আত্মহত্যাকারী হুকুম কী

ফাতেহ ইসলাম:

সমাজের অনেক মানুষ মনে করেন কেউ আত্মহত্যা করলে তার জানাযা পড়া যাবে না। নিম্নোক্ত হাদিসটি তারা প্রমাণ হিসেবে পেশ করেন। জাবের ইবনে সামুরা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

أَنَّ رَجُلا مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَصَابَتْهُ جِرَاحٌ ، فَآلَمَتْ بِهِ ، فَدَبَّ إِلَى قَرْنٍ لَهُ فِي سَيْفِهِ فَأَخَذَ مِشْقَصًا فَقَتَلَ نَفْسَهُ فَلَمْ يُصَلِّ عَلَيْهِ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ” .

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এক সাহাবি আহত হন। এটি তাকে প্রচণ্ড যন্ত্রনা দেয়। তখন তিনি হামাগুড়ি দিয়ে একটি শিংয়ের দিকে এগিয়ে যান, যা তার এক তরবারির মধ্যে ছিল। এরপর তিনি এর ফলা নেন এবং আত্মহত্যা করেন। এ কারণে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জানাযা পড়াননি। (তাবারানি : ১৯২৩)

তাদের উক্ত মতের সপক্ষে এ হাদিস দিয়ে প্রমাণ পেশ করা শুদ্ধ নয়। আমাদের দেখতে হবে পূর্বসূরি উলামা, ফুকাহা ও মুহাদ্দিসগণ এ হাদিসের ব্যাখ্যায় কী বলেছেন। প্রখ্যাত হাদিসবিশারদ ইমাম নাববী রহ. বলেন,

” وفي هذا الحديث دليل لمن يقول : لا يصلى على قاتل نفسه لعصيانه , وهذا مذهب عمر بن عبد العزيز والأوزاعي , وقال الحسن والنخعي وقتادة ومالك وأبو حنيفة والشافعي وجماهير العلماء : يصلى عليه , وأجابوا عن هذا الحديث بأن النبي صلى الله عليه وسلم لم يصل عليه بنفسه زجرا للناس عن مثل فعله , وصلت عليه الصحابة ” انتهى .

‘এ হাদীসকে তারা প্রমাণ হিসেবে পেশ করেন, মানুষকে সতর্ক করার জন্য যারা আত্মহত্যাকারীর জানাযা পড়া হবে না বলে মত দেন। এটি উমর বিন আব্দুল আযীয ও আওযাঈ রহ.-এর মত। তবে হাসান বছরি, ইবরাহিম নখঈ, কাতাদা, মালেক, আবু হানিফা, শাফেঈ ও সকল আলিমের মতামত হলো, তার জানাযা পড়া হবে। উপরোক্ত হাদিসের ব্যাখ্যায় তাঁরা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মূলত অন্যদেরকে এ ধরনের মন্দ কাজ থেকে সতর্ক করার জন্যই আত্মহত্যাকারীর জানাযা পড়ানো থেকে বিরত থেকেছেন। আর সাহাবিগণ তাঁর স্থলে এমন ব্যক্তির জানাযা পড়েছেন। (ইমাম নববি, শারহু মুসলিম : ৭/৪৭)

তাই গণ্যমান্য আলেম ও বিশেষ ধর্মীয় ব্যক্তিত্বগণই কেবল আত্মহত্যাকারীর জানাযায় অংশগ্রহণ করবে না। এছাড়া সাধারণ কাউকে দিয়ে তাদের জানাযা পড়িয়ে দেওয়া হবে এবং সকল মানুষ এতে অংশগ্রহণ করতে নিষেধ নেই। এ সূত্র ধরেই আমাদের সমাজে উচ্চ ব্যক্তিত্বসম্পন্ন আলেমের স্থলে অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ ব্যক্তিত্বসম্পন্ন আলেম দ্বারা আত্মহত্যাকারীর জানাযার নামায পড়ানো হয়ে থাকে।