জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া নিয়ে কী ভাবছেন ইসলামপন্থীরা?

ওমর ফারুক

দেশের বর্তমান ‘টপ অব দ্যা টক’ জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া। দুই প্রবীণ রাজনীতিবিদ, সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেন ও সাবেক রাষ্ট্রপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বে এ জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া চলছে।

শনিবার একটি সরকার বিরোধী বৃহত্তর রাজনৈতিক জোট গঠনের লক্ষ্যে নাগরিক সমাবেশও করেছে ‘জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ায়’ সক্রিয় সংগঠনটি। আর সেখানে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে যোগ দিয়েছেন দেশের শীর্ষ বিরোধী দল বিএনপি। যোগ দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং আরো তিন সিনিয়র নেতা। এছাড়াও গণফোরাম, বিকল্পধারা, যুক্তফ্রন্ট, গণসংহতি আন্দোলনসহ আরও কিছু ছোট ছোট রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এ সমাবেশে যোগ দিয়েছেন। যোগ দিয়েছেন কয়েকটি ইসলামিক দলের নেতারাও। তাদের মাঝে খেলাফত মজলিস ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের একাংশের নেতারাও আছেন ।

‘জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া’ নামে একটি সংগঠনের ব্যানারে এ সমাবেশের মূল উদ্যোক্তা ছিলেন ড: কামাল হোসেন। সঙ্গে ছিলেন বিকল্পধারা এবং রাজনৈতিক মোর্চা যুক্তফ্রন্টের শীর্ষ নেতা বদরুদ্দোজা চৌধুরী।

এর কয়েক দিন আগে ‘ঐক্য প্রক্রিয়া’ পাঁচ-দফা দাবি তুলে ধরেছে। তার মধ্যে সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন এবং নির্বাচনের সময় সেনা বাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে মোতায়েন করাও রয়েছে ।

এই জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া নিয়ে জাতীয় মহলে আলোচনা চললেও এ প্রক্রিয়াকে কীভাবে দেখছেন দেশের আলেমসমাজ ও ইসলামি রাজনীতিবিদরা। জানতে কথা হয়েছিল দেশের কয়েকজন আলেম রাজনীতিবিদের সঙ্গে।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা ও অনলাইন একটিভিস্ট সাইমুম সাদী ফাতেহ২৪ কে বলেন, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া আসলে কোন দিকে গড়াবে, সেটা এখনো বলা যাচ্ছে না। এখনো সময় বাকি রয়েছে। ড. কামাল হোসেন চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের আস্থাভাজন এবং তিনি তাদেরকে বিষয়টি বুঝানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন। বিএনপি এ ঐক্যের সঙ্গে থাকলে তারা কিছুটা লাভবান হতে পারে। কারণ বিএনপির এককভাবে ক্ষমতায় আসার আপাতত কোনো সম্ভাবনা নেই। কোনো নির্বাচনি জোটের মাধ্যমেই বিএনপিকে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করতে হবে। সে ক্ষেত্রে ড. কামাল হোসেনরাও মাধ্যম হতে পারেন।

জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নাগরিক সমাবেশে কোনো কোনো ইসলামি দলকেও অংশগ্রহণ করতে দেখা গেছে। এ বিষয়ে কী বলবেন, সাইমুম সাদী জানান, প্রথমত ইসলামপন্থী দল সবগুলো মিলে একটি জোট করাই ভালো হতো। তারপর কোনো নির্বাচনি জোটে যাওয়া। তারা একসঙ্গে নেই ও পৃথক পৃথক জোটে গেছেন, কেউ আ.লীগ, কেউ বিএনপি বা কেউ জাতীয় পার্টির জোটে। এগুলো তাদের রাজনৈতিক নীতিগত বিষয়। ফলে তারাই বিষয়গুলো ভালো বলতে পারবেন। তবে জনগণের দাবি হচ্ছে, ইসলামপন্থী দলগুলোর মাঝে ঐক্য গড়ে তোলা। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে যেকোনো জোটে গেলে ফলাফল আসতো। কিন্তু এটি আমাদের জন্য দুর্ভাগ্য যে, ইসলামপন্থী একেকটি দল একেক দলের সঙ্গে নির্বাচনি জোট করছে।

মুফতি ওয়াক্কাস নেতৃত্বাধীন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্মমহাসচিব মাওলানা ওয়ালি উল্লাহ আরমান জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া নিয়ে তার দলের অবস্থান সম্পর্কে বলেন, আমরা বিশ দলীয় জোটের সঙ্গে রয়েছি। যদি বিশ দলীয় জোট ড. কামালদের সঙ্গে জোটে যেতে চায় এটি বিশ দলীয় জোটের বিষয় হবে। এ ক্ষেত্রে আমাদের পৃথক কোনো অবস্থান নেই। জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার পক্ষ থেকে বিএনপির মাধ্যমে মুফতি ওয়াক্কাস সাহেবকেও সেখানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। জামায়াতে ইসলামি ছাড়া বিশ দলের সকলকেই আমন্ত্রণ করা হয়েছে। কেউ গিয়েছি কেউ যায়নি। এটি ছিল ঐচ্ছিক একটি বিষয়। দলীয়ভাবে হয়তো কেউ কেউ এখনো কোনো সিদ্ধান্তে যেতে পারেনি তাই সেখানে যায়নি।

মাওলানা ওয়ালি উল্লাহ আরমান আরও বলেন, বর্তমানে সবাই আওয়ামী লীগ থেকে পরিত্রাণ চায়। সে পরিত্রাণ চাইলেও এর পদ্ধতি কী হবে, কাদের সঙ্গে জোট হবে না হবে, এগুলো আরও সময়ের ব্যাপার ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের ব্যাপার। এ জোট কোন দিকে গড়ায়,সেটা এখনো অস্পষ্ট। তবে এটি সফল জোট হলে নিঃসন্দেহে আগামী নির্বাচনে আ.লীগের জন্য তা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়াবে। কারণ, এ ঐক্য প্রক্রিয়া নেতাদের দেশ বিদেশে অবস্থান রয়েছে। এছাড়াও শূন্য মাঠে আ.লীগের বিরুদ্ধে শক্তিশালী জোট হবে এটি।