
আন্তর্জতিক ডেস্ক:
আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ টেলিভিশন বার্তায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে যুদ্ধবিরতি চুক্তির ঘোষণা দেয়ার পরই রাজধানী বাকুতে শুরু হয় আনন্দ মিছিল। মঙ্গলবার রাতে আজারবাইজান ও তুরস্কের পতাকা হাতে মিছিল করে আজারবাইজানিরা। এই চুক্তি মূলত বিজয়ের দলিল বলে মনে করছে তারা। খবর আনাদোলু এসেন্সি।
ইলহাম আলিয়েভ টেলিভিশন বার্তায় জানান, নতুন চুক্তির মাধ্যমে বাকু ও ইয়েরেভানের মধ্যকার কারাবাখ বিরোধের অবসান হয়েছে। ইয়ারেভান স্বেচ্ছায় এই চুক্তি করেনি বরং বাকুর কঠিন মনোভাবের কারণেই আর্মেনিয় প্রধানমন্ত্রী নিকোল প্যাসিনিয়াস এই চুক্তি করতে বাধ্য হয়েছেন।
এর আগে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মঙ্গলবার প্রথম প্রহরে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার মধ্যকার চুক্তি স্বাক্ষরের ঘোষণা দিয়েছিলেন।
আলিয়েভ বলেন, ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে আজারবাইজান কারাবাখের ৩০০ এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। আগদাম জেলা ২০ নভেম্বর মধ্যে বাকুর নিকট হস্তান্তর করা হবে এবং কালবাজার ১৫ নভেম্বর ও লাচিনকে ১ ডিসেম্বরের মধ্যে হস্তান্তর করা হবে। রাশিয়া তার শান্তিরক্ষী বাহিনীর ১,৯৬০ সৈন্য এবং ৯০টি সাঁজোয়া যান নাগার্নো-কারাবাখ অঞ্চল এবং লাচিন করিডোরে মোতায়েন করবে।
এদিকে নাগার্নো-কারাবাখ নিয়ে রাশিয়ার মধ্যস্থতায় আর্মেনিয়া-আজারবাইজান চুক্তির ঘোষণা দেয়ার পরই বিক্ষুব্ধ জনতা আর্মেনিয়ার পার্লামেন্টে ঢুকে দেশটির স্পিকার আরারাত মির্জোয়ানকে চরম লাঞ্চিত করার পাশাপাশি গণপিটুনি দেয়। এসময় আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ানকে ক্ষমতা ছাড়ার দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠে রাজধানী ইয়ারেভান।
রুশ বার্তা সংস্থা তাস জানায়, বিক্ষোভকারীরা এসময় বক্তব্য দেয়ার মঞ্চ দখল করে এবং চিৎকার চেচামেচি শুরু করে। তারা পার্লামেন্ট সদস্যদেরকে বেশ কিছু বোতল ছুঁড়ে মারে। বেশ কিছু বিক্ষোভকারী পার্লামেন্ট ভবনের ভেতরে জড়ো হয়ে সংসদ সদস্যদের আসনে বসে ‘পদত্যাগ করুন!’ ও ‘বিদায় নেন!’ বলে চিৎকার করতে থাকে। বিক্ষুব্ধ জনতা পার্লামেন্ট ভবনের বেষ্টনি ভেঙে হামলা চালালে পুলিশ বিশৃঙ্খল জনতাকে থামাতে ব্যর্থ হয়। তারা গেট ও বিভিন্ন আসবাব ভেঙে ফেলে।
উল্লেখ্য, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মঙ্গলবার প্রথম প্রহরে আর্মেনিয়া-আজারবাইজানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তির ঘোষণা দেন।
নাগার্নো-কারাবাখ নিয়ে দুই সাবেক সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রের মধ্যে সম্পর্ক ১৯৯১ সাল থেকে উত্তেজনা বিরাজমান। তবে গত ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে এই দুই দেশের মধ্যে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। এরইমধ্যে আর্মেনিয়া বারবার আজারবাইজানের বেসামরিক লোক ও সেনাবাহিনীকে আক্রমণ করেছে, এমনকি তিনটি মানবিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে।
আজারবাইজানের প্রায় ২০ ভাগ অঞ্চল প্রায় তিন দশক ধরে অবৈধভাবে আর্মেনিয়ার দখলে রয়েছে।
