ভারতে ছাত্রদেরকে আল্লামা ইকবালের গান গাওয়ানোর কারণে স্কুলপ্রধান বরখাস্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের উত্তরপ্রদেশের একটি সরকারি স্কুলে শিক্ষার্থীদেরকে উপমহাদেশের বিখ্যাত কবি ও দার্শনিক আল্লামা ইকবালের গান গাওয়ানোর অভিযোগে স্কুলটির প্রধান শিক্ষককে বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্ত ওই প্রধান শিক্ষকের নাম ফুরকান আলি। স্কুলটিতে সকালের সমবেত সংগীত হিসেবে আল্লামা ইকবালের একটি গান গাওয়া হতো। বুধবার বিজনেস রেকর্ডার, বিওএল নিউজ, দ্য নিউজ ইন্টারন্যাশনালসহ একাধিক সংবাদমাধ্যম এ খবর জানায়।

এ ঘটনায় স্কুলটির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে বিশ্ব হিন্দুসভা পরিষদ (ভিএইচপি), হিন্দু যুব বাহিনী, ও বজরং দলের স্থানীয় নেতারা। এরপর স্কুলটির প্রধান শিক্ষককে বরখাস্ত করা হয়।

জানা যায়, স্কুলটিতে সকালে সমবেতভাবে আল্লামা ইকবালের অন্যতম গান ‘লাব পে আতি হে দুয়া বান কে তামান্না মেরি’ গাইত শিক্ষার্থীরা। ১৯০২ সালে গানটি লিখেন পাকিস্তানের স্বপ্নদ্রষ্টা খ্যাত এই কবি। ‘সারে জাহা সে আচ্ছা, হিন্দুস্তান হামারা’ লাইনের কারণে গানটি উপমহাদেশ জুড়ে প্রখ্যাত।

ক্ষমতাসীন বিজেপি সমর্থনপুষ্ট উগ্রবাদী হিন্দু সংগঠনগুলোর অভিযোগের ভিত্তিতে এ ঘটনার তদন্ত করেন স্থানীয় সরকারি শিক্ষা কর্মকর্তা উপেন্দ্র কুমার। তার দেয়া প্রতিবেদনে দেখা যায়, প্রতিদিন সকালের অ্যাসেম্বলিতে শিক্ষার্থীরা কবি ইকবালের গানটি গেয়ে থাকে।

পিলিভিত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বৈভব শ্রীবাস্তব বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের জাতীয় সংগীত না গাওয়ানোর অভিযোগে স্কুলটির প্রধান শিক্ষককে বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি অন্য গান যুক্ত করলে এর জন্য তাকে অনুমতি নিতে হবে। তিনি সেটা করেননি।’

তবে পিলিভিতের বেসিক শিক্ষা অধিকারী (বিএসএ)-এর দেবেন্দ্র স্বরূপ বলেন, ‘জাতীয় সংগীত গাওয়া হয় কি হয় না এ নিয়ে বিশ্ব হিন্দুসভা পরিষদ ও বজরং দলের অভিযোগ ছিল না, তারা আপত্তি জানিয়েছিল আল্লামা ইকবালের ওই কবিতাটি নিয়ে।’

এদিকে অভিযুক্ত স্কুলপ্রধান ফুরকান আলী (৪৫) তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা নিয়মিত জাতীয় সংগীত গায়। এর পাশাপাশি প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণির সিলেবাসভুক্ত ইকবালের কবিতাটি গাওয়ানো হতো।’

তিনি বলেন, ‘হিন্দু সংগঠনগুলো স্কুল থেকে আমাকে সরানোর জন্য স্কুলের বাইরে বিক্ষোভ করে। অথচ কবিতাটি সরকারি স্কুলের সিলেবাসেরই অংশ। এমনকি আমার শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ‘ভারত মাতা কি জয়’ এই স্লোগানও দেয়।’

বিশ্ব হিন্দুসভার জেলা প্রধান আম্বারিশ মিশ্র জানান, একটি মাদরাসা সংগীত কেন সরকারি স্কুলে গাওয়ানো হবে এ ব্যাপারে তারা লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলেন।