আলিয়া মাদরাসার পাঠ্যপুস্তকে ছড়িয়ে আছে সাহাবা-বিদ্বেষ

ফাতেহ ডেস্ক

বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তর শিক্ষাধারা আলিয়া মাদরাসার পাঠ্যপুস্তকে বেশ কয়েকজন উঁচু পর্যায়ের সাহাবায়ে কেরামের ব্যাপারে অসম্মানজনক ও মিথ্যা অপবাদ আরোপ করা হয়েছে। বিজ্ঞজনেরা মনে করছেন, ইসলামের চিরশত্রু প্রাচ্যবিদদের রচনাবলী থেকে এ প্রক্রিয়া সংক্রমিত হয়েছে।

এ ব্যাপারে ইসলামি ঘরানার প্রথিতযশা লেখক ও অনুবাদক মাওলানা আবদুল্লাহ আল ফারুক আজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর একটি পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন।

Image may contain: text

আলিয়া মাদরাসার দশম শ্রেণীর ইসলামের ইতিহাস বইটি ঘেটে তিনি কয়েকজন প্রসিদ্ধ সাহাবায়ে কেরামের ব্যাপারে চরম বেয়াদবিমূলক কথা এবং তাঁদের সম্পর্কে মিথ্যা ইতিহাসের বর্ণনা পেয়েছেন। আলোচ্য বইয়ের সমস্যাপূর্ণ পৃষ্ঠাগুলোর সমস্যাপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে এর ছবিও প্রকাশ করেছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

তিনি জানিয়েছেন, ‘এ বইয়ে বিখ্যাত সাহাবি হযরত মুআবিয়া রাদি. ও হযরত আমর ইবনুল আস রাদি.-এর চরিত্রহনন করা হয়েছে খুবই নির্মম শব্দে। এক জায়গায় উম্মুল মুমিনিন হযরত আয়েশা রাদি.-এর সম্পর্কে বিষোদগারও করা হয়েছে।

Image may contain: text

‘হযরত মুআবিয়া রাদি.কে ‘স্বার্থন্বেষী’ ‘সম্পদলোভী’ ‘ক্ষমতালোভী’ ‘উচ্চাভিলাষী’ ‘স্বার্থপর’ ‘ঔদ্ধত’ ‘জঙ্গি মনোভাবাপন্ন’ ‘চক্রান্তকারী’ ‘পরিস্থিতি ঘোলাটেকারী’ ‘অপরাজনীতিবিদ’ ‘ভোজবাজ’ ও ‘নিকৃষ্টতম শঠ’ বলা হয়েছে। ঠিক এই বিশেষণগুলোই তাঁর সম্পর্কে এ বইয়ে প্রয়োগ করা হয়েছে। দেখুন, বইয়ের 149, 151, 152, 153 ও 154 পৃষ্ঠা। শুধু তাই নয়, যেখানে অন্য সাহাবির নামের পর ‘রাদি.’ দুআ এসেছে, সেখানে সতর্কতার সঙ্গে মুআবিয়া রাদি. এর নামের পর ‘রাদি.’ ব্যবহার করা হয়নি।

Image may contain: text

‘এর পাশাপাশি আলোচিত পৃষ্ঠাগুলোর নানা স্থানে হযরত আমর ইবনুল আস রাদি.-কে ‘ছলচাতুরিকারী’ ‘চক্রান্তকারী’ ‘ধূর্ত’ ‘হঠকারী’ ‘বিশ্বাসঘাতক’ ও ‘কপট’ বলা হয়েছে। যখনই তাঁর নাম এসেছে, সঙ্গে সঙ্গে বিশ্লেষণ হিসেবে ‘ধূর্ত’ শব্দ প্রয়োগ করা হয়েছে, নির্মমভাবে। তাঁর নামের সঙ্গেও ‘রাদি.’ দুআ বর্জন করা হয়েছে।

‘এমনকি এ বইয়ে জঙ্গে জামালের কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, হযরত আয়েশা রাদি. হযরত আলি রাদি. এর প্রতি পূর্বশত্রুতা ও পূর্ববিদ্বেষপূর্ণ মনোভাব থেকে এই যুদ্ধ বাঁধিয়েছেন। দেখুন, পৃষ্ঠা নম্বর 149।’

Image may contain: text

মাওলানা আবদুল্লাহ আল ফারুক এই বিকৃতির কথা তুলে ধরে বাংলাদশের উলামায়ে কেরামের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেছেন, ‘আমি আশা করছি, উলামায়ে কেরাম বিষয়টির ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন হবেন এবং বাংলাদেশ সরকারের কাছে বিষয়টির ভয়াবহতা তুলে ধরবেন।

Image may contain: text

তিনি আরও বলেছেন, ‘আমি সময়ের অভাবে পুরো বই পড়ার সুযোগ পাইনি। আলিয়ার সিলেবাসের অন্যান্য বইগুলো পড়ার সুযোগও হয়ে ওঠেনি। একটি বইয়ের পাঁচ-ছয়টি পাতায় যদি এমন বিষাক্ত আলোচনা থেকে থাকে তাহলে পুরো সিলেবাসের যত্রতত্র আরো ভয়াবহ ঈমানবিধ্বংসী আলোচনা থাকা অসম্ভব নয়। আমি মনে করি, আহলে সৃুন্নাহ ওয়াল জামাআহর অনুসারী হিসেবে নিজ নিজ অবস্থান থেকে বিষয়টি সম্পর্কে প্রতিবাদ-প্রতিকার করা এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টির অসঙ্গতি তুলে ধরে অনতিবিলম্বে পাঠ্যপুস্তক সংশোধন করা আমাদের সবার ঈমানি দায়িত্ব।’

হামমাদ রাগিব/