আমীরে হেফাজতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীরা থামুন, নয়তো থামানো হবে : মুফতী ফয়জুল্লাহ

ওমর ফারুক

হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব, আল-হাইআতুল উলইয়া লিল জামি’আতিল কওমিয়ার অন্যতম সদস্য, বেফাকের সহসভাপতি, লালবাগ জামেয়ার মুহাদ্দিস এবং ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতী ফয়জুল্লাহ বলেছেন, শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী দা.বা. এর আকশচুম্বি জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে কুচক্রী,বিকারগ্রস্থ মানুষগুলো মিথ্যা, বানোয়াট ও কাল্পনিক তথ্য উপস্থাপন করে আল্লামা শাহ আহমদ শফী দা.বা. কে হেয়প্রতিপন্ন করতে অভিন্ন প্রতারণামূলক কৌশল নিয়েছেন। আমি এ ধরনের মিথ্যা, বানোয়াট ও অসৎ উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত, ভিত্তিহীন অভিযোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

ফাতেহ২৪ এর সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। পাঠকের সামনে পূর্ণ সাক্ষাৎকার তুলে ধরা হল।

হেফাজত ও আমীরে হেফাজতের বিষয়ে নানা রকম সন্দেহ সৃষ্টি করে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে কিছু মানুষ, এসব বিষয়ে আপনি কী বলবেন ?

কোনো তথ্য-প্রমাণ ছাড়া বহুপাক্ষিক চক্র হেফাজত ও আমীরে হেফাজত মহাজাগরনের প্রতিক, ঐক্য ও একতার মিনার, শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী দা.বা. এর ব্যাপারে শুধু সন্দেহ প্রকাশ করে এবং তা ব্যাপকভাবে প্রচার করে আলেম উলামা, মাদ্রাসার ছাত্র ও সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার কৌশল নিয়েছে। এতে আমি বিস্মিত কিংবা উদ্বিগ্ন নই। ওরাতো অনভিপ্রেত এই অপকর্মটি নতুন করে করছে না, বরং তারা সবসময় এই অপকর্মটি করে থাকে। এটা তারা তাদের ঐতিহ্য মনে করে।

বহুপাক্ষিক চক্র বলতে আপনি কি বুঝাতে চান ?

কওমী মাদ্রাসা সমূহের দাওরায়ে হাদিস (তাকমীল) এর সনদকে মাস্টার্স ডিগ্রি (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি) এর সমমান প্রদান এর বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নিয়েছে অনেকগুলোপক্ষ। ওদের ফেসবুক প্রোফাইল ঘেঁটে দেখুন পরিচয় পেয়ে যাবেন-ওরা কারা? দেখুন-

ক) যারা অতীতে কওমী মাদ্রাসা সমূহের দাওরায়ে হাদিস (তাকমীল) এর সনদকে মাস্টার্স ডিগ্রি (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি) এর সমমান দেয়ার বিরোধী ছিল, অথচ এখন তা আইনে পরিণত হয়েছে। এ কারণে তারা অসহ্য যন্ত্রণায় ছটফট করছে।

খ) নাস্তিক মুরতাদ ও কুরআন-সুন্নাহের শিক্ষা বিরোধী দেশীয়-আন্তর্জাতিক আল্লাহদ্রোহী অপশক্তি। ওদের মনের কষ্ট সীমাহীন ।

গ) মাজারপুজারী, ওদের পত্রিকা ও আলিয়া মাদ্রাসার শোলএজেন্ট সেজে বসে থাকা চিহ্নিত গোষ্ঠী।

ঘ) কিছু রাজনৈতিকদল। রাজনৈতিক মতভিন্নতার কারণে তারা সমালোচনায় মেতে উঠেছে। ওরা নিজেরা সনদের সমমান দেয় নি বা দিতে পারে নি। ওদের মনে ব্যর্থতা ও ক্ষোভের গ্লানি। যারা দিতে পেরেছে তারা ভাগ্যবান। কৃতিত্ব তারা নিয়ে নিলো, ফলে তারা এখন জনসমর্থন মোড় নেয়ার ভয় করছে। আবার কেও আছে নিজেদের অবস্থানের অনিশ্চয়তায়। এমনি আরো কিছু কারণ থাকতে পারে।

