জ্ঞানার্জনে ‘বুদ্ধিবৃত্তি’/’আক্বল’র ভূমিকা : শায়খ আকরাম নাদভি

[শায়খ আকরাম নাদভি বর্তমান সময়ের একজন প্রভাবশালী আলেম। মুসলিম নারী স্কলারদের জীবনীর উপর ৫৩ খন্ডের বিশাল সংকলন—’Al-Muhaddithat: The Women Scholars in Islam’ প্রকাশের কাজে হাত দিয়ে তিনি বিশ্বনন্দিত হয়েছেন। আক্বিদা ও ফিকহসহ অন্যান্য ক্ষেত্রেও তিনি অবদান রেখেছেন। নিম্নোক্ত প্রবন্ধটিতে তিনি জ্ঞানপ্রক্রিয়ায় ‘বুদ্ধিবৃত্তি’ বা ‘আক্বল’ এর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেছন। জ্ঞানার্জন প্রক্রিয়ায় ‘আক্বল’ এর অবস্থান কোথায় হবে এ নিয়ে ইসলামি বুদ্ধিবৃত্তিক ইতিহাসে সবসময়েই বিভিন্ন আলোচনা হাজির ছিলো। শায়খ আকরাম নাদভি ‘বুদ্ধিবৃত্তি’কে জ্ঞানের উৎস হিশাবে না দেখে বরং জ্ঞানের বাহক ও প্রক্রিয়াজাতকারী হিশাবে বিবেচনা করেন। এক্ষেত্রে তিনি দার্শনিক ও কালাম শাস্ত্রবিদদের বিরোধিতা করে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। আমরা পরবর্তীতে অন্যদের মতামতও প্রকাশের ইচ্ছা রাখি। শায়খ নাদভির এই প্রবন্ধটি কথোপকথনের ভঙ্গিতে লেখা হয়েছে। লেখাটি অনুবাদ করেছেন তরুণ বিশ্লেষক নাজমুল রেজা]

তারা জিজ্ঞেস করে : দার্শনিকেরা হচ্ছেন বুদ্ধি, দূরদৃষ্টি, সুক্ষ্ম অনুভূতি, যুক্তি ও এরকম আরো নানা গুণাগুনসম্পন্ন মানুষ। তাহলে কিসের ভিত্তিতে আপনি তাদের অবস্থানের বিরোধিতা করেন এবং কিভাবে তাদের থেকে বিপরীত মত পেশ করেন? এবং তারা নিজেরাই বা কেন নিজেদের মধ্যে এত মতানৈক্য করে, যা জ্ঞানের অন্য কোনো শাখায় বা অন্য কোনো গোষ্ঠীর মধ্যে দেখা যায়না?

আমি বলি : কারণ তারা নিজেরা জ্ঞানের উৎস নির্ধারণে ভুল করেছে। আন্দাজ অনুমানের উপর ভর করে তারা নিজেরা তো বিপথে গেছেই, অন্যদেরকেও বিপথে পরিচালিত করেছে।

তারা বলে : তাহলে জ্ঞানের উৎসগুলো আসলে কী কী?

আমি বলি : মানুষের সহজাত সত্তা (ফিতরাহ), পঞ্চইন্দ্রিয় এবং অবতীর্ণ হওয়া ঐশী বাণী।

তারা জিজ্ঞেস করে : আপনি কিভাবে মানুষের সহজাত সত্তা (ফিতরাহ)-কে জ্ঞানের উৎস হিশাবে বিবেচনা করতে পারেন যখন আল্লাহ নিজেই বলেছেন— “আর আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের মায়েদের গর্ভ থেকে এমন অবস্থায় বের করেছেন, যখন তোমরা কিছুই জানতে না। আর এজন্য তোমাদের শুকরিয়া আদায় করা উচিৎ যে, আল্লাহ তোমাদেরকে শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি ও অন্তর দান করেছেন”। (সুরা নাহল: ৭৮)

