ডাকসু নির্বাচনে ‘ইসলামোফোবিয়া’ কেন?

খান মুহাম্মদ মইন উদ্দিন 

দীর্ঘ প্রায় ২৮ বছর পর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের তোড়জোড় শুরু হয়েছে। ১৯৯০-৯১ সেশনে শেষবার ডাকসু নির্বাচন হয়েছিলো। আইনি জটিলতায় তারপর ডাকসু নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়। ইতিমধ্যে দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হলেও, ‘ডাকসু’ আর আলোর মুখ দেখেনি। ধীরে ধীরে দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ হয়ে যায়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সরকারি ও ক্ষমতাসীন দলের সাথে সংশ্লিষ্ট ছাত্র সংগঠন ও ক্যাডারদের একাধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়। সাধারণ শিক্ষার্থীদের অ্যাকাডেমিক দাবি-দাওয়া, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুস্থ রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক চর্চার পরিবেশ ব্যাহত হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রিয়াশীল প্রায় সমস্ত ছাত্রসংগঠনই ডাকসুর দাবিতে দীর্ঘদিন যাবত আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে আসছে। শেষ পর্যন্ত ক্ষমতাসীনরাও ডাকসু নির্বাচনের দাবিতে সাড়া দিয়েছে। গতবছর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ ডাকসু নির্বাচনের কথা বললে, ব্যাপারটি নতুন করে সামনে আসে। হাইকোর্টও ডাকসু নির্বাচনের ব্যাপারে রুল জারি ক’রে, ডাকসু নির্বাচনে আর কোন বাধা নেই মর্মে সিদ্ধান্ত দেয়। ফলে, ডাকসুর দাবিতে আন্দোলন আরো জোরালো হয়ে ওঠে। এরই প্রেক্ষিতে ঢাবির বর্তমান ভিসি আখতারুজ্জামান এ বছর মার্চ নাগাদ ডাকসু নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনার কথা বলেন।

ডাকসুর গঠনতন্ত্র সংশোধনী বৈঠক: ডাকা হয়নি ইসলামি ছাত্র সংগঠনগুলোকে

এই ধারাবাহিকতায়, গত ১০ জানুয়ারি, ডাকসুর গঠনতন্ত্র সংশোধন ও নির্বাচন নিয়ে মতবিনিময়ের জন্য একটি বৈঠকের আয়োজন করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে। ড. মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় পরিচালিত সেই সভায় উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর গঠনতন্ত্র সংশোধন বিষয়ক সুপারিশ কমিটির সদস্যরা। এই বৈঠকে, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রিয়াশীল’ ছাত্র সংগঠনগুলোকে মতবিনিময়ের জন্য ডাকা হয়েছে-মর্মে দাওয়াতনামায় উল্লেখ করা হয়। কিন্তু, বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রিয়াশীল থাকলেও, কোন ইসলামি সংগঠনকে এই বৈঠকে ডাকা হয় নাই।

নানা ঐতিহাসিক কারণেই, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামি ছাত্র সংগঠনগুলোর অবস্থান বেশ দুর্বল। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে, ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন বা ইশা ছাত্র আন্দোলনই প্রণিধানযোগ্য। ছাত্র শিবির যুদ্ধাপরাধসহ আরো নানা কারণেই ক্যাম্পাসে ক্রিয়াশীল না, অন্য কোন ইসলামি ছাত্র সংগঠনেরও এই ক্যাম্পাসে তেমন কোন দৃশ্যমান কার্যক্রম নাই। কিন্তু ইশার ব্যাপারটা ভিন্ন।

খুব বড় পরিসরে কোন কার্যক্রম না থাকলেও, বিশ্ববিদ্যালয়ে ইশা ছাত্র আন্দোলনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি এবং কিছু রুটিন কার্যক্রম আছে। যদিও, নানা কারণেই বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক ছাত্র সংগঠনগুলোর বিভিন্ন জোটে তাদের অংশিদারিত্ব নেই, কিন্তু তাদের স্বতন্ত্র উপস্থিতি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আছে। বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেআগে, ডাকসুর ব্যাপারে আলোচনা উঠলে, ইশা ছাত্র আন্দোলনের একটি প্রতিনিধি দল ঢাবি ভিসির সাথে শুভেচ্ছা সাক্ষাৎ করে মর্মেও একটি সংবাদ আমরা বিভিন্ন মিডিয়ায় দেখেছি। তথাপি, কেন ১০ তারিখের মিটিংয়ে তাদের ডাকা হল না, এই বিষয়টি চিন্তার দাবি রাখে।

ইসলামি দলগুলো কি ডাকসু নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে?