ঙ) আপাদমস্তক হেফাজত ও আলেম উলামা বিরোধী পার্টি ও মানুষ। ওরা বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করে। ওরা বিরোধিতাকে অভ্যাসে পরিণত করেছে। ওদের অবস্থা এমন, হেফাজত যদি দিনকে দিন বলে ওরা বলবে তা কি করে হয় এখনতো মধ্যরাত। বিশেষ করে আমি বললেতো কথাই নেই। ছিদ্রান্বেষণ করতে থাকবে। ফেসবুকে ঝড় তুলবে।

আমার মনে হয়, এই পক্ষগুলোসহ আরও কিছু নীরিহ আলেম, ছাত্র ও বুজুর্গ মানুষ সম্ভবত এদেরই প্ররোচনায় প্ররোচিত হয়ে বিভ্রান্তি ও সন্দেহমূলক কথা বলছেন। প্রশ্ন হচ্ছে, যারা বিরোধিতা করছেন তাঁদের মাদ্রাসার ছেলেদেরকে কি তারা হাইআর পরিক্ষা দেয়া থেকে বিরত রাখবেন অথবা যেসব ছেলেরা বিরোধিতা করছে তারা কি পরীক্ষা দেয়া থেকে বিরত থাকবে? কতটা আত্মমর্যাদাহীন ও নির্লজ্জ, যারা পুরো জাতির মুরুব্বী শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী দা.বা. সহ দেশের শীর্ষ আলেমদের বিরুদ্ধে চেঁচামেচি করছে? কওমি মাদরাসার ছাত্ররা যেহেতু ঈমানদার, আত্মমর্যাদাশীল ও দেশত্মবোধে উদ্বুদ্ধ, তাই তারা সচেতন হবে, নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে এগিয়ে যাবে এটা আমার প্রত্যাশা।

অনেকে তো অভিযোগ করছে, তাদের উদ্দেশ্যে কি বলবেন ?

আমি দ্ব্যর্থহীনভাবে বলছি, পরম করুণাময় আল্লাহর অশেষ রহমত ও সর্বজন গ্রহণযোগ্য ও অভূতপূর্ব নেতৃত্বের অধিকারী, আমীরে হেফাজত শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী দা.বা. এর চেষ্টা ছাড়া কওমী মাদ্রাসা সমূহের দাওরায়ে হাদিস (তাকমীল) এর সনদ মাস্টার্স ডিগ্রি (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি) এর সমমান পাওয়া যেতো না। এটা শায়খুল ইসলাম আল্লামা শফী দা.বা. এর জীবনের অন্যতম প্রধান কৃতিত্ব। দেশ, আলেম উলামা ও তালাবাদের জন্য এটা তাঁর অসামান্য অবদান। তাঁর অবিচলতা,সংকল্প, দৃঢ়তা, এমনকি হাসপাতালের বেডে শুয়েও সনদের বিষয়ে ফিকির ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেগপূর্ণ চিঠি, সার্বক্ষনিক চেষ্টা প্রচেষ্টা এবং মহান আল্লাহর শাহী দরবারে ফরিয়াদের মাধ্যমে অর্জিত এই বিশাল অবদানের শুকরিয়া কি তিনি পেতে পারেন না? এটা তো কোরআন ও সুন্নাহর শিক্ষা নয়। অত্যান্ত বেদনার সাথে দেখছি আজ এই মহান আল্লাহর অলি জুলমের শিকার। আমি জালিম, ষড়যন্ত্রকারীদের বলবো, আপনারা থামুন, নয়তো থামানো হবে।

হজরতের এই সাফল্যে আমি আন্তরিকভাবে আনন্দিত ও গর্বিত।আমি অভিযোগকারীদের উদ্দেশে বলছি, আপনাদের হাতে যদি কোনো তথ্য-প্রমাণ থাকে তাহলে সেই প্রমাণ জাতির সামনে প্রকাশ করুন। নইলে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এবং আমীরে হেফাজতের বিশাল অর্জন স্রেফ সন্দেহের বশে প্রশ্নবিদ্ধ করার কোনো অধিকার কারও নেই। কিছু অর্জন করার পর অন্তত খুশি হওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিৎ। ভারসাম্যপূর্ণ চিন্তা ও মানসিকতা আবশ্যক।

সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

আপনাদেরকেও ধন্যবাদ।