হাটহাজারীর ছাত্র আলী আকবর খুন, ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য

ফাতেহ ডেস্ক 

গত ২৩ নভেম্বর বি-বাড়িয়া সদর উপজেলার একটি ডোবা থেকে তাঁর কাদামাখা লাশ উদ্ধার করে স্থানীয় পুলিশ। আকবরের একাধিক সহপাঠী ফাতেহ টুয়েন্টি ফোরকে জানিয়েছেন, ১৮ নভেম্বর থেকে আকবর মাদরাসার কোনো ক্লাসে অংশগ্রহণ করেননি, এই কয়দিন থেকে বাড়িতেও কোনো যোগাযোগ নেই। অভিভাবকরা আকবরের কোনো খোঁজ না পেয়ে পেরেশান হয়ে পড়েন। আকবরের বাবা হাটহাজারী মাদরাসায় এসে খবর নেন। কিন্তু আকবরকে মাদরাসার কোথাও পাননি।

নিহত আলী আকবর মেশকাত জামাত থেকে হাটহাজারী মাদরাসায় পড়ছেন। মাদরাসায় পড়ার পাশাপাশি তিনি কবিরাজি চিকিৎসাও করতেন বলে জানিয়েছেন তাঁর এক সহপাঠী। মাহমুদ নামে একজন ছাত্র আলী আকবরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। তিনিও হাটহাজারী মাদরাসার দাওরায়ে হাদিসে পড়েন। আলী আকবর নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে মাহমুদকেও গত ১০/১২ দিন ধরে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

তাঁর সহপাঠী নূরে আলমের দেয়া তথ্য মতে জানা যায়, মাহমুদের সাথে নিহতের ছিল গভীর সম্পর্ক। তাদের গ্রামের বাড়িও ছিল কাছাকাছি। সে তাকে বিভিন্ন জায়গায় ‘ইনভাইট’ করে নিয়ে যেতো। নিহত হওয়ার আগেও মাহমুদ তাঁর সাথে ছিলো। আলী আকবরের লাশের সাথেও ছিল চট্রগ্রামের দুটি টিকেট।

নিহত আলী আকবর ১৮ নভেম্বর ঢাকা যাওয়ার কথা বলে মাদরাসা থেকে বের হয়। ২৩ তারিখ বিবাড়িয়ায় তাঁর লাশ পাওয়া যায়। তাঁকে ঠিক কখন খুন করা হয় তা কেউ বলতে পারছে না। তবে লাশের সুরতেহাল দেখে পুলিশ ধারণা করছে যে, তাঁকে ২০ তারিখের দিকে খুন করা হয়েছে।

এ ঘটনায় মাহমুদের সংশ্লিষ্টত নিয়েও প্রশ্ন উঠছে পরিচিতদের মধ্যে। তিনি এখন কোথায় ও কেমন আছেন, আলী আকবরের সাথে তার নিখোঁজ হবার আদৌ কোন সম্পর্ক আছে কিনা সে বিষয়ে চলছে আলোচনা।

বি-বাড়িয়া সদর থানার ওসি মুহাম্মদ সেলিমের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে সেলিম ফাতেহকে জানান, ‘এ ব্যাপারে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। আদালতের নির্দেশে গতকাল ৩০ নভেম্বর সকালে নিহতের লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে তাঁর স্বজনদের কাছে। এখন থেকে তদন্ত শুরু হবে। তদন্ত শেষ হলে আশা করি আমরা বলতে পারব, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আসলে কারা জড়িত এবং কী কারণে এই ছাত্রটি এমন হত্যাকাণ্ডের শিকার হলো।’