
ওমর ফারুক
বিদেশি বিভিন্ন এনজিও সংস্থার তৎপরতায় হুমকির মুখে রয়েছে কক্সবাজারের টেকনাফ-উখিয়ায় শরণার্থী শিবিরে থাকা প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা মুসলমানের ধর্মীয় জীবন। সেইসঙ্গে তাদের দুর্বল অবস্থার সুযোগ নিয়ে পশ্চিমা সংস্কৃতিতে তাদের গড়ে তোলা হচ্ছে বলেও ফাতেহ২৪-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে আলেম-উলামাদের তৎপরতা কমে যাওয়া ও রোহিঙ্গাদের সহযোগিতায় কঠোর বিধি-বিধান চালু হওয়ায় এমনটা হচ্ছে বলে মনে করছেন রোহিঙ্গাদের সেবায় নিবেদিতপ্রাণ কয়েকজন আলেম ও মানবাধিকার কর্মী। তারা ফাতেহ২৪-কে জানিয়েছেন, আগের তুলনায় শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে আলেমদের তৎপরতা অনেকটা কমে গেছে। আর এটিকে সুযোগ হিসেবে নিচ্ছে বিদেশি এনজিও সংস্থাগুলো। তারা রোহিঙ্গাদের সাহায্য-সহযোগিতার বিনিময়ে তাদের ঈমান ক্রয় করে নিচ্ছে। মুছে দেওয়ার চেষ্টা করছে রোহিঙ্গাদের নিজস্ব শিক্ষা-সংস্কৃতিও।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিবেদিত কর্মী সোহেল ছারোয়ার এ প্রতিবেদককে জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে আগের তুলনায় পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে। অভাব অনটনও মুছে যাচ্ছে বিদেশি সংস্থাগুলোর সহযোগিতায়। তবে তাদের অভাব মুছে গেলেও বিক্রি হয়ে যাচ্ছে ঈমান। মসজিদ মাদরাসার তুলনায় এখন স্কুলই বেশি প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতিটি মাদরাসার কাছেই স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে কমে গেছে আলেম-উলামাদের তৎপরতাও।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অপর একজন স্বেচ্ছাসেবী বলেন, ‘রোহিঙ্গা ক্রাইসিস থেকে স্থানীয় লোকজন মুক্তি চাচ্ছেন। রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে তাদের মন বিষিয়ে উঠছে। তাদের কারণে সেখানকার পরিবেশও ভারসাম্যহীন হয়ে উঠছে। টেকনাফ ও উখিয়াবাসীর জন্য রোহিঙ্গারা এখন অসহনীয় এক বোঝায় পরিণত হয়েছে। তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়টিও অসম্ভব বলে ওই মানবাধিকার কর্মী মনে করছেন। তিনি বলেন, সরকারের সঙ্গে যে চুক্তি হয়েছে মিয়ানমার সরকারের, তাতে কিছুসংখ্যক রোহিঙ্গা নাম মাত্র ফিরে যাবেন।’
সোহেল ছারোয়ার বলেন, ‘সকল ক্যাম্পেই বহিরাগতদের প্রবেশে কঠোর বিধি-নিষেধ রয়েছে। শুধু মাত্র তালিকাভুক্ত ও নিবন্ধিত এনজিওগুলোই ক্যাম্পগুলোতে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে। এ কারণেও আলেমদের কাজের জায়গাটি সঙ্কীর্ণ হয়ে গেছে। ফলে তাদের ঈমান-আমল হেফাজতের বিষয়টি আমাদের জন্য অনেক কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ বিষয়ে আলেম-উলামা ও সচেতন মহল উদ্যোগ না নিলে, অচিরেই অবস্থা আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।’
