কাদিয়ানি প্রতিরোধ : অগ্রগতি নেই কেন?

কাদিয়ানি প্রতিরোধ : অগ্রগতি নেই কেন?

রাগিব রব্বানি:

বাংলাদেশে কাদিয়ানি সম্প্রদায়কে রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণার দাবিতে ওলামায়ে কেরামের আন্দোলন-সংগ্রাম অনেক দিন থেকে অব্যাহত আছে। একই সঙ্গে মুসলিম পরিচয়ে কাদিয়ানিদের কর্মকাণ্ড পরিচালনার বিরুদ্ধেও তাঁরা সময়ে সময়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন। কিন্তু তারপরও কাদিয়ানিরা নিজেদের মুসলিম পরিচয় দিয়ে ইসলামের ব্যানারে তাদের কার্যক্রম পরিচালনার প্রয়াস পাচ্ছে। ওলামায়ে কেরামের অব্যাহত সতর্কতা ও আন্দোলনও তাদের কার্যক্রম পরিচালনায় বাধ সাধতে পারছে না সেভাবে। প্রতিরোধ করা সম্ভব হচ্ছে না ইসলামের নামে তাদের বিভ্রান্তিমূলক কর্মকাণ্ডও।

ওলামায়ে কেরাম বলছেন, রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণার আগ অবধি কাদিয়ানিদের এই প্রবণতা থামানো যাবে না। তাছাড়া কাদিয়ানিদের পেছনে দেশ-বিদেশের প্রভাবশালী একাধিক গোষ্ঠী জড়িত থাকবার কারণে সহজেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহণ সরকারের পক্ষেও সম্ভব নয় বলে জানান অনেকে।

ওলামায়ে কেরাম আরও বলছেন, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে তাঁরা একাধিকবার যোগাযোগ করেছেন, দায়িত্বশীল মন্ত্রীদের কাছেও সময়ে সময়ে বিভিন্ন বৈঠকে এ দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। এর পাশাপাশি শানে রেসালত সম্মেলনসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমেও তাঁরা এই দাবিকে জোরালো করছেন।

খতমে নবুওত আন্দোলনের একাধিক নেতার সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণার ব্যাপারে রাষ্ট্রের সঙ্গে যে যোগাযোগ তৈরি হয়েছে, সেখান থেকে তাঁরা আশাবাদী, সরকার এ ব্যাপারে একটা পদক্ষেপ নেবে।

গত মঙ্গলবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার খতমে নবুওত মাদরাসার পাশে কাদিয়ানিদের হামলায় বেশ কয়েকজন মাদরাসাছাত্র আহত হয়েছেন। তারপর থেকে দেশের নেতৃস্থানীয় ওলামায়ে কেরাম গণমাধ্যমে বিবৃতি প্রদান করে এদের দৌরাত্ম্য বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন সরকারের প্রতি। একই সঙ্গে কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণার দাবিও পুনরায় জোরদার হয়েছে। হামলার প্রতিবাদে গতকাল দেশের একাধিক জায়গায় ওলামায়ে কেরাম ও তৌহিদি জনতা প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন।

আরও পড়ুন : ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদরাসাছাত্রদের ওপর কাদিয়ানিদের সন্ত্রাসী হামলা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সর্বস্তরের ওলামা ও মাদরাসার ছাত্রদের অংশগ্রহণে শহরে গতকাল মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। আগামী সোমবার বৃহদাকারে আবারও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করবেন তারা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বড় মাদরাসা হিসেবে পরিচিত জামিয়া ইউনুছিয়ার মুহতামিম মুফতী মুবারকুল্লাহ জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কাদিয়ানিদের প্রভাবশালী তেমন কেউ নেই, অল্প কিছু লোক আছে, এদেরকে বাইরে থেকে শক্তি জোগানো হয়। ফলে মাদরাসাছাত্রদের ওপর আক্রমণের মতো দুঃসাহস এরা দেখাতে পেরেছে।

তিনি বলেন, রাজধানীতে কাদিয়ানিদের প্রভাবশালী একাধিক শক্তি আছে, ইউরোপ থেকেও একটা শক্তি তাদেরকে সমর্থন করে, ফলে এরা এখন দিনদিন উদ্ধত হচ্ছে।

তিনি মনে করেন, রাষ্ট্রীয়ভাবে এদেরকে অমুসলিম ঘোষণা করা হলে তারা তাদের মতো স্বতন্ত্র ধর্ম হিসেবে অনুষ্ঠান বা কার্যক্রম পরিচালনা করলে সাধারণ মানুষও আর বিভ্রান্ত হবে না, আলেম-ওলামাও তাদের কাজে বাধ সাধতে যাবেন না। আগামী সোমবারের মানববন্ধন কর্মসূচি ছাড়াও কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণার দাবিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বৃহদাকারের একটা শানে রেসালত সম্মেলন করার পরিকল্পনার কথা জানান মুফতী মুবারকুল্লাহ।

আরও পড়ুন : দেশজুড়ে যেভাবে তৎপর কাদিয়ানি সম্প্রদায়

কাদিয়ানি-বিরোধী আন্দোলন সংগ্রামের অগ্রগতি কতদূর জানতে চেয়ে কথা হয় খতমে নবুওত সংরক্ষণ কমিটির আমির মাওলানা আবদুল হামিদ পীর সাহেব মধুপরীর সঙ্গে।

তিনি বলেন, সরকারের উঁচু পর্যায়ে আমরা একাধিকবার বৈঠক করেছি, বিভিন্নভাবে প্রধানমন্ত্রীসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীকে সরাসরি এই দাবির কথা আমরা জানিয়ে আসছি। হাটহাজারীর হজরতও (আল্লামা শাহ আহমদ শফী) সরকারকে জোরালোভাবে বলেছেন। আমরা সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি। পাশাপাশি বিভিন্ন সভা-সমাবেশ করেও এ দাবিকে জোরালো করছি।

তিনি বলেন, আমাদের সাধ্যের মধ্যে যতটা বিকল্প আছে, সবগুলোকে কাজে লাগাচ্ছি কাদিয়ানিদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণার স্বীকৃতি আদায়ে। কিন্তু কাদিয়ানিদের শিকড় অনেক গভীরে প্রোথিত, যতটা বুঝি, বহির্বিশ্বের ইসলাম-বিরোধী প্রভাবশালী গোষ্ঠীর চাপ আছে এখানে, সরকার হয়তো সেগুলোকে ম্যানেজ করে সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারছে না। নয়তো রাষ্ট্রপ্রধানসহ সরকারি দায়িত্বশীলদের অধিকাংশ মুসলিম হয়েও কেন কাদিয়ানিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীভাবে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করবে না?