ডাকসু ও হল ইউনিয়নের বর্তমান কন্সটিটিউশন অনুযায়ী, ইসলামি দলগুলোর ডাকসু ও হল ইউনিয়ন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে কোন বাধা নাই। তাছাড়া, যেহেতু বাঙলাদেশে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির ব্যাপারে কোন আইনি নিষেধাজ্ঞা নাই, ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামি দলগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট ছাত্র সংগঠনগুলোকে স্বাধীনভাবে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেওয়াই ন্যূনতম গণতান্ত্রিক দাবি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও ধর্মভিত্তিক ছাত্র সংগঠনগুলোর ব্যাপারে কোন নিষেধাজ্ঞা জারি করেনি। তাহলে কেন ডাকসু নির্বাচন তাদের বাদ দিয়ে করা হচ্ছে?

যদিও বর্তমান গঠনতন্ত্রে ধর্মভিত্তিক ছাত্র সংগঠনগুলোর নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে কোন নিষেধাজ্ঞা নাই, তবে গত ১০ জানুয়ারির বৈঠকে এ সংক্রান্ত একটি দাবি পেশ করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ’। প্রায় দেড় যুগ পুরোনো গঠনতন্ত্রে প্রয়োজনীয় সংশোধন, সংযোজন ও পরিমার্জনের লক্ষ্যে ছাত্র সংগঠনগুলোর পরামর্শ ও প্রস্তাবনা গ্রহণই ছিলো ওই বৈঠকের লক্ষ্য। এই বৈঠকে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে ধর্মভিত্তিক ছাত্র সংগঠনগুলোকে ডাকসু নির্বাচন ও ক্যাম্পাস থেকে নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব জানানো হয়। পরবর্তীতে ছাত্রদলও একই দাবী জানায়।

প্রগতিশীল জোটভুক্ত এবং জোটের বাইরে ক্রিয়াশীল অন্যান্য বাম দলগুলিও, দীর্ঘদিন যাবত ধর্মভিত্তিক ছাত্র সংগঠনগুলোকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়ে আসছে। এবার সেই দাবি জানালো ছাত্রলীগ ও ছাত্রদল। ফলে, যদি ছাত্রলীগ ও অন্যান্য বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর দাবি মেনে, ধর্মভিত্তিক দলগুলোকে নির্বাচন করতে না দেওয়ার বিধান রেখে গঠনতন্ত্র সংশোধন করা হয়, সেক্ষেত্রে ইশা ছাত্র আন্দোলনের ডাকসু নির্বাচনে অংশগ্রহণ হুমকির মুখে পড়বে।

ছাত্রলীগের এই প্রস্তাব কতটা নৈতিক?

যদিও বাম ছাত্র সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন যাবত ধর্মভিত্তিক ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়ে আসছে, কিন্তু তাদের এই দাবি কেবলমাত্র ছাত্র রাজনীতিকেন্দ্রিক না। বাম সংগঠনগুলো আদর্শিকভাবেই সবরকম ধর্মভিত্তিক রাজনীতির বিরোধী এবং এই দাবিতে তারা একাধিক আন্দোলনও করেছে। কিন্তু এ ব্যাপারে ছাত্রলীগের বর্তমান অবস্থান ধোঁয়াশাপূর্ণ।

ছাত্রলীগ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন। যদিও প্রতিটি ছাত্র সংগঠনই মূলত স্বাধীন, কিন্তু ছাত্রলীগ আওয়ামী লীগের সাথে এতটাই ওতপ্রোতভাবে জড়িত যে, মানুশ তাদের আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠন হিশেবেই বিবেচনা করে। তারা নিজেরাও নিজেদের শেখ হাসিনার ভ্যানগার্ড বলে পরিচয় দেয়।

