শোলাকিয়ায় ঈদের জামাতে ইমামতি করবেন মাওলানা হিফজুর রহমান

ফাতেহ ডেস্ক

দেশের ঐতিহ্যবাহী শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে ঈদুল আজহার জামাতে ইমামতি করবেন মাওলানা হিফজুর রহমান খান। সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এই মাঠে এটি ১৯২তম ঈদুল আজহার জামাত।

শোলাকিয়া ঈদগাহের নিয়মিত ইমাম ইসলাহুল মুসলিহীন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ হজে যাওয়ায় বিকল্প ইমাম হিসেবে মাওলানা হিফজুর রহমান খান এবার জামাতে ইমামতি করবেন।

শোলাকিয়া ঈদগাহের প্রস্তুতি ও সার্বিক অবস্থা সারেজমিন পরিদর্শন করেছেন শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠ পরিচালনা কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী, পুলিশ সুপার মো. মাশরুকুর রহমান খালেদ বিপিএম (বার), কিশোরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মাহমুদ পারভেজ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আব্দুল্লাহ আল মাসউদ, পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি পাওয়া কিশোগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. নাজমুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মো. মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) অনির্বান চৌধুরী, শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠ পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আব্দুল কাদির মিয়া, কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মো. আবুবকর সিদ্দিকসহ জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

ঈদগাহ ময়দান পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানান, সুষ্ঠুভাবে ঈদজামাত আদায়ের লক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত বিজিবি, র‌্যাব ও পুলিশ ফোর্সকে আইনগত দিকনির্দেশনা দেয়াসহ ম্যাজিস্ট্রেরিয়াল দায়িত্ব পালনের জন্য ঈদগাহ মাঠের বিভিন্ন পয়েন্ট ও এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

সর্বাত্মক প্রস্তুতি বিবেচনায় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের অংশগ্রহণে এবারো উৎসবমুখর পরিবেশে সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে ঈদজামাত অনুষ্ঠানের ব্যাপারে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন জেলা প্রশাসক।

জেলা প্রশাসক আরো জানান, ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ময়দানের ঈদ জামাতে দূর-দূরান্তের মুসল্লিদের অংশগ্রহণের সুবিধার্থে প্রতিবারের ন্যায় এবারও ঈদের দিন বাংলাদেশ রেলওয়ে ২টি বিশেষ ট্রেন পরিচালনা করবে।

সোমবার ঈদুল আজহার দিন ‘শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল’ নামের ২টি বিশেষ ট্রেনের একটি ভৈরব বাজার থেকে এবং অপরটি ময়মনসিংহ থেকে কিশোরগঞ্জের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসবে।

পুলিশ সুপার মো. মাশরুকুর রহমান খালেদ বিপিএম (বার) জানান, শান্তিপূর্ণভাবে ঈদজামাত অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে মাঠের বাইরে, মাঠের ভেতরে ও প্রবেশ পথে চার স্তরের নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৮২৮ সালে কিশোরগঞ্জ শহরের উপকন্ঠে নরসুন্দা নদীর তীরে প্রায় ৭ একর জমির উপর এ মাঠের গোড়াপত্তন হয়। সে ঈদের জামাতে মুসল্লির সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ১ লাখ ২৫ হাজার অর্থাৎ সোয়া লাখ।

এই সোয়া লাখ থেকেই উচ্চারণ বিবর্তনে এ ঈদগাহ ময়দানটি পরবর্তীতে ‘শোলাকিয়া’ হিসাবে পরিচিত হয়ে ওঠে।