
ফাতেহ ডেস্ক :
আজ রোববার সকালে ফাতেহ টুয়েন্টি ফোর বাংলাদেশের বিভিন্ন দৈনিকের ওপর নির্ভর করে একটি নিউজ করে। শিরোনাম: প্রকল্পের কাজ শেষে সরকারকে সাড়ে ৪ কোটি টাকা ফেরত দিলো ঠিকাদার। নিউজটি নিয়ে প্রশ্ন উঠলে ‘বিডি ফ্যাক্ট চেক’-এ বিষয়টির সত্যতা যাচাই করতে একটি ইমেইল করা হয়। বিডি ফ্যাক্ট চেক তার পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছে। নিম্নে তা দেয়া হলো—
BD FactCheck-কে পিডাব্লিউডি (গণপূর্ত বিভাগ) চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহজাহান যা বলেছেন তা তুলে ধরা হলো–
ফোন করে ‘বায়েজি পার্ক প্রকল্পের বিষয়ে কথা জানতে চাই’ বলতে শাহজাহান (মোবাইল নম্বর 01811….30) অপর প্রান্ত থেকে হেসে উঠেন। এরপর তিনি বলেন, “ঠিকাদারের পক্ষ থেকে টাকা ফেরত দেয়ার তো কোনো সুযোগই নেই। বায়েজিদ পার্কে ১২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা প্রকল্পের আনুমানিক ব্যয় ছিলো। এটা চূড়ান্ত কিছু নয়। কখনো কোনো ঠিকাদারকে প্রকল্পের আনুমানিক ব্যয়ের পুরো টাকা দেয়া হয় না। এটার সুযোগই নেই। কারণ প্রথমে যে ব্যয় ধরা হয় তা আনুমানিক। কাজ শেষে খরচ কমবেশি হতে পারে। ফলে আনুমানিক ব্যয় যেটা ধরা হয় সেটি ঠিকাদারকে একসাথে দেয়া হবে কেন?”
শাহজাহান আরও বলেন, “আর তৈয়ব নামে আমাদের কোনো ঠিকাদার নেই। ওই প্রকল্পের ঠিকাদার হচ্ছেন অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা। তৈয়ব নামে কেউ তাদের সাথে ইনফরমালি কাজ করলে আমাদের জানা নেই।”
তিনি জানান, ২০১৭ তে শুরু হয়ে ২০১৮ এর ডিসেম্বরে প্রকল্পটির কাজ শেষ হয়। তখন মোট প্রকল্প ব্যয় নির্ধারিত হয়, এবং তখনই হিসাব করে দেখা যায় মোট ব্যয় ৮ কোটি টাকার কিছু বেশি হয়েছে।
নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহজাহান আরও জানান, আজকের মধ্যেই এ বিষয়টি স্পষ্ট করে বিবৃতি দেবে গণপূর্ত বিভাগ।
বায়েজিদ পার্ক প্রকল্প প্রকৌশলী পরেশ কর্মকারকে (মোবাইল নম্বর 01712….18) কল করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।
প্রকল্প ব্যবস্থাপক জনাব সৌরভকেও (01811….96) কল করা হলে তিনিও রিসিভ করেননি।
সর্বশেষ এ বিষয়ে BD FactCheck এর পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু তৈয়ব (মোবাইল নম্বর 01812….16 ) বলেন, ‘ভাই, আমাকে নিয়ে কেন এসব হচ্ছে আমি বুঝতে পারছি না। আমি তো ওই প্রকল্পের ঠিকাদারই না। সাব-কন্ট্রাক্টর হিসেবে কিছু কাজ করেছি। আমি কিভাবে পুরো প্রকল্পের টাকা ফেরত দেব?’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রকল্পের যে ব্যয় প্রথমে ধরা হয়েছিল সেটা ছাড় হয়ে (অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে) পিডাব্লিউডি (গণপূর্ত বিভাগ) এর কাছে এসেছিলো। কিন্তু কাজ শেষে পুরো টাকা না লাগায় সেটি ফেরত গেছে। কিন্তু ঠিকাদারের হাত থেকে তো ফেরত যাওয়ার সুযোগ নেই। কারণ এই টাকা তো ঠিকাদারের কাছেই আসে নাই।’
সংবাদমাধ্যমে এ সংক্রান্ত রিপোর্টে তো আপনার বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে। যেখানে আপনি টাকা ফেরত দিয়েছেন বলে জানিয়েছিলেন। আপনি কি তাহলে এখন ভিন্ন কথা বলছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে আবু তৈয়ব বলেন, ‘আমি বলিনি আমি ফেরত পাঠিয়েছি। বলেছি পিডাব্লিউডি থেকে টাকাটা ফেরত গেছে। ঠিকাদার বা আমি বেঁচে যাওয়া টাকা ফেরত পাঠিয়েছি এমন কথা আমি বলিনি।’
উভয়ের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, তৈয়ব ওই প্রকল্পের ঠিকাদারই নন (ঠিকাদার হলেন অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা)। অথচ মিডিয়ার খবরে এসেছে তৈয়বই এই প্রকল্পের ঠিকাদার (বাস্তবে তিনি উপ-ঠিকাদার, যার সাথে প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক নেই)।
দ্বিতীয়ত, ৪ কোটি টাকা ঠিকাদারের হাতেই আসেনি। ফলে সেই টাকা সরকারকে ফেরতে দেয়ার প্রশ্নই উঠছে না।
অর্থাৎ, তৈয়বকে নিয়ে প্রচারিত এসব তথ্য ভুয়া। এবং তিনি নিজেই এখন তা স্বীকার করছেন।
(গণপূর্তের বিবৃতি আমাদের হাতে এলে তা প্রকাশ করা হবে)।
