মুফতী দেলোয়ার সাহেবের সঙ্গে আজ কী ঘটেছিল

ফাতেহ ডেস্ক

আজ শুক্রবার সকাল থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেশের বরেণ্য আলেম ও ফকিহ, রাজধানীর মসজিদুল আকবর কমপ্লেক্সের খতিব মুফতী দেলোয়ার সাহেবকে কেন্দ্র করে একটি উৎকণ্ঠা ও উত্তেজনা ছড়িয়ে ছিল। ইসলামি ধারার একজন বরেণ্য আলেম লেখকের স্ট্যাটাসের সূত্র ধরে এ উত্তেজনা ছড়ায়। তাঁর স্ট্যাটাস থেকে জানা যায়, মুফতী দেলোয়ার সাহেবকে পুলিশের ঘেরাওয়ে মিরপুরের স্থানীয় এমপি আসলাম সাহেবের বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে কী কারণে এবং কেন তাঁকে নিয়ে যাওয়া হলো, এ ব্যাপারে কিছু জানাননি তিনি। ফলে ইসলামি ঘরানার লোকজনের মধ্যে একটি উৎকণ্ঠা ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিত বিদেশ সফরে থাকা দুজন বরেণ্য ওয়ায়েজও ফেসবুক লাইভে এসে মুফতী দেলোয়ার সাহেব সম্পর্কে নিজেদের উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ব্যক্ত করেন। মুরব্বিদের নির্দেশ পেলে প্রয়োজনে এ জন্য আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারিও দেন গণ্যমান্য অনেক তরুণ আলেম।

ফাতেহ টোয়েন্টি ফোর থেকে এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মসজিদুল আকবর কমপ্লেক্সের কমিটির একটি বিরোধের মীমাংসার জন্য স্থানীয় এমপি আসলাম সাহেবের বাসায় মুফতী দেলোয়ার সাহেবসহ কমিটির সদস্যদের নিয়ে বসেছিলেন এমপি সাহেব। ঘটনার প্রয়োজনে পুলিশও সেখানে উপস্থিত ছিল। হুজুরের সঙ্গে কোনো ধরনের অসৌজন্যমূলক আচরণ সেখানে করা হয়নি বলে ফাতেহকে জানিয়েছে বিশ্বস্ত একাধিক সূত্র।

সূত্রগুলো জানায়, মসজিদুল আকবার কমপ্লেক্স কমিটির পূর্ববিরোধকে কেন্দ্র করে হুজুরকে অপমান-অপদস্থ করার জন্য মাদরাসার গেইটের পাশের বাড়িওয়ালা লালমিয়া হুজুরের নামে নানা মিথ্যা অপবাদ রটিয়ে একটি লিফলেট বিতরণ করে। আশেপাশের দেয়ালেও সেঁটে দেওয়া হয় লিফলেটগুলো।

হুজুর এ খবর জানতে পেরে আজ জুমা পড়াতে প্রথমে মসজিদে আসেননি। এই সংবাদে এলাকার ধর্মপ্রাণ ও সাধারণ মুসল্লি সমাজ উত্তেজিত হয়ে জুমার আগে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে লালমিয়াকে গ্রেপ্তার করার জন্য শাহআলী থানা ঘেরাও করলে কর্তব্যরত পুলিশ লালমিয়াকে গ্রেপ্তার করে। মুসল্লিরা এতে শান্ত হয়ে হুজুরের বাসায় গিয়ে হুজুরকে কোনোমতে রাজি করিয়ে জুমার ইমামতির জন্য মসজিদে নিয়ে আসেন।

এই ঘটনা স্থানীয় এমপি সাহেবের কানে গেলে সমাধানের জন্য তিনি হুজুরসহ কমিটির সদস্যদের নিয়ে তাঁর বাসায় বসেন। মিটিংয়ে লালমিয়াকে হুজুরের কাছে ক্ষমাপ্রার্থনাপূর্বক আবারও পুলিশি হাজতে প্রেরণ করতে চাইলে হুজুর বিনয়পূর্বক বলেন, উনি যেহেতু মাফ চেয়েছেন সুতরাং উনাকে আর জেলহাজতে পাঠানোর দরকার নেই।

সূত্রগুলো জানায়, এরপর উক্ত মিটিংয়ে কমপ্লেক্স কমিটির প্রভাবশালী কয়েক অসৎ সদস্য হুজুরকে মসজিদ কিংবা মাদরাসার যেকোনো একটি ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করলে হুজুর অনড় থাকেন। তাঁর ব্যক্তিত্বের কারণে কোনোধরনের অসম্মানজনক আচরণের সুযোগ তাঁরা পায়নি। মিটিং শেষ হলে সুস্থ ও নিরাপদে তিনি আকবর কমপ্লেক্সে ফিরে আসেন এবং রমজানের নিয়মিত তাফসির ও ইসলামি প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন।