আমরা আ.লীগ সরকারের বিরোধী যেকোনো জোটের পক্ষে রয়েছি: আব্দুর রব ইউসুফী

ওমর ফারুক

সম্প্রতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নাগরিক সমাবেশে যোগ দিয়েছিল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের একাংশ। আমন্ত্রণ পেয়েই দলটির সহসভাপতি মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী ও মহাসচিব মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমী এ সমাবেশে যোগ দেন। তবে পরবর্তীতে এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে নাগরিক প্রক্রিয়ার শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন জমিয়তের সেখানে যোগদান তার অজ্ঞাতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেন। এ নিয়ে ইসলামি অঙ্গনে চলছে নানা তর্ক বিতর্ক। তবে এ বিষয়ে জমিয়তের ব্যাখ্যা কী, কেউ কেউ ব্যক্তিগতভাবে এ প্রশ্নের জবাব দিলেও এখনো পর্যন্ত দলটির শীর্ষ পর্যায়ের কোনো নেতাকে মুখ খুলতে দেখা যায়নি। ফাতেহ২৪ এর পক্ষ থেকে দলটির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন দলটির সহসভাপতি মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী।

মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী বলেন, ঐক্য প্রক্রিয়ার পক্ষ থেকে মহানগর নাট্যমঞ্চে যে নাগরিক সমাবেশ করা হয়েছে, সে সমাবেশে আমরা আমন্ত্রিত হয়েই যোগদান করেছি এবং আমরা যেসকল ইস্যুতে আন্দোলন করছি, তারাও সেসকল ইস্যুতে আন্দোলন করছেন। তাদের এ আন্দোলনকে বেগবান করা ও শক্তি যোগানোর জন্যই আমরা সেখানে গিয়েছি। আমরা এ আন্দোলনকে সমর্থনও করেছি।

কিন্তু ড. কামাল হোসেনের বক্তব্যে তো মনে হয়েছে তারা ইসলামি দল হিসেবে আপনাদের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখতে চাচ্ছে, এ বিষয়ে কী বলবেন? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, তারা আমাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, সেই চিঠিও আমাদের কাছে রয়েছে। আমরা তো আমন্ত্রণ পেয়েই সেখানে গিয়েছি। তারপর কে কী বলল না বলল, এটা আমাদের শুনার কোনো প্রয়োজন নেই।

ড. কামালের এ বক্তব্যের পরেও কি আপানারা এ ঐক্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে যাবেন? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমরা আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে যেকোনো জোটের পক্ষে রয়েছি। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, ইভিএম ব্যবহার না করা, নির্বাচনে সেনাবাহিনী নিয়োগ দেওয়া, এসকল ইস্যুতে যারাই আন্দোলন করবে আমরা তাদের সঙ্গে রয়েছি। হয়তো প্রত্যক্ষ, নয়তো পরোক্ষভাবে, তাদের সঙ্গে রয়েছি। আমাদের লক্ষ্য আওয়ামী সরকারকে হটানো।

আপনারা আ.লীগ সরকারকে কেন হটাতে চাচ্ছেন? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আওয়ামী সরকার এ দেশে একটা জুলুম নির্যাতনের সরকারে পরিণত হয়েছ। খুন, গুম, মামলা ও গ্রেফতারের রাজনীতি করছে আওয়ামীলীগ। লুটপাট চালাচ্ছে। শেয়ার মার্কেটে লুটপাট করেছে। সংবিধান থেকে আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস পরিবর্তন করেছে। ইসলামবিরোধী শিক্ষানীতি করেছে। তারা দেশের প্রতিনিধিত্ব করার অধিকার রাখে না।

আপনারা যাদের সঙ্গে জোটে যাচ্ছেন বা রয়েছেন তারা ক্ষমতায় এলে এ ধরণের কিছু করবে না, এতে কি আপনারা নিশ্চিত? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আগে যারা ক্ষমতায় রয়েছে তাদের পরিবর্তন হোক। আর যারা যাবে, তাদের ব্যাপারে কী করা হবে এটা আমরা পরবর্তীতে দেখবো। তবে পরিবর্তনশীল সরকার, এসব তুলনামূলক কম করবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।

অনেকে বলে থাকেন সকল ইসলামি রাজনীতি দলগুলো মিলে স্বতন্ত্রভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার একটা চেষ্টা চালাতে পারে। এ বিষয়ে কী বলবেন? তিনি বলেন, এ দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসলামি দলগুলো আলাদা কোনো প্যানেল দিয়ে ক্ষমতায় যেতে পারবে না। ইসলামি দলগুলো এক হয়ে নির্বাচনে গেলে তারা অনেক কিছুই করতে পারতো,এটি মুখরোচক কথা।। এটার কোনো বাস্তবতা নেই। ইসলাম দলগুলো সাংগঠনিক শক্তি এখন পর্যন্ত এমন জায়গায় নিয়ে যেতে পারে নাই যে, আমরা আলাদা প্যানেল দিলে সরকার গঠনের মতো অবস্থায় যেতে পারবো। অবশ্যই আমাদের ইসলামি রাজনীতি অনেক দূর এগিয়ে গেছে। তবে এটাই যথেষ্ট নয়।