‘কওমী সনদের সমমান ও অবদান’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত-সমমান প্রদানে ইসলামী ঐক্যজোটের অভিনন্দন

ফাতেহ২৪ ডটকম ডেস্কঃ

বিগত ১৩.০৮.২০১৮ ইং তারিখে মন্ত্রী পরিষদের সভায় কওমী ধারার শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে সম্পৃক্ত বিশাল জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত কওমী মাদরাসার সর্বোচ্চ স্তর দাওরায়ে হাদীস (তাকমীল)-এর মাস্টার্স ডিগ্রি (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি)-এর সমমানের আইনটি অনুমোদিত হয়েছে। শুকরিয়া-আলহামদুলিল্লাহ! কওমী ধারার শিক্ষা ব্যবস্থার অগ্রসরতার ক্ষেত্রে নিঃসন্দেহে এটি একটি যুগান্তকারী ও ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত। আমরা প্রত্যাশা করতেই পারি যে, জাতীয় সংসদে উত্থাপনের মাধ্যমে এটিকে আইনে পরিণত করার চূড়ান্ত ধাপ সম্পন্ন হওয়া এখন শুধুই সময়ের ব্যাপার।

আজ বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় লালবাগস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ইসলামী ঐক্যজোট আয়োজিত ‘কওমী সনদের স্বীকৃতি ও অবদান’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা উপরোক্ত কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন জোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ইসলামী ঐক্যজোট মহাসচিব মুফতী ফয়জুল্লাহ। আরো বক্তব্য রাখেন সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা আবুল হাসানাত আমিনী, মাওলানা আবদুল হামিদ পীর সাহেব মধুপুর, ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুর রশিদ মজুমদার, ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা যোবায়ের আহমদ, ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা জসিমউদ্দিন, ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাওলানা এহতেশাম সারওয়ার, যুগ্ম মহাসচিব মুফতী তৈয়্যব হোসাইন, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আবুল কাশেম,যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা শেখ লোকমান হোসাইন, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আহলুল্লাহ ওয়াছেল,  যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা জিয়াউল হক মজুমদার, সাংগঠনিক সচিব মুফতী সাখাওয়াত হোসাইন, সহকারী মহাসচিব মাওলানা ফারুক আহমদ, মাওলানা গাজী ইয়াকুব, একেএম আশরাফুল হক, দফতর সম্পাদক মাওলানা রিয়াজতুল্লাহ, ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা আনসারুল হক ইমরান প্রমুখ।

‘কওমী সনদের সমমান ও অবদান’ শীর্ষক আলোচনা সভায়
ইসলামী ঐক্যজোট মহাসচিব মুফতী ফয়জুল্লাহ-এর লিখিত বক্তব্যের চুম্বকাংশ

বিগত ১৩.০৮.২০১৮ ইং তারিখে মন্ত্রী পরিষদের সভায় কওমী ধারার শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে সম্পৃক্ত বিশাল জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত কওমী মাদরাসার সর্বোচ্চ স্তর দাওরায়ে হাদীস (তাকমীল)-এর মাস্টার্স ডিগ্রি (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি)-এর সমমানের আইনটি অনুমোদিত হয়েছে। শুকরিয়া-আলহামদুলিল্লাহ! কওমী ধারার শিক্ষা ব্যবস্থার অগ্রসরতার ক্ষেত্রে নিঃসন্দেহে এটি একটি যুগান্তকারী ও ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত। আমরা প্রত্যাশা করতেই পারি যে, জাতীয় সংসদে উত্থাপনের মাধ্যমে এটিকে আইনে পরিণত করার চূড়ান্ত ধাপ সম্পন্ন হওয়া এখন শুধুই সময়ের ব্যাপার।

সময়ের এই প্রয়োজনীয়, প্রত্যাশিত ও সাহসী সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে জানাচ্ছি আন্তরিক অভিনন্দন,মুবারকবাদ ও কৃতজ্ঞতা। সেইসাথে মন্ত্রী পরিষদ সদস্যবর্গ, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সামরিক উপদেষ্টা, সামরিক সচিব, সচিব ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা, কর্মচারিদের ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানাচ্ছি। কৃতজ্ঞতা ও মুবারকবাদ জানাচ্ছি আমীরে হেফাজত, শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী দা.বা. এবং দেশের শীর্ষ উলামা মাশায়েখের প্রতি, যাঁদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা, সময়োপযোগী পদক্ষেপ ও হেকমতপূর্ণ মেহনতের ফলশ্রুতিতেই এই সাফল্য আজ চূড়ান্ত বাস্তবতার আলো দেখতে পাচ্ছে।

