ইন্দোনেশিয়ায় সুনামিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৮১

ফাতেহ ডেস্ক

ইন্দোনেশিয়ায় অগ্নুৎপাতের পর সৃষ্ট সুনামিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাড়িয়েছে ২৮১ জনে। আহতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে, আবারো সুনামি আঘাত হানার আশংকায় উপকূলবর্তী অঞ্চল থেকে এলাকাবাসীকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।

প্রাকৃতিক দুর্যোগের দেশ ইন্দোনেশিয়াতে দুই মাসের ব্যবধানে আবারও আঘাত হানলো সুনামি। আনাক ক্রাকাতাও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ঠিক আধ ঘন্টা পর, ভয়াবহ সুনামি আঘাত হানে জাভা ও সুমাত্রা দ্বীপের মধ্যবর্তী সুন্দা প্রণালী উপকূলে। অগ্ন্যুৎপাতে সমুদ্রের তলদেশে ভূমিচ্যুতির ফলে তৈরি হয় সুনামি।

সুনামির ফলে বন্যায় তলিয়ে গেছে উপকূলের ঘরবাড়ি-রাস্তাঘাট। ব্যাপক প্রাণহানির সঙ্গে ধ্বংস হয়েছে কয়েকশ স্থাপনা। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ব্যান্টেন প্রদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে। প্রাণহানি ঘটেছে পান্ডেগ্ল্যাং, সাউদ ল্যামপাং আর সেরাং অঞ্চলে।

এক পুরুষ বাসিন্দা বলেন, যখন সুনামি শুরু হল, তখন মানুষ চিৎকার করে ছুটাছুটি করছিল। সমুদ্রের পানিতে হোটেল ভেসে যায়। স্রোতের সাথে ভেসে গেছে অনেক মানুষ।’

আরো সুনামির আশংকায় উপকূলীয় অঞ্চলের আবাসিক এলাকাসহ চারটি সৈকতে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত পর্যটকের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। স্থানীয়দের সঙ্গে উদ্ধার তৎপরতায় যোগ দিয়েছে রেডক্রসসহ বেশকিছু আন্তর্জাতিক সংস্থা।

ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো বলেন, উদ্ধার তৎপরতায় সরকারি বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে কাজ করছে সেনাবাহিনী। হতাহতের সঠিক সংখ্যা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে আশংকা করা হচ্ছে মৃতের সংখ্যা অনেক বাড়বে।

ভূতাত্ত্বিক গঠনের কারণে ইন্দোনেশিয়া ভূমিকম্প ও সুনামিপ্রবণ দেশ হিসেবে পরিচিত। গত সেপ্টেম্বরে ভূমিকম্প ও সুনামিতে সেখানে প্রাণ হারায় অন্তত ২ হাজার মানুষ।

এর আগে ভয়াবহ সুনামি আঘাত হানে ২০০৪ সালের ডিসেম্বরে। এতে ইন্দোনেশিয়াসহ ভারত মহাসাগর উপকূলের বিভিন্ন দেশে দুই লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়।

আগের সংবাদআওয়ামী লীগ শুধু দিতে জানে জনগণকে : প্রধানমন্ত্রী
পরবর্তি সংবাদনওয়াজ শরিফের ৭ বছরের জেল