বাঙলাদেশে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ নয়। যদিও ৭২’এর সংবিধানে এ বিষয়ক ধারা সংযুক্ত হয়েছিলো, কিন্তু তারপরে সেই ধারা আবার সংশোধন করা হয়। এবং বর্তমানে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটেই তরিকত ফেডারেশনের মত ধর্মভিত্তিক দল রয়েছে।
বিগত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে, আওয়ামী সরকারকর্তৃক কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া এবং তারই প্রেক্ষিতে কওমি আলেমদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া সংবর্ধনা আওয়ামী লীগের সাথে হেফাজতে ইসলামের নেতাদের দূরত্ব অনেকটাই কমিয়ে এনেছে। এমনকি, ওই ঘটনার পরে অনেক ইসলামি দল আওয়ামী শিবিরে যোগ দেওয়ার ব্যাপারেও উৎসাহী হয়ে উঠেছিলো। খেলাফত মজলিস জাতীয় পার্টির সাথে জোট করেছিলো, যা প্রকারান্তরে আওয়ামী জোটেই থাকা। এছাড়াও, ‘প্রথম আলো’র ওই সময়ের এক খবরে দেখা যায়, বর্তমানে বাঙলাদেশে ক্রিয়াশীল ছোট-বড় প্রায় ৭০ টি ইসলামি দলের মধ্যে ৬০ টিই কোন না কোনভাবে আওয়ামী শিবিরের সাথে যুক্ত।

বিগত নির্বাচনে ইশা ছাত্র আন্দোলনের মাদারপার্টি ইসলামি আন্দোলন ছিলো আলোচনার শীর্ষে। ক্ষমতাসীন মহাজোটের পরের স্থানেই ছিলো তাদের প্রচার-প্রচারণা, আলোচনা-সমাবেশ। দেশব্যাপী সর্বত্রই চলেছে তাদের মোটামুটি অবাধ শোডাউন। সরকারের পক্ষ থেকেও তখন বিশেষ কোন বাধার সম্মুখীন তারা হয়নি। বরং, সারাদেশে এককভাবে সর্বোচ্চ প্রার্থী দেয় দলটি।

এই যখন অবস্থা, তখন, ডাকসু নির্বাচনে ও ক্যাম্পাসে ধর্মভিত্তিক ছাত্র সংগঠনগুলোকে নিষিদ্ধের যে দাবি ছাত্রলীগ তুলেছে, তা রহস্যজনক। ছাত্রলীগ অবশ্যই এই দাবি করতে পারে যে, আওয়ামী লীগের সাথে এ ব্যাপারে আমাদের একমত হতেই হবে, এমন কোন কথা নাই—আমরা স্বাধীন ছাত্র সংগঠন। কিন্তু সেক্ষেত্রে কিছু প্রশ্নের অবতারণা ঘটে স্বাভাবিকভাবেই।

ছাত্রলীগ কি কেবল ক্যাম্পাসে ধর্মীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে চায়, না সারাদেশে? সারাদেশে যেখানে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি পুরোদমে বর্তমান, এমনকি ছাত্রলীগের মূল সংগঠন আওয়ামী লীগের সাথে এবারের নির্বাচনে ছিল প্রায় ৬৩ টি ধর্মভিত্তিক দল, সেখানে কেবলমাত্র ক্যাম্পাসে ধর্মভিত্তিক দল নিষিদ্ধ করার কোন নৈতিক ভিত্তি বা যৌক্তিকতা নাই। আর যদি ছাত্রলীগ সারাদেশেই ধর্মভিত্তিক রাজনীতির অবসান চায়, তাহলে সেটাও তারা স্পষ্ট করে বলুক, এ ব্যাপারে আন্দোলন কর্মসূচী গ্রহণ করুক, সরকারের কাছে এসব দাবি তুলে ধরুক। ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধের ব্যাপারে ছাত্রলীগের বক্তব্য স্পষ্টভাবেই গণমাধ্যমে আসা উচিত।

ছাত্রদলের ক্ষেত্রে প্রশ্নটি আরও জটিল ও হাস্যকর হয়ে উঠবে। কেননা তাদের মাদারপার্টি নিজেদেরকে মুসলিম মূল্যবোধের অধিকারী হিসেবে দাবী করে এসেছে।

