আফগানিস্তানে ১৫০ আইএস আত্মসমর্পণ করেছে

ফাতেহ ডেস্ক: আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলীয় জাওজান প্রদেশে ১৫০ জনের বেশি তাকফিরি সন্ত্রাসী নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। এর আগে তারা সংঘর্ষে তালেবানের কাছে পরাজিত হয়।

স্থানীয় আফগান কর্মকর্তারা জনিয়েছেন, আজ (বুধবার) সকালের দিকে দায়েশের শক্ত ঘাঁটি দারজাব ও কুশ টেপাতে ১৫২ আইএস আত্মসমর্পণ করে।

সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মুহাম্মাদ হানিফ রেজায়ি বলেন, “এর আগেও আত্মসমর্পণ করেছে কিন্তু এবারের আত্মসমর্পণের ঘটনার আলাদা গুরুত্ব রয়েছে।

কারণ এবার দায়েশের নেতা ও তার সহকারীসহ দেড়শর বেশি আইএস আত্মসমর্পণ করেছে। এ ঘটনার মধ্যদিয়ে আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলে দায়েশ অধ্যায়ের সমাপ্তি হতে যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।”

প্রাদেশিক পুলিশ প্রধান জেনারেল ফাকির মুহাম্মাদ জাওজানি বলেন, আত্মসমর্পণ করা আইএস মধ্যে হাবিবুর রহমান নামে আইএস একজন সিনিয়র নেতা রয়েছে। তালেবান গর্ব করে বলেছে, তারা আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলকে দায়েশ মুক্ত করেছে।

আফগানিস্তানের তালেবান কর্মকর্তারা গত সপ্তাহে কাতারে একজন মার্কিন উপ সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে গোপন বৈঠকে মিলিত হয়েছেন বলে তালেবান সূত্র নিশ্চিত করেছে।

একজন তালেবান কর্মকর্তা বলেছেন, মার্কিন উপ সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যালিস ওয়েলসের সঙ্গে দোহায় অনুষ্ঠিত মুখোমুখি বৈঠক ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এ ধরনের সংলাপ অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

কাতারে মার্কিন কূটনীতিকের সঙ্গে তালেবানের গোপন বৈঠকের খবর প্রথম দিয়েছিল মার্কিন দৈনিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। এরপর সোমবার দু’জন সিনিয়র তালেবান কর্মকর্তা কাবুলে বিবিসিকে এ বৈঠকের কথা নিশ্চিত করেছেন।

তারা বলেছেন, বৈঠকে ছয় সদস্যের তালেবান প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিয়েছেন আব্বাস স্তানিকজাই। তিনি দোহায় তালেবানের রাজনৈতিক দপ্তরের প্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন।

ওদিকে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের উপ সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দোহা সফরের খবর নিশ্চিত করেছে। এক ঘোষণায় ওই মন্ত্রণালয় বলেছে, অ্যালিস ওয়েসল আফগান শান্তি প্রক্রিয়ার বিষয়ে কাতারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তবে তালেবানের গোপন বৈঠকের দাবি সম্পর্কে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে কাবুল সরকারের উপস্থিতি ছাড়াই তালেবানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনাকে আমেরিকার নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন বলে মনে করা হচ্ছে। আফগান সরকার সম্প্রতি এ ধরনের সংলাপের ব্যাপারে আমেরিকাকে হুঁশিয়ারি করে দিয়েছে।

গত জুন মাসে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আফগান সরকার ও তালেবান তিন দিনের যুদ্ধবিরতি পালন করে। এর আগে একাধিকবার এ ধরনের সমঝোতা হলেও তা লঙ্ঘিত হয়েছে।

কিন্তু এবারের তিন দিনের যুদ্ধবিরতির প্রতি উভয়পক্ষ সম্মান দেখিয়েছে। ওই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তালেবানরা বেশ কয়েটি হামলা চালিয়েছে।

বিজ্ঞাপন
আগের সংবাদসমুদ্রবন্দরে ৩ ও নৌবন্দরে ১ নম্বর সংকেত জারি
পরবর্তি সংবাদআকামা নবায়নে নতুন আইন সৌদি আরবে