কল্যাণধর্মী অহীর শিক্ষা বিস্তার, দ্বীনি তালিম-তারবিয়াত, মানবিকতাপূর্ণ মূল্যবোধচর্চাএবং নৈতিকসেবা দানের অনন্য সুতিকাগার এই কওমী ধারার শিক্ষা ব্যবস্থার সমমান-এর আইনের খসড়া অনুমোদন বাংলাদেশের উন্নতি ও অগ্রগতির ক্ষেত্রে স্মরণযোগ্য মাইলফলক হয়ে থাকবে। এই সমমান প্রদান কেবল কওমী ধারার শিক্ষার ক্ষেত্রেই প্রত্যাশার প্রাপ্তিই নয়, বরং তা বাংলাদেশের উন্নতি অগ্রগতির ক্ষেত্রে অনবদ্য ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে বাংলাদেশের শিক্ষিতের হার বৃদ্ধিতে অকল্পনীয় প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে সন্দেহ নেই; বহির্বিশ্বেও বাংলাদেশের সুনাম বৃদ্ধি করবে। আমরা মনে করি, এর দ্বারা কওমী শিক্ষায় শিক্ষিতদের এই বিশাল জনগোষ্ঠী দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বের সুরক্ষা, দেশের হেফাজত, যাবতীয় অপশক্তির কবল থেকে দেশ ও জনগণকে রক্ষা ও দেশ গঠনের কাজে সমানভাবে ও সমানতালে অংশ গ্রহণের দ্বার উম্মোচিত হবে।

এই মানপ্রদানের কার্যক্রমের অভাবনীয় অগ্রসরতার ক্ষেত্রে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকাকে আমরা কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি। বিভিন্ন পর্যায়ে আমরা জানতে পেরেছি যে, সনদের মান প্রদানের পেছনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একক সিদ্ধান্ত, দায়িত্ব ও দরদপূর্ণ মনোযোগ ছিল সবচেয়ে বেশি। বিশেষত: কওমী মাদরাসার অনুসৃত নীতিমালা ও সিলেবাস অক্ষুন্ন, সব রকম প্রশাসনিক কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত রেখে কওমী মাদরাসার সূতিকাগার দারুল উলূম দেওবন্দের মৌলিক নীতিমালাকে ভিত্তি ধরে সমমান কার্যক্রম এগিয়ে নেয়ার প্রশ্নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পরিপূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতার হাত সম্প্রসারিত করেছেন এবং প্রজ্ঞাপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। আমরা আরও জানতে পেরেছি, তিনি বলেছেন, শুধুমাত্র পরকালীন জীবনের কল্যাণের আশায় এই মুবারক কাজটি করেছেন। আমরা বিশ্বাস করি, তাঁর এহেন নিষ্ঠার কারণে তিনি ইহ ও পরকালীন জীবনে এর সর্বোত্তম প্রতিদান পাবেন ইনশাআল্লাহ। এবং বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ আলেম উলামা, ছাত্র শিক্ষক তাঁর এই বদান্যতার কথা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ রাখবে।

কওমী সনদের সমমানের এই অবিস্মরণীয় প্রাপ্তির ইতিহাস সংক্ষিপ্ত সময়ে বা খুব সহজ উপায়ে রচিত হয়নি। এর পেছনে রয়েছে সুদীর্ঘ ইতিহাস, বহুমনীষী ও ব্যক্তিত্বের সীমাহীন মেহনত, রাজপথের রক্ত ঝরানো বহু আন্দোলন, সংগ্রাম, অসংখ্য আল্লাহ প্রেমিকের অশ্রু, ঘাম, রক্ত ও আল্লাহর দরবারে অহর্নিস কান্নাকাটি। শায়খুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক রহ. ও বাংলার সিংহশার্দুল, মুজাহিদে মিল্লাত মুফতী ফজলুল হক আমিনী রহ.-এর রাজপথ কাঁপানো অসংখ্য আন্দোলন, দাবী আদায়ের অনন্য ব্যকুলতা নিয়ে দেশময় ছুটে বেড়ানো, জাতীয় মসজিদ বায়তুল মুকাররমের সাবেক খতীব মাওলানা ওবায়দুল হক রহ.র প্রজ্ঞাপুর্ণ ভূমিকা, মাসিক মদীনা সম্পাদক মাওলানা মুহিউদ্দীন খান রহ.-এর ব্যক্তিত্ব ও মস্তিস্কের ব্যবহার, হজরত মাওলানা হাজী ইউনুস রহ.,হজরত মাওলানা নুরুদ্দীন গওহার পূরী রহ, হজরত মাওলানা আবদুল জব্বার রহ.সহ অনেক আকাবির উলামার সীমাহীন ফিকির মেহনত ও প্রচেষ্টার অনবদ্য ফসল আজকের এই সমমান। ঐতিহাসিক এই ক্ষণে আমরা প্রত্যেকের অবদান ও ভূমিকাকে শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা ও গর্বের সাথে স্মরণ করছি।