ইসলামি দলগুলো বিশাল মরুভূমিতে ক্ষুদ্র বালিকণায় পরিণত হয়েছে : মুফতী ওয়াক্কাস

ওমর ফারুক

মুফতি মো: ওয়াক্কাস। একজন প্রবীণ ইসলামি রাজনীতিবিদ। দুই বারের সাবেক সংসদ সদস্য ও একবারের ধর্মপ্রতিমন্ত্রী। দেশের সর্বজন শ্রদ্ধেয় একজন আলেম। উপমহাদেশের প্রাচীনতম ইসলামি সংগঠন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব ছিলেন দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি। দল ভেঙ্গে যাওয়ায় বর্তমানে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের একাংশের আমীর। হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমীর। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি ২০ দলের পক্ষ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী। ফাতেহ২৪ এর পক্ষ থেকে নির্বাচন নিয়ে কথা হয়েছিল দেশের এ প্রবীণ রাজনীতিবিদের সঙ্গে। যার রয়েছে ইসলামি রাজনৈতিক অঙ্গনে সাফল্যের সোনালী ইতিহাস।

বিশ দলের পক্ষ থেকে তার দল ও নিজের মনোনয়নের ব্যাপারে কী বলা হয়েছে? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করতে চাচ্ছি না। তবে আমরা বর্তমানে মেজরিটি থেকে মাইনোরিটিতে পরিণত হয়েছি। আমাদের ইসলামি দলগুলোর বিশাল মরুভূমিতে ক্ষুদ্র বালিকণার মতো অবস্থা। আমাদের অনেকেই বিশ দলের সঙ্গে যুক্ত ছিল। ঐক্যজোট বের হয়ে গেছে তারা হয়তো খুব একটা স্বস্তিতে নেই। এখন খেলাফত মজলিসের একটি অংশ এরশাদের সঙ্গে চলে গেছে তাদেরও স্বস্তি নেই, খেলাফত আন্দোলনের একটি আসনও নেই যে তারা নির্বাচনে জয়ী হয়ে আসতে পারবে। কাজেই আমরা ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্র জনশক্তিতে পরিণত হয়েছি।’

ইসলামী দলগুলোর এ পরিস্থিতিটি কেন তৈরি হলো বলে আপনি মনে করছেন? এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ঐক্যফ্রন্ট ও বিশ দলের ব্যানারে বিশেষ বিশেষ ব্যক্তিত্ব, সাবেক সামরিক অফিসাররা, সাবেক সচিবরা ও বিভিন্ন ধরণের সামাজিক ব্যক্তিত্ব ও বুদ্ধিজীবীরা আসার ফলে এ পরিস্থিতিটি তৈরি হয়েছে। এছাড়া ঐক্যফ্রন্ট ও বিশ দলের একটি গুণগত মানও হয়েছে। আর আমাদের ইসলামি দলগুলো বিশ্ব ইসলামি রাজনীতির মতোই পরিণতি ভোগ করছে। বিশ্বের কোথাও ইসলামের নামে ইসলামি দল ভালো অবস্থানে নেই। তুরস্কে এরদোগানের দলও ইসলামের নামে নেই। তারপরও তারা কাজ করছে। ব্যক্তিত্ব ও অনুভূতির ফলে সে ইসলামের পক্ষে কাজ করছে। এছাড়া একটাই শক্তি ছিল সেটা তালেবান। এটাকেও বিন লাদেন প্রোপাগান্ডা দিয়ে তছনছ করে দেওয়া হয়েছে। এটাই হচ্ছে বাস্তবতা। আমাদের নিজেদেরও মত পথের ভিন্নতা তৈরি হয়ে গেছে। আমরা রাজনীতিকে গুছিয়ে আনতে পারি নাই এটা আমাদের দুর্বলতাই।’

তিনি বলেন, ‘আমি চেয়েছিলাম ইসলামি দলগুলো একজোটে আসুক। কিন্তু এটা সম্ভব হয়নি। তবে আমরা ভবিষ্যতেও আশাবাদি যেন অন্তত কাছাকাছি আসা যায়।’

নির্বাচনকে কেন্দ্র করেও ইসলামি দলগুলো এক হতে পারে না কেন? এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটাই হওয়ার প্রয়োজন ছিল, এটাই দরকার। আপনি পাকিস্তানে দেখবেন মাওলানা ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে সকল দল একজোটে ছিল। এ জোট শক্তিধরও হয়ে উঠেছিল। কিন্তু আমি মনে করি এবারের নির্বাচন হয়েছে সেনাবাহিনীর ছত্রছায়ায় ও বিদেশি শক্তির পরিকল্পনায়। সেখানকার ইসলামি শক্তিকে এবারের নির্বাচনে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে।’

মনোনয়ন পেলে আপনার এলাকার মানুষদের প্রতি আপনার প্রতিশ্রুতি কী থাকবে? এ বিষয়ে মুফতী ওয়াক্কাস বলেন, ‘আজ পর্যন্ত আমি আমার এলাকার মানুষদের কোনো প্রতিশ্রুতি দেইনি। আমি তিনবার পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচিত হয়েছি। ২০০৮ এর নির্বাচনে আমি ভোটে পাস করা সত্ত্বেও আমাকে ঠকিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কোনো প্রতিশ্রুতি দিয়ে আমি এসব নির্বাচনে জয়ী হইনি। আমি এটা করবো, সেটা করবো কোনোদিনও বলিনি, উচ্চারণও করিনি। আমার এলাকার মানুষ এতেই আস্থাবান যে হুজুরকে কিছু বলা লাগবে না। আমি তাদেরকে সেভাবেই গড়ে তুলেছি। মানুষকে কাজ করে দেখিয়েছি। আমি দেখবো বললেই কাজ হয়ে গেছে। কাজ ও ভালোবাসা দিয়ে মানুষের মন জয় করেছি।’

তিনি বলেন, ‘আমি এতবার এমপি হওয়ার পরও আমার পৈত্রিক সম্পত্তিতে যা ছিল তাই রয়েছে। এর বেশি বাড়েনি। পৈত্রিক সম্পত্তির বাইরে দেশের কোথাও আমার সম্পত্তি নেই। ঢাকাতেও মাদরাসায় থাকি।’

সাংসদ নির্বাচিত হলে আপনি ভবিষ্যতে ইসলামের জন্য আর কী কী করবেন? তিনি বলেন, ‘ক্ষমতায় গেলেও আমরা ইসলামের জন্য কাজ করি, ক্ষমতায় না থাকলেও আমরা ইসলামের জন্য কাজ করি। ইসলামের জন্য কাজ করার জন্য ক্ষমতায় যাওয়া শর্ত নয়। ইসলামের পক্ষে কথা বলার জন্য এখনো আমার নামে ২৭ টি মামলা রয়েছে। তবুও তো পিছু হটিনি কোনোদিন। তবে ইসলামি শক্তিগুলো কাছাকাছি থাকা দরকার এটা খুব অনুভব করি। এ বিষয়ে ভবিষ্যতে আরও নতুন করে উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

আগের সংবাদগোপালগঞ্জ ও রংপুর থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন প্রধানমন্ত্রী
পরবর্তি সংবাদপক্ষপাতদুষ্ট ডিসি-এসপিদের বদলি চায় ২০ দল