ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন: কি ভাবছে ইফতা বিভাগগুলো?

ওমর ফারুক

সম্প্রতি জাতীয় সংসদে ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল’ পাস হয়েছে। বিলটি পাস হওয়ার পরই উদ্বেগ প্রকাশ করে যাচ্ছেন দেশের গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও মানবাধিকার কর্মীরা। তারা মনে করছেন, আইনটির অনেক ধারায় হয়রানি ও অপব্যবহার হতে পারে। এই আইনে জনগণের মতপ্রকাশের অধিকার আরও বেশি খর্ব হবে বলেও আশংকা করছেন অনেকে।

সমালোচকদের মতে, এ আইনের সবচেয়ে স্পর্শকাতর ও উদ্বেগজনক বিষয় হচ্ছে, ডিজিটাল মাধ্যমে প্রকাশিত বা প্রচারিত কোনো তথ্য-উপাত্ত দেশের সংহতি, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা, ধর্মীয় মূল্যবোধ বা জন শৃঙ্খলা ক্ষুণ্ণ করলে বা জাতিগত বিদ্বেষ ও ঘৃণা সৃষ্টি করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো অনুমোদন ছাড়াই তল্লাশি, জব্দ এবং গ্রেপ্তার করতে পারবে বা টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসিকে অনুরোধ করতে পারবে। এটিই এ আইনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য আশংকার বিষয়। এছাড়া ধর্ম অবমাননার বিষয়ও রাখা হয়েছে এ আইনে।

এ আইন নিয়ে কী ভাবছেন দেশের ইসলামি আইন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বা ফতোয়া বিভাগগুলো, এ বিষয়ে তাদের মতামত কী, এটা জানতে যোগাযোগ করা হয়েছিল দেশের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ইফতা বিভাগের সঙ্গে। তবে অধিকাংশ ইফতা বিভাগ এ আইন সম্পর্কে তাৎক্ষণিক স্পষ্ট কোনো বক্তব্য দিতে পারেনি। কোনো কোনো ইফতা বিভাগের এ বিষয়টি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ কোন ধারণাও নেই। বিষয়টি নিয়ে এ মূর্হতে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন দেশের উল্লেখযোগ্য ফতোয়া বিভাগের প্রধান মুফতি, মিরপুর আকবর কমপ্লেক্স মাদরাসার প্রিন্সিপাল ও দেশের অন্যতম প্রধান ইসলামি আইন বিশেষজ্ঞ মুফতি দিলাওয়ার হোসাইন। তিনি বলেন, এ মুহূর্তে বিষয়টি নিয়ে কথা বলা যাচ্ছে না।

তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল ইফতা বিভাগগুলো রাষ্ট্রীয় আইন বিষয়ে কতটা পর্যালোচনা করে বা গবেষণা চালায়, এ প্রশ্নে তিনি বলেন, এটা মাঝে মাঝে হয়। তবে বর্তমানে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ব্যস্ততার কারণে এ বিষয়টি নিয়ে এখনো আলোচনা হয়নি।

তবে ফাতেহ২৪ এর পক্ষ থেকে এ আইনটির ব্যাপারে পক্ষে বিপক্ষের মতামত তুলে ধরা হলে ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করেছেন জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়ার নায়েবে মুফতি, মুফতি তাওহীদুল ইসলাম। তিনি মনে করেন সংবাদপত্রের পূর্ণ স্বাধীনতাকেও অপব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। আবার এ আইনটি প্রয়োগেও অপব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, লাগামহীন কোনো বিষয়কে ইসলাম সমর্থন করে না। সংবাদপত্রের স্বাধীনতার সুযোগ নিয়ে কোনো ব্যক্তির অপপ্রচার, মিথ্যা সংবাদ ছড়ানো কিংবা অনুমান নির্ভর কারও বক্তব্য প্রচার করা, অপ্রয়োজনীয় কারও দোষ ত্রুটি বের করাও ঠিক নয়। এগুলো গুনাহের কাজ। আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকেও নিষিদ্ধ। এগুলো বন্ধ করার জন্য প্রশাসনিক উদ্যোগ নিলে তো আরও উত্তম। তবে সংবাদমাধ্যমগুলোর বাস্তবিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা, দুর্নীতি বা ক্ষতিকর বিষয়াদি নিয়ে কথা বলা, কিংবা জাতীয় কোনো ক্ষতি হচ্ছে, এমন বিষয় প্রচারে বাধা সৃষ্টি করলে দাওয়াতি কাজেই বাঁধা সৃষ্টি করা হলো। এটাও উচিত হবে না।

যারা এ আইন বাস্তবায়ন করবেন তারাও তো অপব্যবহারের সুযোগ নিতে পারে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ আইন পাসের পূর্ব শর্ত হওয়া উচিত ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাঝে ব্যাপক সংশোধনমূলক পরিবর্তন আনা। তাদের অবক্ষয় রোধ না করে ও চারিত্রিক উন্নতি না ঘটিয়ে তাদের কাছে পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়ার অর্থ হচ্ছে শিয়ালের কাছে মুরগি বন্ধক রাখার মতো। এর মাধ্যমেও আইনের অপব্যবহারের অনেক সুযোগ রয়ে গেছে।

রাষ্ট্রীয় আইন নিয়ে আপনাদের ইফতা বিভাগে কোনো ধরণের গবেষণা কিংবা আলোচনা কিনা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোনো প্রশ্ন এলে এর ওপর ভিত্তি করেই আমরা বিস্তারিত ফতোয়া দিয়ে থাকি। তবে কিছু কিছু বিষয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে আলোচনা বা তামরীন হয়ে থাকে। তবে এটা যথেষ্ট নয়, আরও ব্যাপক হওয়া প্রয়োজন।

বিজ্ঞাপন
আগের সংবাদ১৮ আন্তর্জাতিক সংস্থাকে বহিষ্কার করলো পাকিস্তান
পরবর্তি সংবাদটানা ১২ দিনের জ্যাম যে দেশে