আমি বলি : এই আয়াতের উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষের বাহ্যিক জ্ঞান, যা মানুষ ইন্দ্রিয় ব্যবহারের মাধ্যমে অর্জন করে। কিন্তু আমি তো এই জ্ঞানের কথা বলিনি, বরং আমার উদ্দ্যেশ্য হচ্ছে সেই আদি জ্ঞান, যা সৃষ্টির সময়েই মানুষের মধ্যে গেঁথে দেয়া হয়েছে, যাতে মানুষ তার প্রভুকে চিনতে পারে এবং তাঁর প্রতি অনুগত হতে পারে। একই সাথে এটা এমন এক ধরণের জ্ঞান যা মানুষকে ভালো মন্দের মধ্যে পার্থক্য করতে শেখায়। এ জ্ঞানের কারণেই ভালো কাজ করলে মানুষ আনন্দিত হয় এবং অন্যায় কাজ করলে মনোবেদনা অনুভব করে। আল্লাহ বলেছেন— “তুমি একনিষ্ঠভাবে নিজেকে ধর্মের উপর প্রতিষ্ঠিত রাখ। এটা আল্লাহর প্রকৃতি (ফিতরাহ), যার উপর তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন”। (সুরা রুম: ৩০)

অন্যত্র আছে—“আর শপথ প্রাণের এবং তাঁর, যিনি তা সুসজ্জিত করেছেন। অতঃপর তাকে সৎকর্ম ও অসৎ কর্মের জ্ঞান দান করেছেন”। (সুরা শামস: ৭,৮)

তারা বলে : তাহলে জ্ঞানের উৎস হিসেবে বুদ্ধিবৃত্তির (রিজন/ ইন্টেলেক্ট/ যুক্তি/ ‘আক্বল) জায়গা কোথায় হবে?
আমি বলি : ‘বুদ্ধিবৃত্তি’ (যুক্তি/ ‘আক্বল/ Reason/ Intellect) জ্ঞানের উৎস নয়। এটা যদিও দার্শনিকদের এবং কালাম শাস্ত্রবিদদের মধ্যে যারা দার্শনিকদের অনুসরণ করে, তাদের মতামতের বিপরীত। তারা এমন কিছু বিষয়কে এর (আক্বল) সাথে যুক্ত করেছে, যেগুলো আসলে এর সাথে যুক্ত হতে পারেনা; এবং এটাই তাদেরকে বিভিন্নক্ষেত্রে ভ্রান্তি ও অজ্ঞতার দিকে ঠেলে দিয়েছে। কারণ, জ্ঞান উৎপাদন করা বা সচেতনতা তৈরি করা ‘আক্বল’ এর কাজ নয়।

উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে, একজন ব্যক্তি যে কখনো তাজমহল দেখেনি বা তাজমহলের ব্যাপারে কিছু শোনেনি—সে কখনোই স্রেফ ‘আক্বলের সাহায্যে এর বাস্তবতা অনুধাবন করতে পারবেনা। এমনকি এটা তার মনে বা চিন্তায়ও উদয় হবেনা। যখন কোনো ব্যক্তির সামনে কোনো খাবার রাখা হয়, সে কখনোই স্রেফ বুদ্ধি/’আক্বলের সাহায্যে এর স্বাদ গ্রহণ করতে পারবেনা। একইভাবে, ঘ্রাণ কিংবা স্পর্শ করার যেই অনুভুতি এটাও কখনোই স্রেফ বুদ্ধি/’আক্বলের দ্বারা অর্জন করা সম্ভব নয়। মানুষের ইন্দ্রিয়ানুভুতির বাইরের কোনো কিছুর ব্যপারে বুদ্ধিবৃত্তি কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছতে বা এমনকি কল্পনা করতেও সক্ষম নয়।

তারা জিজ্ঞেস করে : তাহলে বুদ্ধিবৃত্তির কাজগুলো কী কী?

