সিরিয়ার দারা, ঐতিহ্য ও ইতিহাস ধ্বংসের মুখে ?

আরজু আহমদ

সিরিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমের সীমান্তবর্তী শহর দারা। সিরিয়ার অন্যতম উর্বর ভূমি। শীতে তুষারপাত হয়, বসন্তে থাকে বৃষ্টির ছাঁট। যব আর উৎকৃষ্ট আঙুরের বাগানে প্রত্যেকটা প্রান্তর শোভিত।

ঐতিহাসিক ভৌগলিক ভূমি ‘হাওরান’ এর অন্তর্গত। এই হাওরান ছিল সেই ভূমি যেখানে আইয়্যুব আ. চাষাবাদ করতেন।

রাসুল সা. যখন বিশ্বাসঘাতকতা, প্রতারণা, সন্ধিভঙ্গ, বিদ্রোহের ষড়যন্ত্র প্রভৃতি কারণে মদিনার ইহুদিদের বহিষ্কার করেন।

তখন প্রধান তিন ইহুদি গোত্রের মধ্যে দুটি বনু নাদির আর বনু কায়নুকা দারা নগরে গিয়ে বসতি স্থাপন করে।

আল্লামা বালাযুরি তাবুকের যুদ্ধে যেসব শহর মুসলমানদের করতলগত হয়, সেসব শহরের তালিকায় দারা নগরের কথা লিখেছেন।

ইসরায়েলি ঐতিহাসিক মোশে শ্যারনও রাসুলের কাছে এই শহরের বাসিন্দাদের কর প্রেরণের কথা উল্লেখ করেন। অনেকেই মদিনা থেকে বিদ্রোহী ইহুদিদের বহিষ্কারের বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন।

বলেন তাদের ভূমি থেকে তাদের উচ্ছেদ ছিল অমানবিক। অথচ যদি ইহুদিদের বহিষ্কারই উদ্দেশ্য থাকত তাহলে কখনোই নিজের বিজিত ভুমিতে তাদের আর আশ্রিত থাকতে দিতেন না।

তাবুকের যুদ্ধে ৩০ হাজার জানবাজ সাহাবা অংশ নিয়েছিলেন। যদি চাইতেন হত্যা করতে, তবে একজন ইহুদিও বেঁচে থাকত না। ইসলামের উদারতা অবস্থা বদলে দিল।

অনেকেই ইসলাম আঁকড়ে ধরল। এতই বিস্তার ঘটল ইলম আর ইসলামী তাহজিব, তামাদ্দুনের যে, আল্লামা ইয়াকুত হামাবী এই শহরকে ‘উলামাদের শহর’ বলে অভহিত করেছিলেন।

এই দারা নগরে যখন উমার রা. পৌঁছেছিলেন, সেই সময় দারার জনগণ অস্ত্র ধারণ করে আর ঘরে ঘরে ঐতিহ্যবাহী খাবার রান্না করে আনন্দ প্রকাশ করেছিল। আজ সেই দারায় রাশিয়ার বোমারু বিমান ঢুকেছে।

আজও অস্ত্র দারার পথে পথে তবে তা নিরীহ মানুষগুলোর দিকে তাক করা। কোনও ঘরে খাবার রান্না তো দূর, ঘরগুলোকেই বোমারু বিমানের আঘাতে জ্বলন্ত চুল্লিতে পরিণত করে ফেলা হয়েছে।

আমার মুসলমান ভাইয়েরা মরছে। রাসুলের পেতে দেওয়া ভাই। যে ভাতৃত্ব আমার রাসুল গড়ে দিয়েছিলেন, বলেছিলেন যেন একই অঙ্গ আমরা। সেই ভাই, সেই অঙ্গ মরছে, জ্বলছে।

আর আমরা তাদের জন্য মধ্যরাতে রবের দরবারে বেদনার অন্তর নিয়ে হাত তুলি নি, সেজদায় নত হই নি। রাশিয়া যখন সিরিয়ায় খেলছে মৃত্যুর খেলা।

আমাদের তখন উল্লাসে মেতে আছি রাশিয়ার মাঠে হওয়া খেলা দেখে। আমাদের সময়গুলো এইভাবেই বেদনার বদলে উল্লাসে বদলে গিয়েছে।

রাসুল হাশরের মাঠে উম্মতকে পুলসিরাতের কাছে নাহয় মীযানের কাছে অথবা হাউজে কাউসার এই তিন স্থানে তাঁকে খুঁজতে বলেছেন।

কারণ তিনি এর কোথাও না কোথাও থাকবেনই। যেন উম্মতের কেউ মিযানের পাল্লায় ধরা পড়লে তাঁকে ছাড়িয়ে নেওয়া যায়।

কেউ হাউজে কাওসারে পানি থেকে বঞ্চিত হলে যেন পানি পান করানো যায়। আর যেন জাহান্নাম থেকে নিরাপদ রেখে পুলসিরাত পাড় করে জান্নাতে পৌঁছে দেওয়া যায়।

আচ্ছা, রাসুলের সাথে সেই সময় সাক্ষাত হলে রাসুল যদি জিজ্ঞেস করেন- ‘আমার গড়ে দেওয়া ভাতৃত্বের প্রতি তোমার কতটা দরদ ছিল?’

তখন কি জবাব দেবে এই উম্মত! যুবক একটু ঝুঁকো, একটু নুয়ে যাও, তোমার রব তোমাকে তুলে নেবেন নিজের রহমের পাহাড়ে।