
জুবায়ের মহিউদ্দিন
তখন দিনলিপি লিখে হাত জমাচ্ছিলাম । সাহিত্যের প্রতি ঘুম বিসর্জন দেয়া আকর্ষণের শুরুর দিনগুলোতে বড়ভাইদের কল্যাণে ‘আনা ফ্রাঙ্কের ডায়েরি’ আর বুলবুল সরওয়ারের ‘ঝিলাম নদীর দেশ’ তখন মাদরাসার চৌহদ্দিতে সাহিত্যচর্চার একটা গোপন আভিজাত্যের নাম। দুর্বল বা নির্যাতিতের প্রতি মানুষের যেই স্বভাবজাত দুর্বলতা, সেই দুর্বলতার সুযোগেই ‘ঝিলাম নদীর দেশ’ আমার শৈশবের বহুল পঠিত বইতে পরিণত হলো। মাসুদ রানা, তিন গোয়েন্দা বা বাসার হুমায়ূন আহমেদের শেলফ ছেড়ে যখন মাদরাসার হোস্টেলে নিজের সব কাজ একা একা করতে শিখে গেলাম, নতুন বন্ধুত্বের সম্পর্ক যখন ‘তুই-তোকারি’তে অভ্যস্ত হলো, তখন সাহিত্য বা এই জাতীয় কিছু সম্ভ্রান্ত ও মার্জিত আড্ডায় দিনলিপি কেন লিখবো এমন আলোচনাতে ‘আনা ফ্রাঙ্কের ডায়েরি’ আর সৈয়দ আলী আহসানের ‘উনিশশো পঁচাত্তর সাল’ বইদুটির প্রসঙ্গ চলে আসতো ঘুরেফিরে। এর পাশাপাশি ‘ফুলের গন্ধে ঘুম আসেনা’, ‘বুক পকেটে জ্বোনাকি পোকা’ বইগুলিও গুরুত্ব পেতো সমানতালে।
একদিন আমার বানান ভুলের জরিমানার টাকায় হাতে এলো বুলবুল সরওয়ারের ‘ঝিলাম নদীর দেশ’। স্বপ্নের কাশ্মীরের গল্পে মধ্য নদীতে কুয়াশায় মিলিয়ে যাওয়া লঞ্চের মতো আমিও ডুবে থাকি ঝিলাম নদীতে, ডাল লেকে। সেই সাথে নাজনীনও যেনো আমাকে কাশ্মীরের হাতছানি দিতে থাকে পথেঘাটে তার হাসির গুঞ্জনে। কাশ্মীরের প্রতি আমার প্রেম বা মুগ্ধতার সাথে সাথে তখন থেকেই নাজনীনের চেহারার পরাধীন কাশ্মীর কিংবা ফিলিস্তিনের উচ্ছ্বল কোন তরুণীর একটা অসহায় অবয়ব জীবন্ত পোষ্টার হয়ে চলাফেরা করতে থাকে শহরের সকল বোরকা পরিহিত ষোড়শীর নেকাবে নেকাবে । কৈশোর পেরুনো পাঠে ‘ঝিলাম নদীর দেশ’ ছিলো বলেই কি আমার এই দীর্ঘদিনের অনুভূতি নাকি এসব নির্যাতিত মুসলিম অঞ্চলের প্রতি আমাদের যেই অবিরত আবেগের স্রোত বয়ে যাচ্ছে যুগযুগ ধরে, এ তারই কোন অংশ ? যেই বুলবুল সরওয়ারকে নিয়ে লিখতে বসেছি তিনিও তো এক সাক্ষাতকারে বলেছেন ‘আসলে কাশ্মীরের ব্যাপারটাই অন্যরকম।’
