সাড়ে ৭ কোটি পরিবারে মোদির চিঠি দিতে প্রিন্টিংয়েই খরচ ১৬ কোটি

ফাতেহ ডেস্ক

ভারতের আগামী লোকসভা নির্বাচন নিয়ে যখন ভারতের রাজনৈতিক মঞ্চ উত্তাল, ঠিক এ সময়ে প্রায় সাড়ে সাত কোটি পরিবারে ব্যক্তিগতভাবে চিঠি পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সরকারের ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্পের একটি আয়ুষ্মান ভারতের প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনার (পিএমজেএওয়াই) ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষে এ চিঠি পাঠানোর দাবি করলেও বিরোধী দলগুলোর কড়া সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছে কেন্দ্র সরকার।

ওই চিঠিতে মোদি সরকারের অন্যান্য প্রকল্পেরও উল্লেখ রয়েছে এবং এ বিশাল কর্মযজ্ঞে শুধু প্রকাশনা খরচই দাঁড়িয়েছে ১৫ কোটি ৭৫ লাখ রুপি। চিঠি দ্রুততম সময়ের মধ্যে পাঠানোসহ আনুষঙ্গিক অন্যান্য খরচ মিলিয়ে মোট খরচ কত হতে পারে, সে বিষয়ে সমালোচনা করছে বিরোধী দলগুলো। খবর এনডিটিভি।

আগামী লোকসভা নির্বাচন ঘনিয়ে আসার পরিপ্রেক্ষিতে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী মোদি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, নির্বাচনের আগেই তার লিখিত চিঠি পৌঁছে যাবে দেশের কোটি কোটি নাগরিকের বাড়িতে। তার সরকারের নেয়া ‘আয়ুষ্মান ভারত-পিএম জন আরোগ্য যোজনা’ বিশ্বের বৃহত্তম সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য প্রকল্প। প্রকল্পটির ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষে লেখা মোদির চিঠি প্রিন্ট করতেই প্রায় ১৬ কোটি রুপি ব্যয় হচ্ছে।

প্রতিটি প্রদেশের স্থানীয় ভাষায় লেখা চিঠিতে মোদি বলেন, ‘আমি আমার জীবনে দারিদ্র্যকে খুব কাছ থেকে দেখেছি। দরিদ্রদের তাদের দুরবস্থা থেকে মুক্তি দেয়ার একটাই উপায়। তা হলো তাদের ক্ষমতায়িত করে তোলা।

সে কারণেই যেদিন থেকে দেশের সাধারণ মানুষ আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করেছে, সেদিন থেকেই আমার লক্ষ্য হলো দরিদ্র, সাধারণ মানুষ এবং নারীদের ক্ষমতায়িত করে তোলা। বাড়ি নির্মাণ থেকে শুরু করে যুব সমাজকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা পর্যন্ত বহু প্রকল্পই আমরা অতি সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে পেরেছি। শিক্ষা থেকে স্বাস্থ্য পর্যন্ত সব বিভাগই সেই কাজের ছাপ বহন করে চলেছে।’

প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা দিয়ে চিঠিটি শেষ করার আগে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, প্রধানমন্ত্রী উজালা যোজনা, সৌভাগ্য প্রকল্প, প্রধানমন্ত্রী জীবনজ্যোতি বীমা যোজনা এবং অন্যান্য প্রকল্পের বিষয়ে ওই বিশেষ চিঠিটিতে বিস্তারিত উল্লেখ করেছেন মোদি।

নির্বাচনের আগে লেখা এ চিঠি নিয়ে সরব হয়েছেন বিরোধীরা। সিপিএম সংসদ সদস্য এমবি রাজেশ বলেন, ‘স্বাস্থ্যবীমা প্রকল্প নিয়ে যে চিঠিটি লেখার কথা, তাতে প্রধানমন্ত্রী তার আমলের অন্যান্য প্রকল্পের ফিরিস্তিও দিয়ে দিচ্ছেন।

এটা নির্বাচনী প্রপাগান্ডা ছাড়া আর কিছুই নয়। এছাড়া দ্রুত ডাকে প্রতিটি চিঠি পাঠাতে গেলে চিঠিপিছুই খরচ পড়বে ৪০ রুপি। মোট চিঠির সংখ্যা সাড়ে সাত কোটি। হিসাব করে দেখুন, কত কোটি টাকা খরচ হবে শুধু চিঠির জন্য। অথচ প্রধানমন্ত্রীর এই স্বাস্থ্যবীমা প্রকল্পটি ২ হাজার কোটি টাকার আশপাশেই। প্রশ্ন হলো, এত এত টাকা আসছে কোথা থেকে?’

অবশ্য বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ অস্বীকার করে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের প্রধান নির্বাহী (সিইও) ইন্দু ভূষণ এনডিটিভিকে বলেন, এটা নির্বাচনী প্রচারণা নয়। বহু মানুষ এখনো এই স্বাস্থ্যবীমা প্রকল্প সম্পর্কে অবগত নয় বলেই এ চিঠির মাধ্যমে তাদেরকে প্রকল্পটির ব্যাপারে জানানোর প্রয়োজন মনে করছে সরকার।

আগের সংবাদএরশাদের অঢেল সম্পত্তির ভাগ-বাটোয়ারা হলো যেভাবে
পরবর্তি সংবাদওয়াশিংটন ও তালেবানের মধ্যে চুক্তি প্রায় সম্পন্ন, খসড়া প্রস্তুত