আমি বলি : বুদ্ধিবৃত্তির কাজ মূলত চারটি। সেগুলো হচ্ছে—

১) অর্জিত তথ্যসমূহ সংরক্ষণ করা
২) তথ্যগুলোকে সুসজ্জিত ও সুসংহত করা
৩) তথ্যগুলোকে পরিচর্যা করা ও উন্নত করা
৪) তথ্যগুলোকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও যাচাই-বাছাই করা।

উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, কেউ যদি এ ধরণের একটি হিশাব তুলে ধরে যে, ‘আলিফ’ বর্ণটির মান ‘বা’ বর্ণটির সমান এবং ‘বা’ বর্ণটির মান ‘জিম’ বর্ণটির সমান। তাহলে এখানে ‘বুদ্ধিবৃত্তি’র কাজ হচ্ছে, এখানে প্রদত্ত তথ্য দুটিকে সংরক্ষণ করা এবং এই তথ্যগুলোকে এমনভাবে সাজানো যাতে, এখান থেকে একটি তৃতীয় অনুসিদ্ধান্ত বের করা সম্ভব হয়। যেমন প্রদত্ত তথ্য অনুসারে বলা যায়, ‘আলিফ’ ও ‘জিম’ বর্ণ দুটির মানও পরস্পর সমান। এখন কেউ যদি এখান থেকে এরকম তৃতীয় একটি অনুসিদ্ধান্ত বের করে যে, ‘আলিফ’ ও ‘দাল’ বর্ণের মানও সমান, তাহলে এখানে বুদ্ধিবৃত্তিই বাগড়া দিয়ে জানিয়ে দিবে যে, এই অনুসিদ্ধান্তটি ভুল।

তারা বলে : এ রকম ভাসা ভাসা কথা না বলে বরং ঠিকঠাক উদাহরণ দিয়ে বুদ্ধিবৃত্তির কাজ চারটিকে ব্যাখ্যা করুন।

আমি বলি : আল্লাহ বলেছেন যে, ‘মুহাম্মদ (সা) হচ্ছেন আল্লাহ তায়ালার রাসুল’ এবং আল্লাহ আরো বলেন, ‘আমি কোনো রাসুলকেই আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো আনুগত্যের অনুমতি দিয়ে পাঠাইনি।’ বুদ্ধিবৃত্তি এখান থেকে প্রাপ্ত তথ্য দুটিকে সংরক্ষণ করে এবং সাজিয়ে নিয়ে একটি তৃতীয় মন্তব্য করতে পারে, তা হচ্ছে— ‘মুহাম্মদ (সা) কে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো আনুগত্যের অনুমতি দিয়ে পাঠানো হয়নি।’

বুদ্ধিবৃত্তি এখান থেকে প্রাপ্ত তথ্য দুটিকে সংরক্ষণ করে এবং সাজিয়ে নিয়ে একটি তৃতীয় মন্তব্য করতে পারে, তা হচ্ছে— ‘মুহাম্মদ (সা) কে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো আনুগত্যের অনুমতি দিয়ে পাঠানো হয়নি।’ সুতরাং যখন কোনো ঈমানদার ব্যক্তি তাঁর আনুগত্য না করে, তাহলে বুদ্ধিবৃত্তি তার ভুল ধরিয়ে দিতে পারবে, যাতে সে পুনরায় আনুগত্য করতে পারে।

তারা বলে : ‘বুদ্ধিবৃত্তি’র ভুমিকা বোঝার ক্ষেত্রে দার্শনিক ও তাদের অনুসারী কালাম শাস্ত্রবিদরা কী কী ভুল করেছে সেগুলো একটু ব্যাখ্যা করুন।

আমি বলি : তাদের ভুলগুলোকে ৩টি পয়েন্টে ব্যাখ্যা করা যায়:

