বাড়ছে চাপ: কওমি মাদরাসা কীভাবে স্বকীয়তা রক্ষা করবে?

ওমর ফারুক

কওমি মাদরাসা সরকারি স্বীকৃতি পেলেও এর ফলাফল ও পরিণতি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন অনেকেই। প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে কেউ কেউ এর সমালোচনাও করছেন। যদিও দেশের অধিকাংশ আলেম এ স্বীকৃতির পক্ষে। দেশের ছয়টি আঞ্চলিক বোর্ডেরও এতে সমর্থন আছে। ফলে অনেকেই এই স্বীকৃতিকে একটি বড় অর্জন হিসেবেই দেখছেন।

স্বীকৃতি অনেক আগে দেওয়ার কথা থাকলেও স্বকীয়তা হারানোর ভয়ে আলেমদের অনেকে স্বীকৃতি নিতে রাজি ছিলেন না। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আলেমদের সব দাবী মেনেই স্বীকৃতি প্রদান করে আওয়ামী লীগ সরকার। তবে একটি শ্রেণী এ সুযোগে ইতোমধ্যেই কওমি মাদরাসাগুলোর ওপর চাপ প্রয়োগে ব্যস্ত হয়ে উঠেছে। নানা রীতি, বাদ্যসহ জাতীয় সঙ্গীত ও পতাকা উত্তোলন নিয়ে কথা হচ্ছে চারপাশে। স্বীকৃতি নিয়ে তারা নোংরা রাজনীতি করতে চাচ্ছে । এমন পরিস্থিতিতে করণীয় কী, এ বিষয়ে কথা হয় বিশিষ্ট আলেম, শিক্ষাবিদ ও লেখক মুহাম্মদ যাইনুল আবিদীনের সঙ্গে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন এনজিও ও বুদ্ধিজীবীসহ সরকারের অতি উৎসাহী একটা শ্রেণী কওমি মাদরাসার ওপর নানা রকম চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করবে । এটা আমাদের কাছে অস্পষ্ট কিছু নয়। বিষয়টি খুবই স্পষ্ট। এ জন্যে যারা কওমি মাদরাসার স্বীকৃতির জন্যে চেষ্টা করেছেন এবং স্বীকৃতি যাদের নেতৃত্বে এসেছে, এই সঙ্কট মোকাবিলার দায়টা তাদেরই। স্বকীয়তাসহ স্বীকৃতির দাবী সরকার মেনে নিয়েছে, এখানেই কিন্তু সব শেষ না। এটা মাত্র শুরু। এ জন্য এখন থেকেই নেতৃবৃন্দের এ বিষয়ে জোরালো ভূমিকা রাখা উচিত। স্বকীয়তা রক্ষায় তাদেরকেই অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।

মুহাম্মদ যাইনুল আবিদীন বলেন, স্বীকৃতির পর কওমি মাদরাসাগুলোর মূল বৈশিষ্ট্য ঠিক থাকবে নাকি হারিয়ে যাবে, কোনো দিক থেকে চাপ বা আপত্তি আসার আগেই আমাদের এসব বিষয়ে সচেতন হতে হবে। যদি আমাদের নেতৃত্ব সেটা না পারে, তাহলে তারা স্বীকৃতি আনার জন্য যেমন আলোচিত হয়ে থাকবেন, তেমনি এর দ্বারা আমাদের ঐতিহ্য বিনাশের দায়ও তারা এড়াতে পারবেন না।

কী ধরণের প্রস্তুতি নেওয়া উচিত বলে আপনি মনে করেন, এ প্রশ্নে তিনি বলেন, তাদের সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেই বোঝাপড়া করা উচিত যে এটা তো মাদরাসা। মাদরাসা-মসজিদ সম্পূর্ণ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। মসজিদ যেমন ধর্মীয় ইবাদত বন্দেগির জায়গা, তেমনি মাদরাসা ধর্মীয় শিক্ষা চর্চার জায়গা। মসজিদে তো আমরা জাতীয় সঙ্গীত গাই না। এবং সেখানে পতাকা উত্তোলনের প্রশ্নই তো আসে না। সঙ্গীত তো একরকমের গান। এটা আমাদের ধর্ম কতোটা সমর্থন করে? এবিষয়গুলো শুরুতেই আলোচনায় আনতে হবে। । না হয় ভবিষ্যতে শঙ্কা ও চাপ আরও বাড়তে থাকবে।