আল্লামা কাসেমীর ইন্তেকালে মুসা আল হাফিজের আবেগঘন স্মৃতিচারণ

ফাতেহ ডেস্ক:

প্রথম যেদিন তাঁর সাথে আমার দেখা হলো, দেখলাম, তিনি একজনকে নির্দেশনা দিচ্ছেন পাঠাগারের বই কেনার জন্য। বলছেন, বই টিপা দিয়ে কিনবেন। ভেতরে কী আছে, না দেখে বই কেনা ঠিক না। অনেক বই আছে, তাতে আবেগের স্রোত বয়ে যায়, বাক্যের ঝংকার থাকে, শব্দের গাঁথুনি থাকে, কিন্তু আসল কথাটি থাকে না। কিন্তু কিছু বই এমন, যা এক দুনিয়াকে বুঝিয়ে দিতে পারে!

কথাগুলো শুনে অসাধারণ দৃষ্টিসম্পন্ন এই আলেমের সাথে কথা বলার আগ্রহ বেড়ে গেলো।

২০০৯ সালের মে মাসে তার একটি সাক্ষাতকারের জন্য বারিধারা মাদরাসায় এক দিন থাকতে হয়েছিলো, হযরত উবায়দুল্লাহ ফারুক সাহেবের মেহমান হয়ে। দেখলাম কী ব্যস্ততা তার!

তার রাজনৈতিক মুরুব্বি ছিলেন মাওলানা আশরাফ আলী বিশ্বনাথী ( রহ.)। তাঁর প্রতিষ্ঠিত পত্রিকা মাসিক আল ফারুকের উপদেষ্টা সম্পাদক তখন আমি। এসেছি পত্রিকার জন্য নুর হোসাইন কাসেমী সাহেবের একটি সাক্ষাতকার নিতে।

কাসেমী সাহেবের অফিসে আলাপচারিতা শুরু হলো। প্রশ্ন করলাম, এতো ব্যস্ততা আপনার। কিন্তু আপনার প্রধান ব্যস্ততা কী নিয়ে?
তিনি বললেন,’ নিজে যাতে আল্লাহর দরবারে আসামী না হই,সেটা নিয়ে।’

অনেক অনেক কথার মধ্যে এই কথাটি আমি মনের মধ্যে নোট করে রাখলাম। এর পরের নুর হোসাইন কাসেমীকে আমি নানাভাবে পর্যবেক্ষণ করলাম। গতকাল পর্যন্ত আমার মন তাকে পর্যবেক্ষণ করেছে। আমার মনে হয়েছে, আত্মবিক্রয়-আত্মপ্রতারণা-বীর সাজার অস্থিরতা-পার্থিব মোহের পিছু ধাওয়া- শাসকদের তুষ্টিবিধান ইত্যাদির মচ্ছবে তিনি বরাবরই নিজেকে আলাদা রেখেছেন। রেখেছেন সেই ধারার প্রতিনিধিত্বে, যে ধারার লোকদের প্রথম ও শেষ নীতি হচ্ছে, আমি এমন কিছু করবো না, যা করলে আল্লাহর কাছে আসামী হতে হয়!

তিনি আজ আল্লাহর সমীপে চলে গেছেন। আল্লাহ যেন তাকে আপন দরবারে লজ্জিত না করেন।

(ফেসবুক থেকে নেয়া)

বিজ্ঞাপন