এক অর্থবছরেই বিআরটিসির লোকসান শতকোটি টাকা

ফাতেহ ডেস্ক

রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থা বিআরটিসি শুধু এক বছরেই শতকোটি টাকা লোকসান গুনেছে। গণপরিবহনে বিআরটিসির সেবা নিয়ে জনগণের ক্রমাগত অসন্তুষ্টি আর বাস রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনায় অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে এ লোকসান, বলছেন সংস্থাটির কর্মচারীরাও। নতুন করে বাস কেনার আগে বিআরটিসির দক্ষতা আর জবাবদিহিতা বাড়ানোর তাগিদ বিশ্লেষকদের।

বিআরটিসির হিসাব বলছে, গেল ২০ বছরে দেড় হাজার গাড়ি কেনা হলেও লোকসান কমছে না এই সংস্থায়। শুধু ২০১৬-১৭ অর্থবছরেই এই সংস্থার লোকসান হয়েছে ১০১ কোটি টাকারও বেশি। টানা লোকসানের কারণে মাসের পর মাস কর্মচারীদের বেতনও দিতে পারছে না বিআরটিসি।

প্রতিদিন সকালে অফিসগামী মানুষের ভোগান্তিই বলে দেয় রাজধানীর গণপরিবহন সংকটের কথা। সংকটের কাঙ্ক্ষিত সমাধান হতে পারতো বিআরটিসির বাস। কিন্তু, এই সরকারী পরিবহন সংস্থার সেবা নিয়ে জনমনে আছে অসন্তোষ।

শুধু তাই নয়, বিআরটিসির বাস রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষুব্ধ সংস্থাটির কর্মচারীরাও। নতুন বাস আনা হলেই সব সমস্যার সমাধান হবে বলছে বিআরটিসি। নতুন কেনা ৬০০টি বাস ভারত থেকে পর্যায়ক্রমে আসতে শুরু করেছে।

বিআরটিসির চেয়ারম্যান ফরিদ আহমদ ভূঁইয়া বলেন, ২০১৩ থেকে ১৯ সালে আমাদের নতুন কোন গাড়ি আসে নাই। ১৫ সাল থেকে আমার বহরে কোন নতুন গাড়ি আসে নাই, আমার বেতন ডাবল এখন নিজেরাই বিবেচনা করেন আমার যে ঘাটতি আছে সেগুলো কেনো আছে। আমাদের ভাড়াটা রেসোনাল করতে হবে আর গাড়িগুলো প্রপার মেইন্টেনেন্স করলে এটা রান করা সম্ভব হবে।

গণপরিবহন বিশ্লেষকরা বলছেন, অভ্যন্তরীণ দূর্বলতা তদন্ত আর দোষীদের শাস্তির ব্যবস্থা না করলে ঋণের টাকা এভাবে শুধু অপচয়ই হবে।

বুয়েটের অধ্যাপক শামসুল হক বলেন, মেইন্টেনেন্স অবজ্ঞা করবো, ডাম্প হবে আর নতুন চাহিদাপত্র আমরা পাঠাবো যে মানুষ ঝুলে ঝুলে যাচ্ছে নতুন বাস তৈরি করতে হবে এই কালচার থেকে রাষ্ট্রকে বের হয়ে আসতে হবে। এত বড় বিনিয়োগ করেও যাত্রীকে যদি মানসম্মত সেবা দিতে আমরা না পারি তাহলে এটা ভাবনার বিষয়।

রাষ্ট্রের অর্থ আর লোকসানে না ঢেলে বিআরটিসিকে ঢেলে সাজানোর তাগিদ বিশ্লেষকদের।

আগের সংবাদবাংলার মানুষ দিদির হাত থেকে মুক্তি চায় : মোদি
পরবর্তি সংবাদভারতে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ৭