সাহিত্যের সুন্দর চর্চা আর ঐতিহাসিক ভ্রমণকাহিনীর জন্য বুলবুল সরওয়ার একসময় আমার নিয়মিত পাঠ্য হয়ে ওঠেন। একজন চিকিৎসক হয়েও তিনি কেন ইতিহাসকে পছন্দ করেন তা নিজেও জানেন না বলে সাক্ষাতকারে বলে থাকেন । তবে ইতিহাসকে আসল বা প্রকৃত জ্ঞান মনে করা বুলবুল সরওয়ার তার ভ্রমণবৃত্তান্তে গল্পে গল্পে ইতিহাস তুলে ধরার যেই কোশেশ করেছেন তা বাঙালি পাঠকদের ঋণী করে দেয়ার মতোই একটি প্রশংসিত অবদান। চিন্তাগত আদর্শে নানা অঙ্গন মাড়িয়ে, বলা যায় পোড়খাওয়া ব্যক্তিত্বে মোটামুটি সবঘাটের পানি খেয়ে বুলবুল সরওয়ারের পরিচয়টা এখন মার্জিত ও সম্ভ্রান্ত একটা ব্যানারে আটকে আছে।
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি, পঁচাত্তর সাল ও পরবর্তীতে বুলডেজারের চাকায় পিষ্ট হতে থাকা কোন বস্তির মতোই দ্রুত পালটে যাওয়া এদেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক সময়গুলোকে লেখালেখির খাতিরে খুব যত্নের সাথে পড়ে পড়ে বর্তমানে প্রতিষ্ঠিত একজন চিকিৎসক, শিক্ষক আর দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসী সাহিত্যিক—এই তিন পরিচয়ে তিনি বিশ্বাসী ও মার্জিত সাহিত্য বা ইতিহাসপ্রেমী পাঠকের নিকট সমাদৃত হয়ে উঠবেন এটাই স্বাভাবিক ।
একদিন বইমেলায় জিজ্ঞেস করেছিলাম, দেখা যায় আপনার পাঠকরা মাদরাসার ছাত্র বা কিছুটা নম্র, মার্জিত ও ধার্মিক হয়ে থাকে । নির্লিপ্ত হাসিমাখা উত্তর দিলেন, বললেন—এ তো আমার জন্য গর্বের বিষয় বলেই মনে করি, আর আমিও ধর্মানুরাগী, আল্লাহ-রাসূল বা ধর্মের প্রতি আমি টান অনুভব করি, যতটুকু পারি মেনে চলতে চেষ্টা করি। আর এসব চিন্তার সাথে মিলে যায় তার কথাবার্তার ধরণ। ধর্মীয় শব্দগুলোকে ইংরেজিতে বলা, বাঙলায় না বলে সাবলীল, শুদ্ধভাবে উচ্চারণ করছেন—’রাহবার’। আবার হযরত উমর (রাযিঃ) এর নামের শেষে ‘রাযিয়াল্লাহু আনহা’ বলে সাথে সাথেই ‘রাযিয়াল্লাহু আনহু’ বলে শুধরিয়ে নিচ্ছেন।
ধর্মের সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে সাহিত্য দিয়ে ইসলামী ইতিহাস তুলে আনছেন তার ভ্রমণকাহিনীগুলোতে । মিশরের ঘোরাঘুরির বর্ণনায় প্রাচ্যবিদদের ভুল ধরিয়ে দিচ্ছেন নিজের স্বচ্ছ জ্ঞানের ভিত্তিতে—“…হারেম সম্পর্কে আমার পরিষ্কার ধারণা আছে। পাশ্চাত্যে যে শব্দটি কল্পনার রঙে রঞ্জিত আরব বিশ্বে তা নিরাপত্তা ও সম্ভ্রমের প্রতীক। হারাম বা নিষিদ্ধ শব্দ থেকেই এর উৎপত্তি। অন্দরমহল বা ভেতরবাড়ি বোঝাতেই এর প্রচলন যা পরপুরুষের জন্য বেআইনি এলাকা বলেই এর নাম হারেম।
