জন্মান্ধ হয়েও দুই বছরে পবিত্র কুরআনের হাফেজ আতিক!

হাফেজ আতিক
হাফেজ আতিক

ফাতেহ ডেক্স: ১৫ বছর আগে মায়ের কোল আলোকিত করে জন্ম নেয়া এক মেধাবীর নাম মো. আওয়াল আতিক। ফুটফুটে চেহারার আতিক ঘর আলোকিত করলেও পরিবারের কেউ তখন জানতে পারেনি সে পৃথিবীর আলো দেখতে পারে না। তবে জন্মান্ধ হয়েও আয়াত শুনে শুনে দুই বছর এক মাসেই কুরআনের হাফেজ হয়েছে আতিক।

প্রখর মেধার অধিকারী আতিক যশোরের মনিরামপুর উপজেলার বলিয়ানপুর গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী মো. ইকবাল হোসেনের একমাত্র সন্তান।
আতিকের মা আছিয়া ইকবাল জানান, আতিকের ৬-৭ মাস বয়স হওয়ার পর খেলনা সামগ্রী এনে দিলে সেদিকে ফিরে তাকাত না সে। এতে সন্দেহ হয় তাদের। এরপর দেশের বিভিন্ন চক্ষু বিশেষজ্ঞদের কাছে নেয়া হলেও কোনো উন্নতি না হওয়ায় ছেলেকে ভারতের চেন্নাই শংকর নেত্রালয়ে নেয়া হয় উন্নত চিকিৎসার জন্য।
সেখানকার চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানায় আতিকের চোখের রেটিনার একটি শিরা অকেজো। এর কোনো চিকিৎসা নেই।আতিকের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মা আছিয়া লক্ষ করেন আতিকের মধ্যে রয়েছে প্রখর মেধা। মাত্র ৫ বছর বয়সে মনিরামপুরের হাসাডাঙ্গায় হাফিজিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি করেন তিনি।
সেখানে শুনে সব মুখস্থ করতে পারত আতিক। আতিকের বাবা মালয়েশিয়ায় যাওয়ার পর আতিককে নিয়ে খুলনা শহরের অন্ধ মাদ্রাসায় ভর্তির পাশাপাশি গোয়ালখালি অন্ধ স্কুলে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি করিয়ে দেন তার মমতাময়ী মা।
সেখানে অল্প কিছুদিনের মধ্যেই ক্লাসে ভালো ফলাফল করে প্রতিভার সাক্ষর দেখাতে শুরু করে আতিক। কিন্তু একই সঙ্গে মাদ্রাসা ও স্কুলে পড়ালেখা করা তার শারীরিক সীমাবদ্ধতার কথা জানান দেয়। তাই আতিকের মা একজন ইমামের পরামর্শে ১৩ বছর বয়সে আতিককে খুলনা দারুল মোকাররম মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়ে দেয়। সেখানে মাত্র ২ বছর ১ মাস বয়সে পবিত্র কুরআনের হিফজ সম্পন্ন করে আলোকিত হৃদয়ের অধিকারী হয়।
খুলনা দারুল মোকাররম মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ আবদুর রহিম বলেন, আতিক ছিলো প্রখর মেধার অধিকারী। তিনি আয়াতগুলো একবার একবার করে পড়তেন আর তা শুনেই আয়ত্ত করে ফেলত আতিক। বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে আতিক একাধিক পুরস্কার লাভ করেছে বলেও জানান তার শিক্ষক আবদুর রহিম সাহেব।
আতিকের সাথে কথা বললে সে জানায় মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের অশেষ কৃপা ও মাতা-পিতার দোয়ায় সে আজ কুরআনের হাফেজ হতে পেরেছে। সে ভবিষ্যতে অন্ধদের জন্য কাজ করতে চায়।