ইরানকে ঠেকাতে আমেরিকার ‘আরব ন্যাটো’

ফাতেহ ডেস্ক: ‘আরব ন্যাটো’ গঠনের অগ্রগতি নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সাথে বৈঠক করেছেন আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও।

ইরানকে সামলাতেই যে আমেরিকার এই জোট গঠনের প্রচেষ্টা তা সহজেই অনুমেয়। বৈঠকে উপস্থিত দেশগুলো বর্তমানে ইরান বিরোধী অবস্থানে রয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় সামরিক সহযোগিতার জোট ন্যাটো। এই জোটভুক্ত দেশগুলো পারস্পরিক সামরিক সহযোগিতা প্রদানে অঙ্গীকারাবদ্ধ।

আমেরিকার সহযোগিতায় আরব দেশগুলো নিয়ে ন্যাটোর ন্যায় সামরিক জোট গঠনের চেষ্টায় আছে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন মার্কিন মিত্র আরব দেশগুলো।

অবশ্য নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে সৌদি আরবসহ অন্যান্য আরব দেশের সাথে কাতারও উপস্থিত ছিল।

বৈঠকে কাতার মন্তব্য করেছে, এ ধরনের জোট গঠনের আগে উপসাগরীয় দেশগুলোর নিজেদের মধ্যে চলমান বিরোধ নিরসনে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া উচিত।

আমেরিকার পররাষ্ট্র দফতর এক বিবৃতিতে জানায়, সৌদি আরব, কাতার, ওমান, কুয়েত, মিসর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান ও বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সাথে বৈঠক করেছেন মাইক পম্পেও।

বৈঠকে প্রস্তাবিত আরব ন্যাটো গঠনের অগ্রগতির ব্যাপারে কথা বলেন মাইক পম্পেও।

এছাড়া আইএসসহ বিভিন্ন সশস্ত্র সংগঠনকে পরাজিত করার ওপরও তিনি জোর দেন।

একই সাথে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী দ্রুত সময়ের মধ্যে ইয়েমেন ও সিরিয়া যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটিয়ে ইরাকের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার এবং ওই অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান ইরানের প্রভাব থামানোর ব্যাপারে আলোচনা করেন।

পররাষ্ট্র দফতরের বিবৃতিতে আরো জানানো হয় যে, পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য প্রস্তাবিত আরব ন্যাটোর ব্যাপারে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।

তবে বৈঠকের পর কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান আল থানি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে যেসব জোট রয়েছে তার ভেতর থেকেই জোটটি তৈরি হওয়া উচিত।

তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘যখন বছরের পর বছর ধরে শক্তিশালী উপসাগরীয় দেশগুলো নিজেদের মধ্যে বিরোধে জড়িয়ে রয়েছে তখন কিভাবে এমন একটি জোট গঠন সম্ভব হবে?

তাই আমেরিকার নেতৃত্বাধীন জোটের প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে এ দেশগুলোর মধ্যকার দ্বন্দ্ব মীমাংসা করা।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে ইরানের সাথে কূটনৈতিক ও হিজবুল্লাহসহ মুসলিম ব্রাদারহুডের মতো ‘সন্ত্রাসী’ সংগঠনের সাথে সম্পর্ক রাখার অভিযোগে কাতারের সাথে সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষণা দেয় সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও মিসর।

একই সাথে গলফ কো-অপরেশন কাউন্সিলের (জিসিসি) সদস্যপদও স্থগিত করে দেশটির।

তবে নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সহায়তার অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করেছে কাতার।

পরবর্তীসময়ে কুয়েত ও আমেরিকা এ বিরোধ নিরসনের চেষ্টা চালালেও তা ব্যর্থ হয়।

আমেরিকা সে সময় সতর্ক করে বলেছিল, তাদের এ দ্বন্দ্ব আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রভাব ফেলতে পারে।

উল্লেখ্য, আটলান্টিক মহাসাগরের দুই পাড়ে অবস্থিত উত্তর আমেরিকার কানাডা ও আমেরিকা এবং ইউরোপের অধিকাংশ দেশ ১৯৪৯ সালে গঠিত এই ন্যাটো জোটের সদস্য। এছাড়া তুরস্কও এই জোটের সদস্য।

বিজ্ঞাপন
আগের সংবাদরাশিয়ার ‘ড্রিল’ বোমা, আতঙ্কিত পশ্চিমারা
পরবর্তি সংবাদইসরাইলকে ইহুদি রাষ্ট্র ঘোষণার প্রতিবাদে ফিলিস্তিনে ধর্মঘট