কিন্তু পাশ্চাত্যের প্রচারণা এমন যে, হারেম মানেই ভোগের জন্য ধরে আনা শত শত সুন্দরী তরুণীদের আস্তানা, যারা সুলতান বা আমির-ওমরাহের কামনা নিবারণে রত। আসল বিষয়টি মোটেই সে রকম নয়। মিসরের এক ভার্সিটির ছাত্রী একবার আমায় এই যুক্তিতে হার মানতে বাধ্য করেছিল যে, আমি যদি ভালো নাচতে না শিখি, আমার স্বামীর মনোরঞ্জন করব কীভাবে?আরবদের যেসব বিষয় পাশ্চাত্যে ও দূরপ্রাচ্যে সাংঘাতিক বিকৃতভাবে পরিবেশিত, হারেম তার অন্যতম। এর মধ্যে প্রচ্ছন্ন মুসলিমবিদ্বেষও লক্ষণীয়। অথচ এসব প্রচারকারীদের সামনে কেউ যদি চ্যালেঞ্জের সুরে বলে যে, মহামান্য আলেক্সান্ডারের সাথে প্রায় পাঁচ হাজার নারীসঙ্গিনী ছিল, কিংবা তিনি বিয়ে করেছিলেন তিন-তিনবার, তাহলে এরা লেজ গুটিয়ে পালায়।”
বুলবুল সরওয়ারের ‘ঝিলাম নদীর দেশ’র পঞ্চাশের অধিক সংস্করণ প্রকাশিত হওয়া বা তার অন্যান্য ভ্রমণকাহিনীগুলোর জনপ্রিয়তার ক্ষেত্রে গল্পে গল্পে ইতিহাসের বর্ণনা বা আলাপী কথাবার্তায় ইতিহাস বিশ্লেষণে পাঠককে আকর্ষণ করার বিষয়টি প্রবল। ঐতিহাসিক স্থানের দর্শনকালে ইতিহাসের আলাপ তার ভ্রমণকাহিনীতে তুলনামূলক ধর্মচিন্তা পর্যন্ত পৌঁছে যায় । অবশ্য ঐতিহাসিক স্থানগুলোও ধর্মের সাথে এমনভাবে জড়িয়ে আছে যেনো ধর্মকে কেন্দ্র করেই সব ইতিহাস ইতিহাস হয়ে উঠেছে । ধর্মকে অস্বীকার বা ধর্মীয় ঐতিহ্যগুলোর অসাড়তা বর্ণনার বিপরীতে নিজেকে উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে নির্দ্বিধায় একজন পরিমিত ধার্মিকের বেশেই উপস্থিত করেছেন তিনি দেশে বিদেশে। ধর্মপ্রশ্নে ‘ধরি মাছ না ছুই পানি’টাইপের ইমেজ ধরে রেখে আধুনিক বাঙালি হিসেবে নিজেকে উপস্থাপনের হিড়িকের উল্টোমুখে, নিজের চিন্তাকে বুলবুল সরওয়ার প্রকাশ করেন সোজাসাপ্টা—“… “… বাঙালি জাতিসত্তায় বিশ্বাস করে, ভাষা সত্তায় বিশ্বাস করে এবং ধর্মসত্তায়ও বিশ্বাস করে। এর সবগুলোর সাথে সামঞ্জস্য রেখে তারা আসলে আধুনিক থাকতে চায়। যা আসলে সীতার অগ্নিপরীক্ষার মতো…।”
আবার কখনো কখনো তার ভিতরের বাঙালি সত্তার প্রকট হয়ে উঠবার কালে নিজেকে জাতীয়তাবাদের দিক থেকে বাঙালি বললেও বিশ্বজনীন ধর্মে নিজেকে মুসলিম বলে বিপরীতমুখী ধারণার অবসান করেন এইভাবে— “… সর্বাঙ্গীন ভারতীয় হয়েই আমি মুসলিম থাকতে চাই । আমার আল্লাহ তো পুরো বিশ্ব জাহানের স্রষ্টা, আমাকে আরব কেনো হতে হবে—যদি ইসলাম কোন রিজিওনাল ধর্ম না হয়? যে সমস্যার কারণে হিন্দুরা বিশ্বকে গ্রহণ করতে পারে না আমিও যদি সেরকম আঞ্চলিক হয়ে যাই—তাহলে ইসলাম আর শ্রেষ্ঠ হলো কিভাবে?” এইসব মন্তব্যে বুলবুল সরওয়ারকে ‘ধরি মাছ না ছুই পানি’র ধার্মিক মনে না হলেও ভ্রু-কুচকানো চিন্তা তৈরী হয় খুব দ্রুতই, ব্যক্তিগত কেতাবাদি অধ্যয়নে আরবরীতি আর সুন্নাহ বা ইসলামকে পুরোপুরি পৃথক করতে পারাটা একরকম দুরুহ-ই বটে ।
তবে , বুলবুল সরওয়ারের বিস্তৃত পাঠ, জানার অদম্য স্পৃহা আর ইতিহাসের ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টির স্রোতে অবগাহন করতে করতে নিজেকে পরিমিত করে তোলা, একেবারে উজার করে কোন একদিকে ধাবিত না হওয়া আকর্ষণীয় ব্যাপার। সুযোগে সুযোগে তিনি সকল কোলাহলপূর্ণ বিশ্লেষণ বা আলাপের দিনশেষে একজন বিশ্বাসী বলেই পরিচয় দিতে সাচ্ছ্বন্দ্য বোধ করেন—“… আমি ঘুরি আর দেখি । দেখি আর ঘুরি । ঘুরি আর ক্লান্ত হই। সুন্দর একটা মসজিদ দেখে ঢুকে পড়ি। অজু করে দুরাকাত নামাজ পড়ি। শ্রান্ত মন প্রশান্ত হলে আবার বেরিয়ে পড়ি। তার আগে মসজিদের দেয়ালে উৎকীর্ণ আল্লাহু-মুহাম্মদ ক্যালিগ্রাফি দেখে দেশের কথা মনে পড়ে যায়। মালয়েশিয়ার মসজিদ থেকে মরক্কোর মাদরাসা পর্যন্ত সর্বত্র এই একই তাসবীহ । সহসা আমি দ্রবীভূত হয়ে পড়ি—হে আল্লাহ! তোমার এই বিচিত্র সৃষ্টির খুব সামান্যই আমি দেখেছি। অনাগত মানুষ আরো কত বিস্ময় তৈরী করবে, কে জানে? আমি তোমার এই বিপুল নেয়ামতকে কী করে অস্বীকার করবো? কোন যুক্তিতে ভাবব যে আমার জ্ঞানই সর্বশ্রেষ্ঠ ? আমাকে তুমি অহংকার থেকে বাঁচাও। বিনয়ী ও নতজানু করো, প্রভু আমার!”
