বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে যা বললেন সিটি কর্পোরেশন কর্মকর্তা

ওমর ফারুক:

আজ পবিত্র ঈদুল আযহা। শুরু হয়ে গেছে কুরবানী। দেশজুড়ে পশু কুরবানীর মধ্য দিয়ে পবিত্র ঈদুল আযহা পালন করবেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।

ঢাকাসহ সারা দেশে লাখ লাখ পশু কোরবানী দেওয়া হবে। কিন্তু প্রতি বছরই সঠিক ব্যবস্থাপনা ও সচেতনতার অভাবে ঢাকা মহানগরীসহ সর্বত্র কুরবানীর পশুর রক্ত ও উচ্ছিষ্টাংশে মারাত্মক দূষণের সৃষ্টি হয়। রোগবালাই ছড়ানোর আশঙ্কা তৈরি হয়। অথচ বিষয়টি ততটা গুরুত্ব দেয় না কুরবানীদাতারা।

ইসলামে কুরবানী যেমন সওয়াবের কাজ, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতাও সওয়াবের কাজ। এ বিষয়ে অবহেলার কোনো সুযোগ নেই। এ জন্য কোরবানীর পর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে আমাদের অবশ্যই নজর দিতে হবে।

কুরবানীর পশুর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা নিয়ে ফাতেহ২৪ এর পক্ষ থেকে কথা হয় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা এ এস এম মামুনের সঙ্গে। তিনি জানান, সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার জন্যই আমরা নির্ধারিত জায়গায় কুরবানি দেওয়ার বিষয়টিতে গুরুত্ব দিচ্ছি। ঢাকাসহ সারাদেশের সিটি শহরগুলোতে নির্ধারিত জায়গায় কুরবানী দানের প্রতি আমরা আহ্বান করবো। সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে প্যান্ডেল ও কসাইও নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত জায়গায় কুরবানী হলেই সঠিকভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্ভব।

‘এছাড়াও আমরা কুরবানী দাতাদের কাছে ব্যাগ সাপ্লাইয়ের ব্যবস্থা করেছি। তাদের ব্যাগে করে এসব বর্জ্য ডাস্টবিন বা সিটি কর্পোরেশনের গাড়িতে রেখে দিতে হবে। কোনোভাবেই কুরবানীর পশুর বর্জ্য ড্রেনে ফেলা যাবে না। এর ফলেই জলাবদ্ধতা ও পরিবেশ দূষণ হয়ে থাকে। ড্রেনে ময়লা ফেলা থেকে সকলকে দূরে থাকতে হবে।’

এ এস এম মামুন আরও বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যেককে এ বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে রাখহে হবে। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় যদি কুরবানীর পশুর বর্জ্য যথাযথভাবে পরিষ্কার করা না হয়, তাহলে পরিবেশ দূষণের সৃষ্টি হয়। এ জন্য কোরবানির পশুর রক্ত, হাড়, নাড়িভুঁড়ি, মল ইত্যাদি যথাযথভাবে পরিষ্কার করা দরকার এবং তা যেন পরিবেশকে অস্বাস্থ্যকর করে না তুলে সেদিকে সবার দৃষ্টি রাখা উচিত।

তিনি আরও বলেন, কোরবানীর পশুর যাবতীয় বর্জ্য গর্ত করে মাটিতে পুঁতে ফেললে তা আর পরিবেশ দূষণ তৈরি করতে পারবে না। তাই কোরবানী দিতে গিয়ে পরিবেশ ও মানুষের যেন কোনো ক্ষতি না হয় সেদিকেও নজর দিতে হবে। যদি যথাযথ ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে কোরবানীর পশু নির্ধারিত স্থানে জবাই করা হয় তাহলে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষণ রোধ হবে, তেমনি অন্যদিকে জবাই পরবর্তী উচ্ছিষ্টাংশগুলো সম্পদে রূপান্তরিত করা সম্ভব হবে।

গ্রামগঞ্জের মানুষদের কীভাবে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতায় ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করা উচিত, এ বিষয়ে তিনি বলেন, যাদের বাড়ির আঙিনায় জায়গা আছে তারা নিজেদের কুরবানীর পশুর বর্জ্য মাটির নিচে পুতে ফেলতে পারেন। তবে শহরাঞ্চলে গর্ত খুঁড়ার সময় লক্ষ্য রাখতে হবে যাতে বিদ্যুৎ/টেলিফোনের তার কাটা না পড়ে। গ্রামাঞ্চলের লোকেরা একত্রে এভাবে কুরবানীর বর্জ্য মাটির নিচে পুতে এক বছরের বর্জ্য পরের বছর কোরবানীর আগেই উঠিয়ে জৈব সার হিসেবে শষ্যক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারেন।

‘বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আলোচিত পদ্ধতির পাশাপাশি যেসব এলাকায় গর্ত খুঁড়ার উপর্যুক্ত জায়গা নেই সে সব এলাকার বর্জ্য প্রচলিত উপায়ে অপসারনের ব্যবস্থা নেয়া যায়। এতে নগর কর্তৃপক্ষের দায়িত্বভার কিছুটা কমবে।’

আগের সংবাদঈদুল আযহার দিনের সুন্নত ও মুস্তাহাব আমল ও ঈদের নামায
পরবর্তি সংবাদহতাশা নয় বার বার তওবাই সফলতার পথ