কাঁচা চামড়ার বাজার পোস্তার খণ্ডচিত্র

কাজী মাহবুবুর রহমান

প্রতিবছরের মত এবছরও কুরবানীর সিজনে ব্যস্ত হয়ে উঠেছিল চামড়ার আড়ত ও ট্যানারীগুলো। ব্যবসার মুল সিজনে তারা মরিয়া হয়ে লেগেছিলেন চামড়া সংগ্রহে। প্রতি ঘন্টায় শত শত চামড়া ঢুকেছে আড়তগুলিতে। চামড়া ব্যবসার অন্যতম গুরুত্বপূর্ন এলাকা পুরান ঢাকার পোস্তাতেও এর ব্যতিক্রম হয়নি।

ঈদের দিন দুপুর থেকেই ট্রাক, পিকআপ, ভ্যান ও অন্যান্য মাধ্যমে চামড়া উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে।  পা ফেলাও দুস্কর হয়ে গিয়েছে। এছাড়াও কয়েকদফা বৃষ্টির ফলে পরিস্থিতি হয়েছে আরো কঠিন৷ সেখানে শৃংখলার জন্য ঈদের দিন সকাল থেকেই দায়িত্ব নিয়োজিত রয়েছেন পুলিশ। এবং সংবাদকর্মীরাও রয়েছেন। পোস্তার এই আড়তগুলি বাংলাদেশের চামড়াশিল্প ও বানিজ্যের অত্যন্ত প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শরিকদার। বংশ পরম্পরায় অনেক আড়তদারই এই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন দীর্ঘদিন যাবত।

গত এক দশকে চামড়াশিল্প ও বানিজ্যে এসেছে বিশাল পরিবর্তন। এবং সেটা এসেছে পেশাদার চামড়া ব্যবসায়ীদের পক্ষেই। তিন হাজার টাকার চামড়া নেমে এসেছে সাত-আটশ টাকায়৷ কিন্তু এর বিপরীতে চামড়াজাতদ্রব্যের মূল্য বেড়েছে বহুগুন৷ চামড়ার জুতা,ব্যাগ ও শীতবস্ত্রের দাম স্বাভাবিকের গন্ডি ছাড়িয়ে ক্রমশ নাগালের বাইরে।

পোস্তার চামড়ার আড়তের সাথে সংযুক্ত এক ব্যবসায়ীর সাথে এই প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, মুলত বাজারের দরপত্র উঠানামারই একটা অংশ মনে করেন। এতটা দরপতন কী করে সম্ভব সে প্রসঙ্গে তিনি জানান, চামড়া শোধন প্রক্রিয়ায় প্রচুর অর্থ ব্যয় হয় বলেই মালিকরা বেশী দামে কিনতে পারছেন না। এছাড়াও সমিতি থেকে নির্ধারিত মুল্যের বাইরে কেনার নিষেধাজ্ঞা আছে এমন কথাও শোনা গিয়েছে।

এতে বৃহৎ আকারে ক্ষতি হচ্ছে বাংলাদেশের কওমী মাদ্রাসাগুলোর। কারণ প্রতিবছর মাদ্রাসাগুলির বড় একটা অংকের টাকা উঠে আসে এই চামড়া বিক্রি থেকেই। এই খাতটি দূর্বল হয়ে পড়লে মাদ্রাসার আর্থিক দিকটি ক্ষতির সম্মুখীন হবে৷ চামড়াজাত পন্যের দাম এক দশকে তিনচারগুন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কেন মূল চামড়ার দাম তিন চারগুন কমে গেল, এই প্রশ্নের উত্তর খুব হতাশার।

কওমী মাদ্রাসাগুলির লিল্লাহ বোর্ডিং ও সাধারণ ফকীর ও মিসকিনদেরকে এই চামড়া দান করা হয়ে থাকে। যেহেতু তারা ক্ষমতার লড়াইয়ে টিকে থেকে নিজেদের অধিকার বুঝে নিতে পারবেনা, এর ফলেই এমন অনিয়ম হচ্ছে বলে গবেষকগন মনে করেন৷ চামড়াশিল্পের জয় হোক। বিশ্বের বুকে বাংলাদেশের সুনাম প্রতিষ্ঠা হোক, এবং এর পাশাপাশি গরিব চুষে খাওয়ার এই জঘন্য পুজিবাদী অভিশাপের অবসান হোক৷

আগের সংবাদপাঁচ টাকা নোটের সেই ঐতিহাসিক কুসুম্বা মসজিদ
পরবর্তি সংবাদগ্রেনেড হামলা মামলার রায় নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে