দারুল উলুম দেওবন্দে পড়তে চাই

নাহিয়ান হক:
১৮৬৬ সালে দারুল উলুম দেওবন্দ যখন প্রতিষ্ঠা হয় অখণ্ড ছিল ভারত, রাজত্ব চলছিল ইংরেজ বেণিয়াদের। ইংরেজ বেণিয়ারা শুধুমাত্র ভারতের স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছিল এমন নয়, কেড়ে নিয়েছিল ভারতের শিক্ষা, কৃষ্টি-কালচার, তাহযিব-তমদ্দুনও। কিন্তু জগদ্দল পাথরের মত চেপে বসা ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস কারো ছিল না। এই দেওবন্দ মাদরাসা প্রতিষ্ঠাকারী আকাবিরগণই ভারত মুক্ত করার সংগ্রামে সর্বপ্রথম ঝাঁপিয়ে পড়েন। এবং শিক্ষা সংস্কৃতি ও ইসলামী সিয়াসাত রক্ষায় প্রতিষ্ঠা করেন প্রতিষ্ঠানটি। ফলে অতিদ্রুত সময়ে এটি জায়গা করে নেয় কোটি ভারতীয়দের হৃদয়ের মণিকোঠায়।
ভারত বিভক্ত হয়ে প্রথমে পাকিস্তান অতপর বংলাদেশ গঠিত হলেও এই প্রতিষ্ঠান ভারতীয় মুসলমানদের কাছে দ্বীনি শিক্ষাধারার প্রাণকেন্দ্র হিসেবেই বিবেচিত হতে থাকে। এবং এর অনুকরণে শুধুমাত্র ভারত পাকিস্তান বাংলাদেশে নয় পৃথিবীর আনাচে-কানাচে গড়ে উঠতে থাকে হাজারো প্রতিষ্ঠান। যে প্রতিষ্ঠানগুলোই এখন কওমি মাদ্রাসা হিসেবে পরিচিত ও সমাদৃত। কেউ যখন দ্বীন শিক্ষায় ব্রতী হয় তখন থেকেই নাম শুনতে থাকে এই দেওবন্দ মাদরাসার। দেওবন্দ মাদরাসার প্রতিষ্ঠা ইতিহাস, পাঠ্যক্রম ও পাঠপদ্ধতি এবং আকাবিরে দেওবন্দের আলোকিত ও সংগ্রামী জীবন তার হৃদয় ছুঁয়ে যায় বার বার। লালিত হতে থাকে একটা স্বপ্ন।”আমিও দেওবন্দে যাব একদিন। সেখান থেকেও ইলমে নববী আহরণ করব।”
উক্ত প্রতিষ্ঠানটি প্রতিবেশী দেশে অবস্থিত হওয়ায় একটা সময় পর্যন্ত এ স্বপ্ন পূরণ সহজই ছিল। কোনক্রমে দেওবন্দ পৌঁছাতে পারলেই হত। সময় যথেষ্ট বদলে গেছে। বিশ্ব পরিস্থিতিতে আসছে নানা পরিবর্তন ও ঝঞ্জাল। এখন আর আগের মত ইচ্ছে হলেই ছুটে যাওয়া যায়না। ভিসা সহ নানা জটিলতা আছে। কিন্তু ভারতের সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের ভিজিট ভিসা পাওয়া গেলেও পাওয়া যায়না কোন স্টুডেন্ট ভিসা। আজ প্রয়োজন স্টুডেন্ট ভিসার।
সেই লক্ষ্যে  ও আলেমদের আয়োজনে “কওমি ছাত্র শিক্ষক পরিষদ” এর ব্যানারে আগামী সোমবার সকাল ১১ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে একটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হবে। যেখান থেকে আমরা সরকারের প্রতি আবেদন জানাব যে, আমরা দারুল উলুম দেওবন্দে পড়তে চাই, আমরা আমাদের ছেলেদেরকে দারুল উলুম দেওবন্দে পড়াতে যাই।”আপনারা এর একটা ব্যবস্থা করুন। আশা করি আপনারা সবাই এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে এ দাবীর পক্ষে জোরালো ভূমিকা রাখবেন।
 লেখক: মুফতি সাখাওয়াত হােসাইন
-বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও ইসলামী শিক্ষাবিদ