প্রত্যাবাসন শুরু নিয়ে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব

ফাতেহ ডেস্ক: সীমান্তে গুলিবর্ষণ করে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্থ করায় উষ্কানি দেয়ার প্রতিবাদ জানাতে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত লুইন উ-কে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়েছে।

ভবিষ্যতে এ ধরনের উষ্কানিমূলক ঘটনা থেকে বিরত থেকে মিয়ানমারের কাছে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ জানতে চেয়েছে বাংলাদেশ।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (দক্ষিণ এশিয়া) দেলোয়ার হোসেন বুধবার দুপুরে রাষ্ট্রদূত লুইন উ-কে ডেকে পাঠান। তিনি গত রোববার কক্সবাজারের বালুখালি সীমান্তে মিয়ানমার নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে একজন বাংলাদেশী ও একজন রোহিঙ্গা আহত হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে রাষ্ট্রদুতের কাছে একটি নোট ভারবাল দেন।

এ সময় রাষ্ট্রদূত জানান, মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী নয়, কোনো দুষ্কৃতকারী এ ঘটনা ঘটিয়েছে। দেলোয়ার হোসেন এ কথার সাথে দ্বিমত পোষণ করে বলেন, মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর একটি নির্দিষ্ট বর্ডার আউটপোস্ট (বিওপি) থেকে তিন দফায় ৪১ রাউন্ড গুলি ছোড়ার সুনির্দিষ্ট তথ্য বাংলাদেশের হাতে রয়েছে। এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা হতে পারে না। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনকে বাধাগ্রস্থ করতে মিয়ানমার ইচ্ছাকৃতভাবে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

গত ৩০ অক্টোবর ঢাকায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-মিয়ানমার যৌথ কারিগরি গ্রুপের (জেডাব্লিউজি) বৈঠকে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করার সিদ্ধান্ত হয়। এ জন্য বাংলাদেশ যাচাই-বাছাই করা দুই হাজার ২৬০ জন রোহিঙ্গার তালিকা মিয়ানমারকে দেয়। জেডাব্লিউজি বৈঠকে নেতৃত্ব দেয়া মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিব কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের সাথে দেখা করে তাদের প্রত্যাবাসনের জন্য উৎসাহিতও করেন।

জেডাব্লিউজির বৈঠকে প্রত্যাবাসন শুরুর নির্দিষ্ট দিনক্ষণ শিগগির জানানোর কথা থাকলেও মিয়ানমার এখনো তা বাংলাদেশকে অবহিত করেনি। উল্টো বিনা উষ্কানিতে সীমান্তে গুলিবর্ষণ করে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করছে। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করা নিয়ে মিয়ানমারের সদিচ্ছার প্রশ্ন উঠেছে।