
ফাতেহ ডেস্ক
সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, রাজধানীর চকবাজারের চুড়িহাট্টায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় যারা সরকারে আছেন তাদের সবাইকে দায় নিতে হবে। মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালের বার্ন ইউনিটে চকবাজারের অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধদের দেখতে গিয়ে এমন মন্তব্য করেন সাবেক এই মন্ত্রী।
মোহাম্মদ নাসিমের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের নেতারা বার্ন ইউনিট যান। অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধদের খোঁজ-খবর নেয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
এসময় মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বল প্রয়োগ করে হলেও পুরান ঢাকা থেকে কেমিক্যালের ব্যবসা সরাতে হবে। জনস্বার্থে কোনো কম্প্রোমাইজ করা যাবে না। চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডের দায় সবার। যারা সরকারে আছে সবাইকে এ দায় নিতে হবে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি।
চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও দুর্ভাগ্যজনক মন্তব্য করে নাসিম বলেন, নিমতলীর পর এই ঘটনায় আমরা আবারো অনেকগুলো মানুষকে হারিয়েছি। আমি এখানে দগ্ধদের সাথে দেখা করেছি। ঢামেক বার্ন ইউনিটের চিকিৎসকরা অত্যন্ত যত্নসহকারে তাদের চিকিৎসা করছেন। যারা এখনো লড়াই করছেন, আশা করছি তারা দ্রুত সুস্থ হয়ে যাবেন।
নাসিম জানান, কেমিক্যালের ব্যবসা কোনোভাবেই পুরান ঢাকার ঘনবসতি এলাকায় থাকতে পারে না। এখন আমাদের উচিত হবে দ্রুততম সময়ে অর্থাৎ তিন মাসের মধ্যে এই কেমিক্যাল ব্যবসাকে কেরানীগঞ্জের নির্ধারিত স্থানে স্থানান্তর করা। এক্ষেত্রে কোনো কম্প্রোমাইজ করা যাবে না। জনগণের স্বার্থে প্রয়োজনে বল প্রয়োগ করে হলেও তাদের সরিয়ে দিতে হবে। প্রয়োজনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা নিতে হবে। এসময় তিনি অর্থলোভী ব্যবসায়ীদের কাছে মানবতা আজ লুণ্ঠিত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাতের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৬৭ জন পুড়ে মারা যান। এই ঘটনায় দগ্ধ হন আরো অনেক। তাদের মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। পরে তাদের মধ্যে থেকে গতকাল সোমবার আনোয়ার হোসেন ও সোহাগ নামের এই দুইজনের মৃত্যু হয়। এর ফলে ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা ৬৯ জনে দাঁড়াল।
চকবাজারের নন্দকুমার দত্ত রোডের শেষ মাথায় চুড়িহাট্টা শাহী মসজিদের পাশে ৬৪ নম্বর হোল্ডিংয়ের ওয়াহিদ ম্যানশনে ওই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। আবাসিক ভবনটিতে কেমিক্যাল গোডাউন থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে, ২০১০ সালের ৩ জুন পুরান ঢাকার নিমতলীতে রাসায়নিক গুদামে আগুন ধরে ১২৪ জন নিহত হয়েছিলে। এরপরই পুরান ঢাকা থেকে রাসায়নিক গুদাম সরিয়ে নেয়ার কথা থাকলেও সেটা করা হয়নি।
এইচআর/
