
ফাতেহ ডেস্ক
ধারণার চেয়েও অনেক বেশি আসন পেয়ে আওয়ামী লীগ যেখানে ফুরফুরে, সেখানে রাজ্যের হতাশা ভর করেছে ধানের শীষের পরাজিত প্রার্থীদের মনে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো আর কোনো নির্বাচনে এতটা খারাপ ফল হয়নি বিএনপির।
দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে ভোটে যাওয়ায় বিএনপির একাংশ হতাশ ও ক্ষুব্ধ। জাতীয় নির্বাচনে ভরাডুবির পর গতকাল জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীদের বৈঠকে দেখা যায়নি নির্বাচনে যাওয়ার বিরোধিতা করা অনেক নেতাকে।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবারের এ বৈঠকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে থাকা না থাকা নিয়ে বিএনপি নেতারা বিতর্কে জড়ান। বৈঠকে নির্বাচন বর্জন ইস্যুতে কয়েকজন নেতা নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সেখানে বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাজাহান ওমর নির্বাচন বর্জনের পক্ষে অবস্থান নেন। এ দুজনের সঙ্গে সহমত ছিলেন ভোলার প্রার্থী কেন্দ্রীয় নেতা নাজিম উদ্দিন আলম।
নির্বাচন বর্জন না করায় বৈঠকে নির্বাচন পরিচালনাকারী কমিটির প্রধানের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন নাজিম উদ্দিন ছাড়াও বেশ কয়েকজন প্রার্থী।
নির্বাচন বর্জনের পক্ষে থাকা নেতারা নির্বাচনে সমতল ক্রীড়াভূমি না থাকা, প্রচারণার ক্ষেত্রে অনিয়ম, প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের আচরণে নিরপেক্ষতার অভাবসহ বিভিন্ন কারণ উল্লেখ করেন।
তবে নির্বাচন বর্জনের বিপক্ষে ছিলেন কিশোরগঞ্জের মো. শরিফুল আলম এবং সিরাজগঞ্জের রুমানা মোরশেদ কনকচাঁপা।
কিশোরগঞ্জের মো. শরিফুল আলম, কয়েকজন নির্বাচন বর্জনের কথা বলেছেন শুনেছি। তবে আমি মনে করি এ নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত না থাকলে এটি প্রমাণ হতো না যে, দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়।
বৈঠক প্রসঙ্গে শরিফুল আলম বলেন, নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি- এসব ইস্যু জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীদের বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে। এ ছাড়া সিনিয়র নেতারা প্রত্যেক আসনের ক্ষতিগ্রস্ত নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন। আমাদের কেন্দ্রীয় লিগ্যাল এইড কমিটিও পাশে থাকবে।
প্রসঙ্গত, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন দুই জোটের ২৭টি দল মিলে ২৯৯ (এক আসনে প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে ভোট হয়নি) আসনের মধ্যে পেয়েছে মাত্র সাতটি আসন। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট ২৮৮ আসনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে।