১) প্রথমত, তারা বুদ্ধিবৃত্তিকে জ্ঞানের একটি উৎস হিশাবে বিবেচনা করেছে। আর এই গুঢ় বিষয়টা সবারই জানা আছে যে, বুদ্ধিবৃত্তি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ব্যর্থ হয়। এর যুক্তি-প্রতিযুক্তিকে অনেক সময়ই সমর্থন করা যায়না। ইন্দ্রিয়ের মর্ম বোঝার ক্ষেত্রেও এর অনুসিদ্ধান্তগুলো দুর্বল হতে পারে। বুদ্ধিবৃত্তি কি দেখতে, শুনতে, স্বাদ গ্রহণ করতে, ঘ্রাণ নিতে বা স্পর্শ করতে পারে? তাহলে, বুদ্ধিবৃত্তি কিভাবে আদি জ্ঞানের সুদূর ভান্ডার পর্যন্ত পৌঁছতে পারবে? অথবা, কিভাবেই বা সে আল্লাহর দৈববানী শুনতে পারবে?

২) দ্বিতীয়ত, তারা বুদ্ধিবৃত্তির সীমাবদ্ধতাগুলোও স্বীকার করেনি। বুদ্ধিবৃত্তি প্রথমত যেটা করে, তা হচ্ছে- সে জ্ঞাত বিষয়গুলোকে বিকশিত করে এবং এর উপর নির্ভর করেই অজ্ঞাতের বিকাশ ও অন্তর্নিহিত ভাব বোঝার সক্ষমতা ছাড়াই সে অজ্ঞাতের জ্ঞান অর্জন করতে চায়। এবং দ্বিতীয়ত, জ্ঞাত বিষয়গুলোকে নির্দিষ্ট কিছু অবস্থার সীমানার মধ্যেই সে বোঝাপড়া ও বিকাশের চেষ্টা চালায়। যেখানে এর সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করার সক্ষমতাও তার নেই। সে মূলত বাহ্যিক পাঁচটি ইন্দ্রিয় ও এ ধরণের কিছু বিষয়ের উপরেই নির্ভর করে।

৩) এবং তৃতীয়ত, তারা ‘পার্সোনাল রিজন’ ও ‘সাউন্ড রিজন’—এর পার্থক্য আলাদা করেনা।

লোকজন জিজ্ঞেস করে : আপনি ‘পার্সোনাল রিজন’ ও ‘সাউন্ড রিজন’ বলতে কী বোঝান?

আমি বলি : ‘পার্সোনাল রিজন’ হচ্ছে এমন ধরণের যুক্তি, যেগুলো কোনো ব্যক্তি বা কিছু লোকজনের আচরণ, আগ্রহ, মতামত, ঐতিহ্য ও কৃষ্টি থেকে উৎপন্ন হয়। অন্যদিকে ‘সাউন্ড রিজন’ হচ্ছে এমন যুক্তি যার উপাদানগুলো জ্ঞানের উৎসগুলো থেকে সংগৃহীত হয়। প্রথমটি যেখানে ‘প্রবৃত্তি’ হিশাবে গণ্য হয়, সেখানে দ্বিতীয়টিকে বলা হয় ‘যথাযথ যুক্তি’।

উদাহরণস্বরূপ, সাধারণত প্রত্যেকই এমন খাবার খেতে পছন্দ করে, যেটা সে ছোটবেলা থেকেই খেয়ে আসছে। যেটা তার প্রবৃত্তির চাওয়ার সাথে সংযুক্ত, যাকে পারসোনাল রিজন বলা হয়। আর অন্যদিকে কেউ যদি এমন খাবার খেতে চায় যেটা সুস্বাস্থ্য ও শক্তি-সামর্থ্যের দিক দিয়ে তার শরীরের জন্য যথাযথ, তাহলে সে ‘সাউন্ড রিজন’ বা ‘যথাযথ যুক্তি’ ব্যবহার করছে।

বাস্তবতা হচ্ছে, দার্শনিক ও তাদের অনুসারী কালাম শাস্ত্রবিদদের অধিকাংশই, চাই তারা প্রাচ্যের হোক বা পাশ্চাত্যের, প্রাচীনকালের হোক বা সমসাময়িককালের, তারা তাদের মতামত ও অগ্রাধিকার প্রদানের ক্ষেত্রে তাদের প্রবৃত্তির-ই অনুসারী এবং এই এটাকেই তারা প্রাধাণ্য দিয়ে থাকেন।

তারা জিজ্ঞেস করে : বুদ্ধিবৃত্তি বা যুক্তি দিয়ে কি আল্লাহ সম্পর্কিত জ্ঞান অর্জন সম্ভব?

