অনলাইনে বাড়ছে শ্লীলতাহানি

মুনশী নাঈম:

ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের মেয়ে আলায়নার একটি ছবিতে কিছু বাজে মন্তব্য ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বেশ সরগরম। ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানানোর পাশাপাশি ওই মন্তব্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে প্রায় সর্বস্তর থেকে। এরইমধ্যে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিএমপি) সাইবার ক্রাইম বিভাগ জানিয়েছে, ছবিটিতে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যকারীদের বিরুদ্ধে তারা ব্যবস্থা নেবে। শুক্রবার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এ তথ্য জানায় ডিএমপির সাইবার ক্রাইম বিভাগের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট।

এদিকে কদিন আগে পুলিশের গুলিতে নিহত অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহার সহকর্মী শিপ্রা দেবনাথকে নিয়ে করা পোর্টালগুলোর নিউজের কমেন্টবক্সেও দেখা গেছে একই চিত্র। বাজে ইঙ্গিত, অশালীন শব্দ ব্যবহার, কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ইত্যাদিতে ভরপুর। মূল ঘটনার পাশ কাটিয়ে মেয়ের চরিত্র, দেহাবয়ব, যৌনতা নিয়ে মেতে উঠতে দেখা গেছে একাংশ মন্তব্যকারীদের।

আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা সাহারা খাতুনের মৃত্যুতে শূন্য ঘোষিত হয় ঢাকার ১৮ আসন। নানা কারনে আলোচিত ডাকসুর সদ্য সাবেক ভিপি নুরুল হক বলছেন, স্থানীয়েদর অনুরোধে এই আসনের উপনির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন তিনি। এদিকে ঢাকা- ১৮ আসনটি প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় গণজাগরণ মঞ্চের স্লোগান কন্যা বলে পরিচিত লাকি আক্তারও। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য লাকি আক্তার বলেন,’ঢাকা-১৮ আসন থেকে কমিউনিস্ট পার্টি নির্বাচন করবে কিনা সে বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বিষয়ে আলোচনা চলছে।’

জনপ্রিয় একটি টিভি চ্যানেলের ফেসবুক পেইজে এ সংক্রান্ত অনলাইন খবরের শিরোনাম ছিল—’ঢাকা-১৮ আসনে প্রার্থী হবেন নুর, গণজাগরণ মঞ্চের লাকি আক্তারও।’ খবরের কমেন্টবক্সে দেখা যায় নির্বাচনী প্রসঙ্গ এড়িয়ে মন্তব্যকারীদের একাংশ লাকি আক্তারের দেহ, যৌনতা নিয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়েছে। নির্বাচন না করে তাকে যৌনপল্লিতে যেতে বলেছেন কেউ কেউ।

দিন দিন বাড়ছে অনলাইনের এসব শ্লীলতাহানীর নোংরা গল্প। বড়দের সঙ্গে বাদ পড়ছে না শিশুরাও। এই ধরণের মন্তব্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও পর্নোগ্রাফি আইনের আওতায় একপ্রকার অপরাধ হলেও পার পেয়ে যাচ্ছে সবাই। এখানে কারো নজরদারি নেই, নিয়ন্ত্রণ নেই। আইন থাকলেও আইনের প্রয়োগ করছে না প্রশাসন। ফলে বিকৃত মানসিকতা লালনকারীরা আরও উগ্র হয়ে উঠছে।

নেটিজেনরা বলছেন, সাকিব আল হাসানের সন্তান না হলে এবং কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যকারীদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখালেখি না হলে পুলিশ তৎপর হতো কিনা সে বিষয়ে সন্দেহ রয়েছে৷ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন মন্তব্যের তো অভাব নেই৷ কত নারী, পুরুষই তো এসবের নিয়মিত শিকার৷ তাদের সবার ক্ষেত্রেই ব্যবস্থা নেয়া দরকার।

বিজ্ঞাপন