কেমন কাটবে রোহিঙ্গা শিবিরে কুরবানীর ঈদ?

ওমর ফারুক:

আগামীকাল ২২ আগস্ট পবিত্র ঈদুল আযহা। ঘটনার শুরুটা হয়েছিল গত বছরের এ সময়েই। গত ২৪ আগস্ট মিয়ানমারের এক সেনা ছাউনিতে রোহিঙ্গা সংগঠন ‘আরসা’র তথাকথিত ‘হামলার’ পর ভয়ঙ্কর নিপীড়ন, হত্যা ও ধর্ষণের শিকার হয়ে বাংলাদেশে নতুন করে পালিয়ে আসে সাড়ে আট লাখের মতো রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ-শিশু। পশু কুরবানীর বদলে মানব কুরবানীর ভেতর দিয়ে যেতে হয় রোহিঙ্গাদের। ম্লান হয় তাদের ঈদ উৎসব। মৃত্যু আতঙ্কে দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয় রোহিঙ্গারা। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বর্বরতার বলি হতে হয় তাদের।

বর্তমানে টেকনাফ ও উখিয়ার বেশ কয়েকটি ক্যাম্পে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা নতুন পুরাতন মিলে প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে খাদ্য, বস্ত্র, ওষুধসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য সরবরাহ করছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থা। পাশে দাঁড়িয়েছেন দেশের আলেমসমাজও। প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গাদের এসব সংস্থা ও ত্রাণের ওপর নির্ভর করেই চলতে হয় রোহিঙ্গা শরণার্থীদের। ক্যাম্পে থাকার ফলে তারা বাইরে কোথাও কাজও করতে যেতে পারেন না। ফলে ঈদ উৎসবসহ সকল ক্ষেত্রেই তাদের তাকিয়ে থাকতে হয় ত্রাণদাতাদের দিকে।

এবার কুরবানীর ঈদটি কেমন কাটছে রোহিঙ্গাদের?

বিষয়টি জানতে যোগাযোগ করা হয়েছিল রোহিঙ্গা শিবিরে সেবা প্রদানকারী সংগঠন বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের দায়িত্বশীল মাওলানা শরীফ হুসাইনের সঙ্গে। তিনি জানান,কুরবানীর ঈদের আনন্দ আসলে কুরবানীর পশুতেই বেশি থাকে। এসময় জামা কাপড়ের তেমন চাহিদা নেই। তাই আমাদের তাদের জন্য পশু কুরবানী দিয়ে তাদের মুখে হাসি ফুটানোর চেষ্টা থাকবে। তিনি জানান, এবারের ঈদে সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো কুরবানীতেই বেশি মনোযোগী হয়ে উঠেছে।

বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস ২৭ টি গরু কুরবানী দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। অন্যান্যরাও একই কাজ করার পরিকল্পনা করছেন। সরকারিভাবেও বিদেশি সংস্থা ‘অ্যাটে’র মাধ্যমে রোহিঙ্গা শিবিরের প্রতিটি ব্লকে একটি করে গরু কুরবানী দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমরা আশাকরি, এর মাধ্যমে আমরা রোহিঙ্গাদের প্রতি সঠিক দায়িত্বটি পালন করতে পারবো।

এছাড়া ঈদকেন্দ্রিক আর কোনো কার্যক্রম রয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঈদকেন্দ্রীক না হলেও আমরা রোহিঙ্গাদের তীব্র চাহিদার কথা বিবেচনা করে গত তিন মাসে যে সকল নবজাতক শিশু জন্ম নিয়েছে তাদের জন্য একটি করে শিশু সামগ্রীর প্যাক প্রদান করছি।

কথা হয়েছিল উখিয়ার স্থানীয় বাসিন্দা ও শুরু থেকেই রোহিঙ্গাদের সুখ দুঃখের সঙ্গী ছারওয়ার ছাহেলের সঙ্গে। তিনিও জানান, রোহিঙ্গা শিবিরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কুরবানীর বিষয়টির প্রতিই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয়রাও গরু ছাগল কুরবানী দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এছাড়া অন্যকোনো উদ্যোগ তেমন একটা চোখে পড়েনি। তবে আল মারকাযুল ইসলামির পক্ষ থেকে আলু ও পেয়াজ বিতরণ করতে দেখা গেছে। এছাড়াও তাসনুবা শামীম ফাউন্ডেশন হবিগঞ্জের পক্ষ থেকে ঈদের দিন মসজিদ মাদরাসাগুলোতে গোস্ত ও রুটি বানিয়ে খাওয়ানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশও গরু কুরবানী দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।

ব্যক্তিগতভাবে জনাব ছারওয়ার ছাহেলও গরু ছাগল কুরবানী দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন বলে ফাতেহ২৪কে জানিয়েছেন। এছাড়াও তিনি কুতুপালং এ টিউবয়েল ও গোসলখানা নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। বিতরণ শুরু করেছেন কুরআন শরীফ ও রেহাল। ছারওয়ার ছাহেল বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ ও ফেসবুকে লাইভের মাধ্যমেও প্রতিনিয়ত রোহিঙ্গাদের সুখ দুঃখ দুর্দশাগুলো তুলে ধরছেন। বিশ্বকে জানাচ্ছেন মানবাধিকারহীন একটি জাতির বিভিন্ন গল্প।

আগের সংবাদকুরবানীতে কীভাবে ও কয়জন শরীক হতে পারবে?
পরবর্তি সংবাদসিরিয়ায় মার্কিন ২৩ কোটি ডলারের সহায়তার প্রতিশ্রুতি বাতিল