আমি বলি : না। যেমন ইন্দ্রিয়ের দ্বারাও এ জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব নয়। যে কোনো কিছুর জ্ঞান শুধুমাত্র সে সমস্ত উৎস থেকেই অর্জন করা সম্ভব, যেগুলো আল্লাহ নির্ধারণ করেছেন। আর বুদ্ধিবৃত্তি তো কেবল জ্ঞাত বিষয়গুলোকেই অন্বেষণ ও বিকশিত করতে পারে। আর আল্লাহর জ্ঞান অর্জনের উৎস হচ্ছে—সহজাত সত্তা (ফিতরাহ)। এবং বুদ্ধিবৃত্তি অন্যান্য প্রমাণাদির উপর নির্ভর করে এই সহজাত সত্তা থেকে প্রাপ্ত আল্লাহর এই জ্ঞানকেই পরিচর্যা, সুসংহত, সুসজ্জিত ও বিকশিত করতে পারে। আর এই পদ্ধতিই আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে আমাদের শিখিয়েছেন। যেখানে তিনি তাঁর সম্পর্কিত জ্ঞান অর্জনের উৎস হিশাবে মানুষের অভ্যন্তরীণ ‘সহজাত সত্তা (ফিতরাহ)’-র কথা উল্লেখ করেছেন এবং এর সাথে প্রমাণ হিশাবে তার সৃষ্টির প্রাকৃতিক নিদর্শনাবলী ও অবতীর্ণ বাণীর কথা বর্ণনা করেছেন। যদি, আল্লাহর জ্ঞান মানুষের সহজাত সত্তার মধ্যে প্রোথিত না থাকতো, তবে, আল্লাহর প্রমাণ হিশাবে এইসব নিদর্শনাবলীর দিকে ইঙ্গিত করা হতোনা।

তারা জিজ্ঞেস করে : দার্শনিকরা ও কালাম শাস্ত্রবিদরা তাদের যুক্তিতে কি সৃষ্টিকর্তা, অবশ্যিক সত্তা, কার্য-কারণ, প্রাথমিক কারণ, প্রধান পরিচালক— এগুলার স্বীকৃতি দেননি?

আমি উত্তর করি : তাদের সরলীকরণগুলো আপনাদেরকে ভুল পথে পরিচালিত করছে এবং তাদের ভুল প্রমাণাদি ও ভুয়া উদ্দেশ্যগুলোও আপনাদেরকে প্রতারিত করছে। তাদের বেশকিছু কথা-বার্তা হচ্ছে স্রেফ পথভ্রষ্টতা, যেগুলো আরো স্পষ্ট হওয়া দরকার। এবং এর চেয়েও খারাপ হচ্ছে তাদের প্রমাণাদি খোঁজার জঘন্য পদ্ধতি। এই প্রামাণাদিগুলো যেখানে ছিলো প্রজ্ঞার পথে পা বাড়ানোর প্রবেশদ্বার, সেখানে তাদের ভুল পদ্ধতির কারণে সেটি নড়বড়ে হয়ে যাচ্ছে ও বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়ে ফেলছে।

তারা জিজ্ঞেস করে : আপনি কি তাদের এই ভুল পথ ও তাদের অবস্থানের জঘন্যতার মুখোশ উন্মোচন করবেন?

আমি বলি : আপনাকে শুভেচ্ছা। আমি আপনার জ্ঞানার্জনের আগ্রহ দেখে সত্যিই আনন্দিত। এবং আশাকরি এতক্ষণ বর্ণিত বিষয়গুলো আপনার দৃষ্টিভঙ্গিকে স্থিতি দিবে।

অনুবাদক : শিক্ষক ও বিশ্লেষক