বেফাকের মেশকাত জামাতের প্রশ্নফাঁসের অপরাধে ধৃত ব্যক্তির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী

ফাতেহ ডেস্ক

বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের ৪২তম কেন্দ্রীয় পরীক্ষার মেশকাত জামাতের প্রশ্নপত্র ফাঁসের অপরাধে জড়িত ময়মনসিংহের মাহবুবুল আলম নিজের অপরাধের বর্ণনা ক্ষমাপ্রার্থনা এবং যাবতীয় ক্ষয়ক্ষতি বহন ও যেকোনো ধরণের শাস্তিগ্রহণের স্বীকারোক্তিমূলক লিখিত একটি জবানবন্দী আজ বেফাকের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বোর্ড কর্তৃপক্ষের কাছে পেশ করেছেন। ভিডিওক্লিপ শুনে ফাতেহ টোয়েন্টি ফোরের পাঠকদের জন্য তা হুবহু তুলে ধরা হলো।

আরও পড়ুন : ধরা পড়েছে বেফাকের মেশকাত জামাতের প্রশ্নফাঁসের মূল হোতা

‘বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের ৪২তম কেন্দ্রীয় পরীক্ষার মারকাজ রেজায়ে মওলা মহিলা মাদরাসা থেকে প্রশ্নফাঁসের বিবরণ।

আমি মাহবুবুল আলম (পিতা আবু বকর সিদ্দিক, ডাগিরকান্দা, তারাকান্দা, ময়মনসিংহ) এই মর্মে, স্বেচ্ছায় সজ্ঞানে কারও প্ররোচনা ব্যতীত স্বীকার করছি যে, আমি বেফাকের ৪২তম কেন্দ্রীয় পরীক্ষার প্রশ্নপত্র রেজায়ে মওলা মহিলা মাদরাসা মারকাজের জন্য ময়মনসিংহ জোন জামেয়া ইসলামিয়া থেকে ৭/৪/১৯ রবিবার দুপুর একটায় প্রশ্নপত্রসহ পরীক্ষার যাবতীয় কাগজপত্র নিয়ে মারকাজে না গিয়ে বিকাল তিনটায় নিজ মাদরাসায় যাই (আমার মাদরাসার নাম হালিমা সাদিয়া মহিলা মাদরাসা)। যাওয়ার পর প্রশ্নপত্র অফিসে রাখি। রাখার পর ছোট মেয়েদের দিয়ে যে সমস্ত আপা আমার সঙ্গে নেগরানিতে যাবেন তাদের কাছে পাঠিয়ে দিই। ভেতরের মহিলা নেগরান আপাদের মধ্য থেকে সাহারা আপা ওইদিনই কিছু মেয়েদের নিয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস করেন। নিখুঁত প্রশ্নপত্রের প্যাকেট কেটে প্রশ্নপত্রের ছবি মোবাইলে তুলে রাখেন।

উল্লেখ্য, আমার মাদরাসার নেগরান হিসেবে যে আপারা এসেছিলেন তারা আত-তালিম মহিলা মাদরাসার শিক্ষিকা। আত-তালিম মহিলা মাদরাসা ময়মনসিংহ সদর থানার জয়বাংলা বাজারে অবস্থিত। তারা মাওলানা গোলাম কিবরিয়া পলাশ এবং অ্যাডভোকেট মাওলানা জসিমুদ্দীনের প্ররোচনায় মোবাইল থেকে প্রশ্ন ফাঁস করে। মাওলানা গোলাম কিবরিয়া পলাশ জাতীয় দীনি শিক্ষাবোর্ডের ময়মনসিংহ অঞ্চলের সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি প্রশ্নফাঁসের কাজে জড়িত। এবং অ্যাডভোকেট মাওলানা জসিমুদ্দীন জাতীয় দীনি শিক্ষাবোর্ডের ময়মনসিংহ অঞ্চলের সাধারণ সম্পাদক। তিনিও প্রশ্নফাঁসের কাজে জড়িত।

বেফাক কর্তৃপক্ষের সামনে লিখিত জবানবন্দী পাঠ করছেন মাহবুব 

এ ছাড়া আমার মোবাইল থেকে জামেয়া মাহমুদিয়া সদর ময়মনসিংহের মাষ্টার কালিমুদ্দিন সাহেবের ছেলে মাহফুজ কারও কাছ থেকে শুনে যে আমার মোবাইলে প্রশ্ন আছে। সে কীভাবে জানল তা আমি জানি না। সে প্রশ্ন নেওয়ার জন্য বারবার আমাকে পীড়াপীড়ি করল। আমি নিরুপায় হয়ে তাকে প্রশ্ন দিলাম। এ ছাড়া জামিয়াতুস সুন্নাহ মুজাহিরুল উলুম শিকারিকান্দার মুহতামিমের ছেলে মাহদি ৭/৪/১৯ মাগরিবের নামাজের পরে তার বোনকে নিয়ে আমাদের মাদরাসায় আসে। তার বোন আমাদের মাদরাসা মারকাজের মেশকাতের পরীক্ষার্থী। আমি মাহদিকে বললাম, তুমি তাকে ভেতরে হলরুম দেখার জন্য পাঠিয়ে দাও। আর তুমি বসো। আমি বাথরুম থেকে আসি।

এদিকে আমার টেবিলে আমার মোবাইল রেখে আমি বাথরুমে যাই, এই সুযোগে সে আমার মোবাইলে প্রশ্ন দেখে ফেলে।

আমি বাথরুম থেকে আসার পর বলতেছে, ভাই, কিছু একটা করেন না! আমি বললাম কী করার আছে? তখন সে বলল, আপনার মোবাইলে প্রশ্ন আছে। পাশাপাশি এ কথাও সে বলেছে যে, দাওরায়ে হাদিসের প্রশ্নের জন্য কোনো নেগরানে আলা খুঁজে পাচ্ছি না। একজন পাইসিলাম, সবাই মিলে এক লক্ষ টাকা দিতে চাইলেও তিনি রাজি হননি। এখন আপনি যদি না দেন, তাহলে সবাইকে বলে দেবো।

তার এ কথা শুনে আমার মাথার উপর আসমান ভেঙে পড়ল। অনেক পীড়াপীড়ির আমি তাকে প্রশ্ন দিতে বাধ্য হলাম। সে আমার মোবাইল থেকে শেয়ারএট দিয়ে প্রশ্ন নিয়ে নেয়।

এভাবে আমার মাধ্যমে প্রশ্ন ফাঁস হয়। কিন্তু আমি ভাবিনি যে, আমার দ্বারা জাতির এত বড় ক্ষতি হবে। আমি এ জন্য অনুতপ্ত ও দুঃখিত এবং কওমি বোর্ডের সকল ছাত্রছাত্রীর কাছে লজ্জিত। পাশাপাশি জাতির মুরব্বি উলামায়ে কেরাম, বিশেষ করে বেফাকের মুরব্বি হজরতদের নিকট নিঃশর্ত ক্ষমাপ্রার্থী।

‘আমি মুরব্বিদের নিকট ওয়াদা করিতেছি যে, জীবনে আর কখনো এরূপ খেয়ানতের সাথে জড়িত হবো না ইনশাআল্লাহ। সকলের নিকট আমার ভবিষ্যত-জীবনের মঙ্গল কামনা করি।

‘আমার কৃত অপরাধের কারণে ক্ষতিপূরণসহ যাবতীয় ক্ষয়ক্ষতি এবং যেকোনো শাস্তি গ্রহণ করিতে আমি বাধ্য থাকিব।’