মাদরাসার কেন্দ্রীয় পরীক্ষা হবে কবে?

রাকিবুল হাসান:

হাইয়াতুল উলইয়া ও বেফাকের পরীক্ষা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না৷ পূর্ব নির্ধারিত সময়ের প্রায় চারমাস মাস হতে চললেও এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না মাদরাসা কর্তৃপক্ষ৷ তবে পরীক্ষা আয়োজনের জন্য মুরুব্বিগণ কাজ করছে বলে জানিয়েছে বোর্ড দুটির সূত্র৷

পূর্ব নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী গত ২৮ মার্চ বেফাক পরীক্ষা এবং ৬ এপ্রিল হাইয়াতুল উলইয়ার পরীক্ষা (তাকমিল) শুরুর কথা ছিল৷ করোনার প্রাদুর্ভাব শুরুর পর ২৪ মার্চ তা স্থগিত করা হয়৷ এরপর দিন যত গড়িয়েছে মহামারির প্রকোপও তত বেড়েছে৷ সাধারণ ছুটির পর অফিস-ব্যবসা-যানবাহনসহ সব খুললেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটি বাড়ানো হয়েছে ছয় আগস্ট পর্যন্ত৷ এখন পরীক্ষা কবে অনুষ্ঠিত হবে তা নিয়ে ধোঁয়াশায় রয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা৷

বেফাকের পরীক্ষা কবে হতে পারে—জানতে চাইলে বোর্ডের মহাপরিচালক মাওলানা যুবায়ের আহমদ চৌধুরী বলেন, ‘এখনো কিছু বলা যাচ্ছে না। সবকিছুই নির্ভর করছে মাদরাসা খোলার ওপর। যখন মাদরাসা খুলবে, তখনই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

হাইয়াতুল উলইয়ার পরীক্ষা প্রসঙ্গে একই কথা বলেছেন হাইয়াতুল উলয়ার স্থায়ী কমিটির সদস্য মাওলানা মাহফুজুল হক। ফাতেহ টুয়েন্টি ফোরকে তিনি বলেন, ‘মাদরাসাগুলো খুললেই হাইয়াতুল উলইয়ার পরীক্ষার কথা চিন্তা করা যাবে। এর আগে কিছু বলা যাচ্ছে না। মাদরাসা খুললে জরুরী মিটিং ডেকে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে কখন কিভাবে পরীক্ষা নেয়া হবে।’

মাদরাসা খোলার কাজটি কতদূর এগুলো? মাওলানা মাহফুজুল হক বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি যতদ্রুত সম্ভব মাদরাসা খোলার অনুমতি আনতে। সিদ্ধান্ত তো আর আমরা দিতে পারবো না। সরকারের সঙ্গে কমিটি কথা বলছে।’

গত ১১ তারিখ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের লেখক ও অধ্যাপক ড. মুশতাক আহমেদ ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছিলেন, ‘মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয়ের সাথে কথা হল। তিনি খুব শীঘ্রই কওমি মাদ্রাসার কিতাবখানা খোলা, অবশিষ্ট পরীক্ষা গ্রহণ ও কওমি মাদ্রাসার মৌসুমি কালেকশন বিষয়ক অতি গুরুত্বপূর্ণ সময় কুরবানি উপলক্ষে বড় ছাত্রদের মাদ্রাসায় উপস্থিতির আবশ্যকতা চিন্তা করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলে আরেকটি প্রজ্ঞাপন জারী করানোর মর্মে আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন।’

এই আশ্বাস পাবার কুরবানির আগে কওমি মাদ্রাসা কিভাবে খোলা যায় এবং এ বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায়, তা নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করতে একটি সাবকমিটি গঠন করেছে হাইয়াতুল উলইয়া। ৮ সদস্য বিশিষ্ট এই কমিটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সাথে যোগাযোগ করে কুরবানির আগে কওমি মাদ্রাসাগুলো খুলে দেয়াসহ আরো কিছু বিষয়ে খুব শীগ্রই সিদ্ধান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

কমিটিতে আহবায়ক হিসেবে আছেন হাইআতুল উলয়ার স্থায়ী কমিটির সদস্য মাওলানা মাহফুজুল হক। বেফাক থেকে আছেন মাওলানা নুরুল আমীন, মাওলানা বাহাউদ্দিন জাকারিয়া। চট্টগ্রামের ইত্তেহাদ বোর্ড থেকে আছেন মাওলানা আবদুল হালিম বোখারী, গহরডাঙ্গা মাদরাসার মাওলানা রুহুল আমীন তানযিম বোর্ড থেকে আছেন মাওলানা মাহমুদু্ল আলম। জাতীয় দীনি বোর্ড থেকে আছেন মুফতী মোহাম্মদ আলী। সিলেট আজাদ দীনি এদারা থেকে আছেন মাওলানা আবদুল বসির।

হাইয়াতুল উলইয়ার অফিস বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা অছিউর রহমান বলেন, ‘মাদরাসা খুলে দেয়ার জন্য সরকারের সঙ্গে হাইয়াতুল উলইয়ার পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হচ্ছে। সাব-কমিটির আলোচনার পর মাদরাসা খোলার ঘোষণা এলে তাৎক্ষণিক বৈঠক করে স্থায়ী কমিটি পরীক্ষার তারিখ ও অন্যান্য বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবে।’