
জীবন সায়াহ্নে উপস্থিত হয়ে তিনি রাজ্যের প্রধান ব্যক্তিদের বললেন, আমার জীবনের একটি প্রধান বাসনা ছিল, আমি আল্লাহ তায়ালার ইবাদতের জন্য একখানা পবিত্র গৃহনির্মাণ করব এবং এর জন্য আমি প্রয়োজনীয় স্বর্ণ, রুপা, তামা, পিতল, লোহা , কাঠ, পাথর ইত্যাদি সংগ্রহ করে রেখেছি।
তারপর তিনি পুত্র সোলাইমানকে (রা.) এই পবিত্র গৃহনির্মাণ-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় পরামর্শ দান করলেন এবং এই কার্যের গুরুত্বের বিষয় অবহিত করলেন। তিনি হজরত সোলায়মানকে বারবার বললেন- স্মরণ রেখো, এটা বাসগৃহ নয়; এটা আল্লাহ তায়ালার ইবাদাত গৃহ।
২৭ একর জমির ওপর অবস্থিত মসজিদ এ আকসা। পাঁচটি ভিন্ন ভিন্ন মসজিদের সমন্বয়ে গঠিত পুরো কম্পাউন্ডটি। মসজিদ এ কিবলি, মসজিদে মারোয়ানি, মাসজিদুল করিম, মাসজিদুল বোরাক, তুব্বাতুর সাকরাম এই পাঁচটি মসজিদের সমন্বয়ে এই পুরো কম্পাউন্ড।
আরজুল মাসার ওয়া মনসার…. অর্থাৎ এটা জামাত হওয়া ও প্রস্থান করার স্থান হিসেবে উল্লেখ করেন হজরত মুহাম্মদ (সা.) । নবী করিম (সা.)-এর আগমনের পর হুজুরের বাহন বোরাক যেখানে দাঁড়ায়; সেখানে যে মসজিদ স্থাপন করা হয় তার নাম বোরাক। যে স্থান থেকে মিরাজ সংঘটিত হয় সেই স্থানকে বলে মেহরাব উব্বাতুন নবী।