ইশা ছাত্র আন্দোলনের নির্বাচনী ইশতেহার

গত সপ্তাহে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে, ইশা ছাত্র আন্দোলন ডাকসু নির্বাচনে তাদের ৯ দফা দাবি উত্থাপন করে পোস্টারিং করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রিয়াশীল দলগুলোর মধ্যে সম্ভবত ইশা আন্দোলনই প্রথম ডাকসু নির্বাচন নিয়ে পোস্টারিং করলো। ইশার ৯ দফা দাবি দেখে রীতিমত মুগ্ধ হয়েছেন ভার্সিটির অনেক সাধারণ ছাত্র, এমনকি কোন কোন প্রগতিশীল দলের নেতা-কর্মীও দাবিগুলোর প্রশংসা করেছেন।

ইশা ছাত্র আন্দোলনের ৯ দফা দাবিতে মূলত ১ম বর্ষ থেকে বৈধ সিট, দখলদারিত্ব ও সন্ত্রাসমুক্ত হল, নির্যাতন-নিপীড়নমুক্ত ক্যাম্পাস, গবেষণায় বরাদ্দ বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের যাতায়তব্যবস্থা উন্নত করা, শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি এবং অংশগ্রহণমূলক ডাকসু ইলেকশন—এসব ব্যাপারেই আলোচনা করা হয়েছে। ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ইসলামি আদর্শের সমন্বয়’র কথাও বলা হয়েছে তাদের এই ইশতেহারে।

এই ইশতেহার বিশ্লেষণ করলে এটা খুব স্পষ্টভাবেই বোঝা যায় যে, ইশার প্রতিটি দাবিই শিক্ষার্থীদের অধিকারকেন্দ্রিক, এবং সংবিধানবিরোধী বা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবিরোধী কিংবা বহুল আলোচিত মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী কোন দাবিও তাদের ইশতেহারে নাই। ফলে, আসন্ন ডাকসু নির্বাচনে তাদের অংশগ্রহণ খুবই যৌক্তিক গণতান্ত্রিক দাবি।

আগামী মার্চের শেষদিকে ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা আছে। সেই লক্ষ্যে সংবিধান সংশোধনসহ আরো নানারকম কার্যক্রম হাতে নিচ্ছে ঢাবি প্রশাসন। মিডিয়াও ফলাও করে প্রচার করছে ডাকসু নির্বাচনের খবর, ছাত্র সংগঠন ও ছাত্রনেতাদের বক্তব্য তুলে ধরছে। কিন্তু, কোনরকম নিষেধাজ্ঞা বা আইনি জটিলতা ছাড়াই, ডাকসুর এই কর্মযজ্ঞে উপেক্ষিত হচ্ছে ইসলামি দলগুলো।

বিশ্ববিদ্যালয় মানুশের স্বাধীনতা চর্চার ক্ষেত্র। মানুশের স্বাধীন চিন্তা, স্বতন্ত্র চর্চা ও সুস্থ রাজনৈতিক বিকাশের সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান। মানুশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত হওয়ার আকাঙ্ক্ষাকে যখন বাধাগ্রস্ত করা হয়, আইন-জুলুমের মাধ্যমে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার যখন হরণ করা হয়, তখনই মানুশ অগণতান্ত্রিক পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়।

আজ যারা মুক্তচিন্তার কথা বলেন, কলমের জবাব কলম দিয়ে বা কথার জবাব কথা দিয়ে দেওয়ার আলাপ তোলেন, তাদের কাছে প্রশ্ন—যদি আইন করে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নিজেদের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা ও অভিব্যক্তি প্রকাশ করা থেকে কাউকে বিরত থাকতে বাধ্য করা হয়, সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক ও শিক্ষার্থীদের অধিকারকেন্দ্রিক দাবি তোলার পরেও যদি, শুধুমাত্র ধর্মীয় চেতনায় বিশ্বাসের কারণে তাদেরকে নিষিদ্ধ করা হয়, তাহলে তারা এর জবাব কিসের মাধ্যমে দেবে? প্রশ্ন রইলো।

আগের সংবাদএটি আমাদের সবার জন্যই পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী
পরবর্তি সংবাদবনানীর হোটেলে দুই ছাত্রী ধর্ষণ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি