প্রতিকূল পরিবেশেও চলছে কউমি উচ্চশিক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক: দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করার পর বাড়ছে কউমি পড়ুয়াদের উচ্চশিক্ষার প্রতি আগ্রহ। এদেশের সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থায় অনার্স পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা খুঁজতে থাকেন কাঙ্ক্ষিত মানের কোন চাকরি।আর মাস্টার্স সম্পন্ন হয়ে গেলে উচ্চশিক্ষায় লেগে থাকা শিক্ষার্থীর সংখ্যা তো খুব একটা নেই বললেই চলে। এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম কউমি শিক্ষাব্যবস্থা। তাদের ধারণা দাওরায়ে হাদিস তথা মাস্টার্স সম্পন্ন করা মানেই শিক্ষাজীবন সম্পন্ন নয় বরং পড়ালেখা সবেমাত্র শুরু। এই ধারণা থেকেই শিক্ষার্থীরা ভীড় করছে উচ্চশিক্ষার কেন্দ্রগুলোতে। রাজধানী ঢাকার বেশ কয়েকটি বড় মাদরাসা ঘুরে জানা গেছে উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের ভর্তিযুদ্ধে উত্তীর্ণ হওয়ার নানা গল্প।

জামি’আ রাহমানিয়া আরাবিয়া,আলী এন্ড নূর রিয়েল এস্টেট, মুহাম্মদপুর,ঢাকা থেকে এবছর দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করা মাওলানা লুকমান হাকিম এসেছেন জামিয়া শারইয়্যাহ,মালিবাগ মাদরাসায় ভর্তি হতে। তিনি জানালেন তার উচ্ছ্বাস আর সফলতার গল্প।

লুকমান হাকিম বলেন, “ উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করা ছাত্রদের নতুন শিক্ষা বছরের শুরুতে কেমন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়,সেটা আসলে যে এর মুখোমুখি হয়নি,তাকে বুঝানো মুশকিল। ঈদের পর মাত্র একদিন বাসায় ছিলাম।সোমবারই ঢাকায় আসলাম মানসম্মত কোন দারুল ইফতায় তথা ফতওয়া বিভাগে ঠিকানা গড়তে।”

তিনি বলেন, “মারকাযুদ্দাওয়ায় লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলাম। কিন্তু এত এত প্রতিভার ভীড়ে আসলে কুলিয়ে উঠতে পারিনি বিধায় মারকাযে আমার ভাগ্য আর আলোর দেখা পায় নি। মারকাযের পরে আকড়ে ধরার মতো আর একটা প্রতিষ্ঠানই ছিল – এখানেও যথেষ্ট প্রতিযোগিতা ছিল। ওখানে ভর্তি পরীক্ষায় আলহামদুলিল্লাহ ভালোই দিয়েছিলাম। কালকে সংবাদ আসল ওখানে আমার নাম এসেছে। সকল প্রশংসা আল্লাহ তা’আলার। এই স্নায়ুচাপের সময় যারা আমাকে সাহস দিয়ে সান্ত্বনা দিয়ে দোয়া দিয়ে আমার পাশে ছিলেন,তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা।”

লুকমান হাকিমের মতো এরকম হাজারো প্রতিভাধর ছাত্ররা সারা দেশ থেকে রাজধানী ঢাকায় আসছে
তাখাসসুস ফিল ফিকহি ওয়াল ইফতা, তাখাসসুস ফিল উলুমিল হাদীস, তাখাসসুস ফি উলুমিল কুর’আন, কিসমুল্লুগাহ (আরবী সাহিত্য), কিসমুদ দাওয়াহ ওয়াল ইরশাদ, তাখাসসুস ফিস সিরাহ(ইতিহাস) ইত্যাদি বিভাগে উচ্চশিক্ষা অর্জনের স্বপ্ন নিয়ে। তাদের অনেকের দাবী মানসম্পন্ন পর্যাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভাব রয়েছে বিধায় সকলে পাচ্ছে না তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাবার সুপ্রশস্ত পথ।এমনকি হাতেগুনা যে কয়টা ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে সেগুলোতেও নেই পর্যাপ্ত থাকার ব্যবস্থা। নেই উন্নত কোন ছাত্রাবাস।প্রতিষ্ঠান ও আবাসন সংকটই যেন এ অঙ্গনের পরিচিত রূপ। তাছাড়া প্রতিবেশি রাষ্ট্র ভারতের দেওবন্দ মাদরাসা, পাকিস্থানের করাচি মাদরাসাসহ ইত্যাদি বড় বড় মাদরাসাগুলোতে গিয়েও যে পড়াশোনা করা যাবে সেই সুব্যবস্থাও এদেশ থেকে করে দেয়া হয় না শিক্ষার্থীদের জন্য। শিক্ষা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলের এরকম অবহেলার অবসান চান মেধাবী এসব শিক্ষার্থীরা।