ইজতেমার নিরাপত্তাপ্রশ্নে যে কারণে উদ্বিগ্ন সবাই

মুসান্না মেহবুব

গত ১ ডিসেম্বর টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে হামলার পর সবার ভেতরেই এ আশঙ্কা দানা বাঁধে যে পরবর্তী সময়ে তাবলিগের বিবাদমান উভয়পক্ষ একত্রে কিংবা আলাদাভাবে যেভাবেই হোক, তাবলিগের কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করলে উভয়পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘাত সৃষ্টি হতে পারে। কেননা হামলার জন্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দায়ী কারও বিরুদ্ধেই আইনি কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি এ পর্যন্ত। এ বিষয়ে ফাতেহ টোয়েন্টি ফোর বেশ কয়েকটি প্রতিবেদনও করেছে ইতিমধ্যে।

সর্বশেষ সরকারের সিদ্ধান্ত মুতাবিক উভয়পক্ষের অংশগ্রহণে ইজতেমা আয়োজনের সিদ্ধান্তের পর থেকে ইজতেমায় নিরাপত্তাব্যবস্থা কতটা জোরদার করা হবে, এ প্রশ্ন বারবার উত্থাপিত হচ্ছে বোদ্ধামহলের পক্ষ থেকে। তাছাড়া মাদরাসার সাধারণ ছাত্র-উসতাদও বেশ উদ্বিগ্ন এ বিষয়টি নিয়ে। কারন, ১ ডিসেম্বরের টঙ্গী হামলায় দেখা গেছে বেছে বেছে মাদরাসা-ছাত্রদেরকেই মারধোর করা হয়েছে বিশেষভাবে।

মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিক এক বৈঠকে ইজতেমার নিরাপত্তাপ্রশ্নে মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ প্রস্তাব করেছিলেন, ইজতেমায় মাদরাসার ছাত্রদেরকে যেন এক জায়গায় আটক করে রাখা হয়। তাঁর এ প্রস্তাব পরবর্তী সময়ে মিডিয়ায় প্রচারিত হলে মাদরাসার ছাত্র-উসতাদদের মধ্যে তুমুল ক্ষোভ পরিলক্ষিত হয়। পাশাপাশি তাঁরা শঙ্কাও প্রকাশ করেন, যে, ইজতেমায় তাঁরা যথাযথ নিরাপত্তা পাবেন কি-না।

এই পরিপ্রেক্ষিতে বেফাক-নেতৃবৃন্দও ছাত্রদের নিরাপত্তা নিয়ে নিজেদের শঙ্কার কথা প্রকাশ করেন এবং প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ে এ নিয়ে আলাপ করেন। কিন্তু নিরাপত্তা নিয়ে ধোঁয়াশা এখনও কাটেনি।

মাদরাসা-ঘরানার বিশিষ্টজনরা মত প্রকাশ করছেন যে, ছাত্রদের নিরাপত্তা যদি নিশ্চিত না হয়, তবে প্রয়োজনে তাদেরকে ইজতেমায় অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখা উচিত। তাঁদের কেউই চাচ্ছেন না, ছাত্ররা নিরাপত্তাহীনভাবে ইজতেমায় অংশগ্রহণ করুক।

নিরাপত্তা নিয়ে তাবলিগের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে প্রশ্ন করা হলে তাঁরাও এর কাঙ্ক্ষিত জবাব দিতে পারেননি। আলেমপন্থী অনেক তাবলিগি মুরব্বিও শঙ্কিত এ ব্যাপারে। তাঁরা জানিয়েছেন, কেবল মাদরাসা-ছাত্ররাই নয়, বরং ইজতেমায় যারা আসবেন সবাইকে নিয়েই তাঁরা চিন্তিত।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক আলেমপন্থী তাবলিগিদের একটি সূত্র জানিয়েছে, তাঁদের শীর্ষ মুরব্বিদের অনেকেই এ কারণে দ্বিধাদ্বন্দে ভুগছেন যে, তাঁরা নিজেরা ইজতেমায় অংশগ্রহণ করবেন কি-না।

সূত্রটি আরও জানিয়েছে, প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে তাঁদেরকে বারবার এ নিশ্চয়তা দেওয়া হচ্ছে যে, ইজতেমায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে, বিশেষ করে যাদের ওপর হামলা হবার আশঙ্কা রয়েছে তাদেরকে আলাদাভাবে নিরাপত্তা দেওয়া হবে। তারপরও মুরব্বিরা নিশ্চিন্ত হতে পারছেন না নিরাপত্তার ব্যাপারে। কারণ হিসেবে সূত্রটি উল্লেখ করে, গত ১ ডিসেম্বর প্রশাসনের উপস্থিতিতেই মাদরাসা-ছাত্রদের ওপর হামলা হয়েছিল, কিন্তু প্রশাসন হামলাচলাকালীন পুরো সময়টা নীরবতা পালন করেছে। কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়নি। সেই প্রশাসনই তো এবার নিরাপত্তা দেবে। তাদের নিরাপত্তাব্যবস্থার উপর তাহলে কতটা ভরসা রাখা যায়?

আগের সংবাদ‘পথশিশুদের কল্যাণে উলামায়ে কেরামের কার্যকরী ভূমিকা গ্রহণ সময়ের দাবি’
পরবর্তি সংবাদইশা ছাত্র আন্দোলনের দাবি ধর্ম ব্যক্তিগত বিষয়, তারা ধর্মভিত্তিক দল নয়