নারী বৈষম্য দূরিকরণের নামে অশ্লীলতার প্রসার

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাসূল স. এর আগমনের পূর্ব হতে নারীবিদ্বেষী বর্বর যে যুগের কথা ইতিহাস জানান দেয় তা এই যুগে এসে ভাবতেও শিহরিত হতে হয় এখনো। কল্পনা করা যায় না নারীদের প্রতি কতোটা বিদ্বেষ ও ঘৃণা থাকলে পরে একজন পিতা তার নিজ কন্যাকে জীবন্ত পুতে ফেলতে পারে! পৃথীবির যখন এই অবস্থা তখন কোন সে ফর্মূলা নিয়ে আবির্ভূত হলেন বিশ্ব মানবতার শাহেন শাহ হযরত মুহাম্মদ স. ? তাঁর কোন সে নীতির অনুসরণে মানুষ জেনেছিলো “মায়ের পদতলে সন্তানের বেহেশত”! রাসূল স. এর আল্লাহ প্রদত্ত অনুপম শিক্ষা, সুচিন্তিত ও সুদূর প্রসারি নীতিমালা প্রণয়ন মানুষকে বের করে এনেছিলো বর্বরতা থেকে আলোর এক প্রশস্ত পৃথীবিতে। যুগ যুগ ধরে মানুষ তাঁর আদর্শ আকড়ে থেকে নারীকে দিয়ে এসেছে সর্বচ্চো সম্মান। এভাবেই যখন মানুষেরা প্রকৃত মনুষ্যত্ব নিয়ে জীবন যাপনে অভ্যস্ত তখন অভিশপ্ত শয়তানের প্ররোচনায় আবারো কিছু মানুষ নারীকে বেছে নিয়েছে ভোগবাদি পণ্যের পসরা সাজাতে। আজ পথে ঘাটে নারী স্বাধীনতার শ্লোগানে রাস্তায় নামাচ্ছে পরম মমতাময়ী মা আর স্নেহাস্পদ বোনকে। টেলিভিসন, বিলবোর্ড আর খবরের কাগজে বিজ্ঞাপনের মডেল করে নারীকে করছে নগ্নতার বলিদান।

প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংলিশে অনার্স মাস্টার্স করে  অন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা পেশায় নিজেকে ১০ বছর ধরে নিয়োজিত রাখা স্যার জয়নুল আবেদিন (ছদ্মনাম) তার ক্লাসে ছাত্রদের সামনে বড় আক্ষেপ করে বলেছিলেন “ নিজের জায়গা থেকে নেমে এসে প্রসঙ্গক্রমে কখনো বলতে বাধ্য হই- নগ্নপ্রায় পোষাকে রাস্তায় নামা যদি হয় নারীর স্বাধীনতা আর তার বিরুদ্ধে কিছু বলা যদি হয় নারী-স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ তবে নারী দেহে প্রদর্শিত যৌবন-রূপে মুগ্ধ হয়ে বস্ত্রহরণ কেন নয় পুরুষের স্বাধীনতা!”

নারী-পুরুষের বৈষম্য দূরিকরণের নামে নগ্নতা আর অশ্লিলতা যদি আর কিছু কালব্যাপি এভাবেই চলতে থাকে তবে নবীযুগের পূর্বকার সেই বর্বরতা পুনরায় নেমে আসা কেউ আটকাতে পারবে কি না তাই বিবেচনার বিষয়।