সরকারি ফান্ডে জাকাত আহ্বান: মুফতিগণ কী ভাবছেন?

রাকিবুল হাসান:

‘সরকারি জাকাত ফান্ডে’ জাকাত প্রদানের আহ্বান জানিয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ। গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আনিস মাহমুদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ আহ্বান জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘এ বছর, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে সরকারি জাকাত ফান্ডের অর্থ বর্তমান সঙ্কটকালীন পরিস্থিতিতে যারা কর্মহীন হয়ে অসহায়, মানবেতর জীবন-যাপন করছেন তাদের কল্যাণে ব্যয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জাকাত প্রদানে সক্ষম যে কেউ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগের সঙ্গে শামিল হতে পারেন।’

এমন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর অনেকেই প্রশ্ন করছেন সরকারি জাকাত ফান্ডে যাকাতের টাকা জমা দিলে জাকাত আদায় হবে কিনা। কারণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের ধর্মীয় বিষয়ের ব্যবস্থাপনা সবসময় সুষ্ঠু হয় না। অনেক ফাঁক-ফোঁকড় রয়ে যায়। কিংবা সরকারি জাকাত ফান্ডে জাকাত দিলে কিভাবে দিতে হবে?

বিষয়গুলো নিয়ে ফাতেহ টুয়েন্টি ফোরের পক্ষ থেকে আলাপ করা হয় জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল ফরিদাবাদ মাদরাসার মুফতি ও মুহাদ্দিস মাওলানা ইমাদুদ্দিন সাহেবের সাহেবের সঙ্গে। সরকারি ফান্ডে জাকাত দেয়া যাবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘শরিয়তসম্মত পন্থায়, বিজ্ঞ আলেমদের পরামর্শে, সঠিক খাতে জাকাত বিলিয়ে দেয়ার জন্য সরকারের যদি সুব্যবস্থাপনা থাকে, তাহলে অবশ্যই সরকারি ফান্ডে জাকাত দেয়া যাবে। যেমন মাদরাসায় জাকাত দেয়া যায়। মাদরাসা যেমন একটি প্রতিষ্ঠান, সরকারও তেমন একটি প্রতিষ্ঠান। সুতরাং সরকার যদি সব ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠুভাবে করতে পারে, তাহলে সরকারি ফান্ডে জাকাত দেয়া যাবে।’

দারুল উলুম মাদানীনগর মাদরাসার মুফতি ও মুহাদ্দিস মাওলানা বশিরুল্লাহ সাহেব ফাতেহ টুয়েন্টি ফোরকে বলেন, ‘সরকারি ফান্ডে জাকাত দেয়া যাবে। এতে জাকাতও আদায় হবে।’

ইফার বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রতি বছর সরকারি ফান্ডে জাকাতের টাকা অসহায় দুস্থদের আত্মকর্মসংস্থান, শিশু হাসপাতালে চিকিৎসা কার্যক্রম, শিক্ষাবৃত্তি প্রদান, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থদের সহায়তা, বৃক্ষরোপন কার্যক্রম, প্রতিবন্ধীদের পুনর্বাসন, দুস্থ মহিলাদের সেলাই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা হয়। এবার ব্যয় করা হবে বর্তমান সঙ্কটকালীন পরিস্থিতিতে যারা কর্মহীন হয়ে অসহায়, মানবেতর জীবন-যাপন করছেন তাদের কল্যাণে।

ঢালাওভাবে দুস্থ এবং কল্যান তহবিলে সরকারি জাকাত ফান্ডের অর্থ ব্যয় করা যাবে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে মুফতি ইমাদুদ্দিন সাহেব বলেন, ‘জাকাত দেয়া যেমন ফরজ, তেমনি সাধ্যমতো সঠিক খাত খুঁজে জাকাত দেয়াও আরেকটি ফরজ। ঢালাওভাবে জাকাত দিলে জাকাত আদায় হবে না। বরং জাকাত দেয়ার আগে তদন্ত করে দেখতে হবে—যাকে জাকাত দেয়া হচ্ছে, সে জাকাত নেবার উপযুক্ত কিনা। সরকার যদি জাকাতের ফান্ড কালেক্ট করেন, তাহলে জাকাত দেবার আগে সঠিক খাতে জাকাত দিচ্ছেন কিনা, তা তদন্ত করে দেখতে হবে।’

জনগণের করণীয় সম্পর্কে মুফতি ইমাদুদ্দিন বলেন, ‘সাধারণত আমরা সরকারি ফান্ডে জাকাত না দিতেই বলি। তবে সরকার যদি সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা করে সঠিক খাতে জাকাতের অর্থ পৌঁছে দিতে পারেন, তাহলে সরকারি ফান্ডে জাকাত দেয়া যাবে। কিন্তু সরকারি প্রতিষ্ঠানে এমন সুব্যবস্থাপনা সাধারণত থাকে না। ভুল খাতেও জাকাতের অর্থ ব্যয় করা হয়। তাই এখন কেউ যদি মনে করে, কারও যদি আস্থা হয় সরকারি ফান্ড সঠিক খাতেই জাকাতের অর্থ ব্যয় করবে, তাহলে সে তার জাকাত সরকারি ফান্ডে দিতে পারে। আর যার আস্থা হবে না, সে দিবে না।’

উল্লেখ্য, ইফার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সরকারি জাকাত ফান্ডে প্রাপ্ত অর্থ সবসময় যথাযথভাবে ইসলামি শরিয়াহ মোতাবেক ব্যয় করা হয়।

বিজ্ঞাপন