রোহিঙ্গাদের এখনই ভাসানচরে নেয়া যাচ্ছে না

ফাতেহ ডেস্ক:

রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে নেয়ার জন্য জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থাগুলোর দেয়া ৫২টি শর্ত মানা হলেও এখনই সম্পন্ন হচ্ছে না স্থানান্তর। যদিও এ মাসেই তা হওয়ার কথা ছিলো।

ভাসানচরে এরই মধ্যে ৭ হাজার একর জায়গায় এক লাখ রোহিঙ্গার জন্য আধুনিক আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও বৈশাখী টেলিভিশনকে জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

১৯৭৮ সাল থেকে ২০১৭ সালের আগষ্ট মাস পর্যন্ত মিয়ানমারের রাখাইন থেকে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশের কক্সবাজারে আশ্রয় নিয়েছে ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী আশ্রয়কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে কক্সবাজার।

তবে ২০১৭ সাল থেকে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে জোর কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে সরকার। বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশগুলোর সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। কিন্তু সেটা যে খুব একটা কাজে দিচ্ছেনা, তা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যেই স্পষ্ট।

রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের ভাসানচরে রাখতে ২০১৭ সাল থেকে প্রস্তুতি শুরু করে সরকার। এ বছরের নভেম্বরে এক লাখ রোহিঙ্গাকে সেখানে পাঠানোর কথা। এজন্য ভাসানচরে প্রায় সাত হাজার একর জায়গাজুড়ে নির্মিত হয়েছে আধুনিক আশ্রয় শিবির। যেখানে ১২০টি বাড়ি রয়েছে। আর একেকটি বাড়িতে থাকতে পারবেন প্রায় ১ হাজার ২০০ জন। পাঠানো হয়েছে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীও।

কিন্তু বসবাসের সকল পরিবেশ নিশ্চিত করা হলেও রোহিঙ্গাদের এখনই ভাসানচরে স্থানান্তর করা যাচ্ছে না। এ ব্যাপারে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার এবং আন্তর্জাতিক এনজিগুলোর সায় মেলেনি। যদিও স্থানান্তরের জন্য তাদের দেয়া ৫২টি শর্ত সরকার বাস্তবায়ন করেছে। কিন্তু ঐ দুই পক্ষের বাধায় রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তর পিছিয়ে যাচ্ছে বলে জানালেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী।

তিনি জানালেন, জটিলতা সত্বেও রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে পাঠাতে বহুমুখী তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার।

বিজ্ঞাপন