
তিব্বতের বন্যায় ভয়াবহ ধ্বংস, চীনে মিলছে না ভিডিও-প্রত্যক্ষদর্শীর তথ্য
গিরং বন্দরের ভয়াবহ বন্যার ভিডিও বিশ্বজুড়ে ছড়ালেও চীনের ভেতরে তা খুঁজে পাওয়া কঠিন; হতাহত ও নিখোঁজদের তথ্য নিয়েও সীমাবদ্ধতা-
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ফাতেহ২৪
চীনের তিব্বত অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পর তথ্যপ্রবাহ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। গিরং বন্দরে বন্যার সময় ধারণ করা ভয়াবহ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লেও চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও নিয়ন্ত্রিত ইন্টারনেটে সেই ফুটেজের উপস্থিতি খুবই সীমিত বলে জানিয়েছে বিবিসি।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, গিরং বন্দরে প্রচণ্ড স্রোত একটি ভবনসহ আশপাশের স্থাপনা ভাসিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় মানুষকে প্রাণ বাঁচাতে পালাতে দেখা যায়। সিসিটিভিতে ধারণ করা এসব দৃশ্য বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়লেও চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমে মূলত বন্যার স্থিরচিত্রই দেখানো হয়েছে।
তিব্বতের এই দুর্যোগে বহু মানুষ নিহত ও নিখোঁজ হয়েছেন। ৩০ আগস্টের বিবিসি আপডেট অনুযায়ী, চীনা কর্তৃপক্ষ তিব্বতে ১৬ জনের মৃত্যু এবং ৫৪০-এর বেশি মানুষের নিখোঁজ হওয়ার কথা জানিয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের নাগরিকও রয়েছেন।
উদ্ধারে বড় অভিযান
দুর্যোগের পর চীনা কর্তৃপক্ষ ব্যাপক উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, ধ্বংসস্তূপ ও নদীপথে উদ্ধারকারী দল কাজ করছে। একই সঙ্গে আরও ভূমিধস বা বন্যার আশঙ্কায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং পরিস্থিতি মোকাবিলায় কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংকেও ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।
তবে উদ্ধার তৎপরতার পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতি, নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবার এবং স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য কতটা প্রকাশ্যে আসছে—তা নিয়েই আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
ভিডিও সরিয়ে ফেলার অভিযোগ
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিব্বতের বন্যার বিভিন্ন ভিডিও চীনের নিয়ন্ত্রিত অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সহজে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। অস্ট্রেলিয়ার এবিসিও জানিয়েছে, দুর্যোগের ভয়াবহ ফুটেজ অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ার পর চীনের ভেতরে সেগুলোর অনেকটাই অদৃশ্য হয়ে যেতে দেখা গেছে।
তবে এ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—চীনে কোনো ফুটেজই দেখা যায় না, এমন সরল সিদ্ধান্তও পুরোপুরি সঠিক নয়। চীনা রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম পরে গিরং বন্দরের একজন পুলিশ কর্মকর্তার মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার ফুটেজও প্রকাশ করেছে।
তিব্বতে সাংবাদিকতার সীমাবদ্ধতা
বিবিসি বলছে, তিব্বতে বিদেশি সাংবাদিকদের চলাচল ও সংবাদ সংগ্রহের ক্ষেত্রে চীনা কর্তৃপক্ষের অনুমতির প্রয়োজন হয়। ফলে বড় ধরনের দুর্যোগের সময় স্বাধীনভাবে প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলা এবং ঘটনাস্থল থেকে তথ্য সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
তিব্বতকে ঘিরে চীন ও নির্বাসিত তিব্বতি নেতৃত্বের দীর্ঘ রাজনৈতিক বিরোধও রয়েছে। ফলে অঞ্চলটিতে বড় কোনো সংকটের সময় তথ্যপ্রবাহ ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নিয়ে বেইজিংয়ের সংবেদনশীলতা বিশেষভাবে আলোচনায় আসে।
অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে কিছু ভিডিও ও প্রত্যক্ষদর্শীর তথ্য সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সবগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বেইজিংয়ের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ
প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় চীন বড় ধরনের উদ্ধার তৎপরতা চালালেও একই সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতির স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশ, নিখোঁজদের পরিবারের কাছে তথ্য পৌঁছানো এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার—এসব বিষয়ও আলোচনায় এসেছে।
গিরং বন্দরের ধ্বংসযজ্ঞের ভিডিও বিশ্ববাসীকে দুর্যোগের ভয়াবহতা দেখিয়েছে। কিন্তু সেই ভিডিও ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য চীনের ভেতরে কতটা সহজলভ্য—এই প্রশ্নই এখন তিব্বতের বন্যাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
সূত্র: বিবিসি, রয়টার্স ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
