
মুফতী ফয়জুল্লাহ:
বর্ষীয়ান আলেমেদ্বীন ,আল জামিয়া ইসলামিয়া পটিয়ার সম্মানিত মুহতামিম, গভীর জীবন-দর্শন ও নিরলস শ্রমের এক অবিস্মরণীয় ও অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব, সর্বজন শ্রদ্ধেয় আলেমেদ্বীন, আল্লামা আব্দুল হালীম বোখারী সাহেব রহ. রফীকে আ’লার ডাকে সাড়া দিয়েছেন । ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
দ্বীন-মিল্লাতের অতন্দ্রপ্রহরী, মাখদুমুল উলামা আল্লামা বুখারী রহ. দীর্ঘ কর্মজীবনে নিজের মেধা, শ্রম, কর্মচিন্তা আর সৃষ্টিশীলতায় নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন । তাঁর দায়িত্ববোধ, গভীর জীবন দর্শন ও উম্মাহর প্রতি দায়বদ্ধতা অবিস্মরণীয়।
তিনি খতীবে আজম সিদ্দীক আহমদ রাহমাতুল্লাহি আলাইহির একান্ত সহচর। দ্বীন কায়েম তাঁর জীবনের লালিত স্বপ্ন ।
দেশের অন্যতম শীর্ষ আলেমেদ্বীন, আল্লামা বুখারী রহ.-এর সরাসরি ছাত্র নই আমি। তবে একান্তভাবে তাঁর সান্নিধ্যে যাওয়ার সুযোগ হয়েছে আমার বহুবার। ১৯ মে ২০২২, তাঁর সাথে আমার সর্বশেষ দেখা ঢাকায় একটি প্রোগ্রামে। চট্টগ্রাম গেলে পটিয়া আসার হুকুম দিয়েছিলেন। বিভিন্ন বিষয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা হয়েছিল।
দরদী আলেম ও মুরুব্বী আল্লামা বুখারী রহ.-এর সাথে ইতিপূর্বেও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ হয়েছে আমার। ৯০ এর দশকে। শায়খুল ইসলাম রহ. মুফতী আমিনী রহ. আল্লামা হারুন ইসলামাবাদী, আল্লামা সুলতান যওক নদভী, আল্লামা আবদুল মান্নান কাশিয়ানী, আল্লামা বুখারী এবং মুফতী ওয়াক্কাস রহ. প্রমুখ দেশশ্রেষ্ঠ উলামায়ে কেরামের সমন্বয়ে ‘সর্বোচ্চ উলামা পরিষদ’ গঠনের সময়। আল্লামা বুখারী রহ.-এর প্রস্তাবে এবং আল্লামা যওক সাহেব দা.বা.-এর সমর্থনে আমি অধমকে এই পরিষদের দফতর সচিবের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছিল। বলতে দ্বিধা নেই, আল্লামা বুখারী রহ.-এর বাংলা, আরবী , ইংরেজী ,উর্দু , ফার্সি সহ বহু ভাষায় সমান পারদর্শিতা দেখে আমি শুধু অনুপ্রাণিতই হইনি, বরং তাঁর অদ্ভুত প্রজ্ঞা দেখে আমার কর্মস্পৃহা অনেক গুণ বেড়ে গিয়েছিল। এ আমার পরম সৌভাগ্য।
গত রাতে যখন তাঁর সন্তান মাওলানা মনজুরুল হালিম বুখারীর সাথে কথা হচ্ছিল, তখনো মনে হয়েছিল আমার অত্যন্ত শ্রদ্ধাভাজন আল্লামা বুখারী রহ. আরও বহু দিন আমাদের মাঝে থাকবেন। ভেবেছি তাঁর ওয়াজ, দরস, লেখনি ও আলোচনা সমৃদ্ধ করবেন আমাদের। উম্মাহর এই দুঃসময়ে তিনি আমাদের ছেড়ে চলে যাবেন, চিন্তাতেও আসেনি। কিন্তু মহান রবের ফায়সালা সব কিছুর উর্ধ্বে।
অত্যন্ত নম্র, ভদ্র, বিনয়ী, চিন্তাশীল, প্রখর মেধাবী ও ইসলামী হিকমার অধিকারী আল্লামা বুখারী রহ. ইন্তেকালের খবরটি খুবই দুঃখ ও বেদনার। তাঁর মরহুম হয়ে যাওয়ার সংবাদে মনটা ভেঙ্গে খান খান হয়ে যাচ্ছে।
শায়খুল হাদিস, লেখক, খতিব, বহু মাদরাসার মুহতামিম, শিক্ষা বিশেষজ্ঞ, গবেষক ইত্যাদি বহু অভিধায় অভিহিত আল্লামা বুখারী রহ.-এর বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবন ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্তসমূহ গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি। স্বরণ করছি বহু ঈমানী আন্দোলনে তাঁর অবিস্মরণীয় ভূমিকার কথা।
ঈমানী সকল আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব, অসাধারণ দায়িত্ববোধ, গভীর জীবন দর্শন ও নিরলস শ্রমের এক অবিস্মরণীয় ও অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব আল্লামা বুখারী সাহেব রহ. বহু গুণে গুণান্বিত ছিলেন। আমি আমার জীবনে তাঁকে কোন দিন ভুলতে পারবো না। তাঁর যুক্তিনির্ভর, গাম্ভীর্যপুর্ণ উচ্চারণে প্রতিবার অনুপ্রাণিত হয়েছি, তাঁর আন্তরিকতাপূর্ণ দুআ লাভ করেছি। তাঁর পরম স্নেহ, মমতায় সিক্ত হয়েছি জীবনের বাঁকে বাঁকে। তিনি এদেশের এক পথনির্দেশক প্রাজ্ঞ আলেম। এ মুহূর্তে তাঁর জায়গাটিতে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা পূরণ হবার মতো নয়।
আমরা যা হারালাম তার সাথে কোন কিছুর তুলনা চলে না। আল্লাহভীরু, মুখলিস, বিচক্ষণ ইসলামী হিকমার অধিকারী এই আলেম মনীষীর ইন্তেকালে আমি গভীর ভাবে শোকাহত। আমি তাঁর মাগফিরাত কামনা করছি এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, ছাত্র এবং সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমাবেদনা জানাচ্ছি।
এই দরদী আলেম ও মুরুব্বীর জন্য আমরা মহান আল্লাহর শাহী দরবারে কায়মনোবাক্যে মুনাজাত করছি, আল্লাহ! আপনি আপনার এই প্রিয় মুখলিস, শীর্ষ আলেম বান্দাকে আপনার রহমতের চাদরে আবৃত করে চিরস্থায়ী জান্নাতের মেহমান করে নিন। আমীন ।