বুলবুল সরওয়ার উপকারীর প্রতি কৃতজ্ঞ হয়েছেন, এই মার্জিত জীবনের পিছনে যাদের অবদান, শ্রদ্ধার সাথে তাদেরকে স্মরণ করছেন কিংবা একাত্তরের চেতনার নাম ভাঙিয়ে এলিটিজমের যেই শো অফ চলছে তার প্রতিও বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে একটি সুন্দর দেশের স্বপ্নে বিভোর হয়েছেন। তিনি মনে করেন, যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে যুদ্ধচলাকালীন বিভাজন টিকিয়ে রাখা একটা জাতির জন্য ক্ষতিকর অবস্থা । যুদ্ধাবস্থার পরে শত্রু-মিত্র জ্ঞান চিরকাল জিইয়ে রাখার পক্ষেও তিনি থাকতে চাননা। বুলবুল সরওয়ারকে মনে হয় গভীর ইতিবাচক মানসিকতার অধিকারী। যুদ্ধ-পরবর্তী প্রতিহিংসামূলক আচরণের সমালোচনা করেন তিনি একজন শান্তিকামী মানুষ হিসেবেই। তিনি নিজেকেও বিশ্বজনীন চিন্তায় উদ্বুদ্ধ একজন লেখক বলে মনে করেন। মেডিকেল আর সাহিত্যের এই ভিন্ন দুই বিষয়কে সফলতার সাথে একত্রিত করে বরং চিকিৎসদের জন্য ‘মানুষের মন জানা, শরীর জানাকে সাহিত্যে রূপ দিতে পারলে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সাহিত্য তাদের হাতে রচিত হবে’—এমন মন্তব্য করতে পারাটা তার ঐ কাশবনের ওপারের ফকফকে আকাশের মতো ইতিবাচক জীবনেরই একটা স্বপ্ন বলেই মনে হয়।
বড় ভাইয়ের কল্যাণে মেট্রিক পরীক্ষার আগেই পাঁচশতাধিক বই পড়া এই মানুষটি বিরতিহীন কর্মজীবনের যৌবনে নিজেকেও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বইপড়ার কাজের সাথে জড়িয়ে নিয়েছেন। আব্দুল্লাহ আবু সাঈদ , আব্দুল মান্নান তালিব, সৈয়দ আলী আহসান, কবি আল মাহমুদের মতো ব্যক্তিদের দ্বারা নিজেকে গড়ে নেয়া বুলবুল সরওয়ার তাই হয়ত শান্তিকামী, স্বপ্নচারী ও ইতিবাচক একটা লেখক সত্তায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বাঙলা সাহিত্যে।
সফরনামা ও ইতিহাসের পাশাপাশি বিশ্ব সাহিত্যে কালজয়ী রচনার অনুবাদে সুনাম অর্জন করেছেন বুলবুল সরওয়ার। এগারোটি নোবেলজয়ী বইয়ের অনুবাদ তিনি করেছেন। এছাড়াও সিরাতের উপর লিখেছেন ‘নবীজীবনের শতকথা’ নামে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একশোটি বিষয়। এছাড়াও ১১টি কাব্যগ্রন্থ ও গল্প উপন্যাস মিলিয়ে তার প্রকাশিত মোট বইয়ের সংখ্যা পঞ্চান্নটির মতো।
সাদা ও নরম মনের শান্তিকামী এই মানুষটিকে নিয়ে যখন এসব কথা বলছি তখন তিনি স্ট্রোক করে পড়ে আছেন হাসপাতালে। ব্যয়বহুল দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার খরচপাতি চালানোর মত আর্থিক অবস্থা তার নেই। আল্লাহ তায়ালা তাকে সুস্থতা দান করুক তার কাশ্মীরের আর্তনাদ কবুল করে—“… কেন জানি না, অজান্তে আমার চোখ বেয়ে নামলো অশ্রুর ধারা। যে অবরুদ্ধ আবেগকে সংযত রেখে এতক্ষণ কাশ্মীরের দুঃখে নিমজ্জিত ছিলাম, সহসা সে বেদনা যেন আমারই বুকের স্পন্দনকে করুণায় আদ্র করে দিলো। বিচলিত পায়ে আমি প্রবেশ করলাম মসজিদের ভেতর।
মিম্বরের সামনে লেখা রয়েছে: ওয়ালা তাহিনু ওয়ালা তাহযানু—তোমরা নিরাশ হয়ো না, তোমরাই বিজয়ী হবে, যদি তোমরা বিশ্বাসী হও।’ পড়তে পড়তে আমার হৃদয়ের আর্তি ছাপিয়ে উঠলো আবেগের নোনা জল। অন্তরের আকুতি ঝরে পড়লো করুণ কান্নায়—‘হে খোদা! আমাকে তুমি শক্তি দাও, সাহস দাও, আর সেই সব সত্যিকার স্বাধীন মানুষের মধ্যে আমাকেও শামিল করো, যারা শান্তি লাভের পর অতীতকে বিস্মৃত না হয়।”
