
ফাতেহ ডেস্ক:
একের পর এক অঙ্গরাজ্যে যখন বাইডেন বিজয়ী হচ্ছেন তখন ট্রাম্প বারবার বলে যাচ্ছেন নির্বাচনে কারচুপির কথা। একসময় (১৩ নভেম্বর) সব রাজ্যের ফলাফল বেরিয়ে আসলো। দেখা গেলো, ডেমোক্র্যাট প্রার্থী বাইডেন পেয়েছেন ৩০৬ ইলেকটোরাল ভোট, অন্যদিকে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প পেয়েছেন ২৩২। এমন ফলাফলের পরপরই আগের অবস্থান থেকে সরে আসলেন ট্রাম্প।
গতকাল শুক্রবার (১৩ নভেম্বর) করোনাভাইরাস নিয়ে হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে হাজির হন ট্রাম্প। অনুমিতভাবেই নির্বাচনের ফলাফল এবং পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হন তিনি। উত্তর দিতে গিয়ে পূর্বের মতো নির্বাচনে কারচুপি-অনিয়মের অভিযোগ তোলেননি। বলেছেন, ‘কে জানে কোন প্রশাসন আসবে, সময়ই সবকিছু বলে দেবে।’
বিশ্লেষকরা বলছেন, এটা ট্রাম্পের ফল মেনে নেওয়ার ইঙ্গিত। তাছাড়া নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে করা মামলাগুলো একে একে খারিজ হয়ে যাচ্ছে। এ নিয়ে গঠিত তদন্ত কমিটিও বলছে, নির্বাচনে কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এখানেই শেষ নয়, রিপাবলিকান নেতৃত্বের কেউ কেউ ইতোমধ্যে বাইডেনকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। সবমিলিয়ে কোনঠাসা হয়ে পড়া ট্রাম্প অবশেষে তার অবস্থান বদলালেন।
স্থানীয় সময় গতকাল শুক্রবার সকালে ঘোষণা করা হয় অ্যারিজোনার ফলাফল। তাতে বাইডেন জিতে গেলে ফলাফল আটকে ছিলো ২৯০ এবং ২১৭-এ। বাকি দুটি অঙ্গরাজ্যের (জর্জিয়া, নর্থ ক্যারোলিনা) ফলাফল ঘোষণা করা হলো স্থানীয় সময় শুক্রবার সন্ধ্যায়। এর মধ্যে জর্জিয়ায় জিতেছেন বাইডেন, ট্রাম্প নর্থ ক্যারোলিনায়। তাতে ভোটের ব্যবধান কিছুটা এদিক-ওদিক হওয়া ছাড়া ট্রাম্পের তেমন কোনো লাভ হয়নি।
এদিকে এসব বিতর্কে খুব বেশি মাথা না ঘামিয়ে সরকার গঠনের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন। শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য কয়েকদিন আগে গঠন করেছিলেন ট্রানজিশন টিম। এরপর গতকাল শুক্রবার ঘোষণা দিলেন, তার চিফ অব স্টাফ হচ্ছেন রন ক্লেইন। পদটি মূলত রাজনৈতিক, এই নিয়োগের ক্ষেত্রে সিনেটের অনুমোদন প্রয়োজন হয় না।
